ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে দুই গ্রামের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র, আহত ৫০

মুরাদনগর বার্তা ডেস্কঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকা। আগুনের লেলিহান শিখায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামে।

শনিবার রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকায় বাখরনগর ও গুঞ্জুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এতে জড়িত হয়ে ৩ ঘণ্টাব্যাপী এই তাণ্ডবে রণক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসময় বহু দোকানপাট, বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। ভাঙচুর করা হয় দুইটি পিকআপ, পুড়িয়ে দেওয়া হয় দুইটি মোটরসাইকেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ বাজারে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন এলাকায় বাখরনগর গ্রামের ইমন ও গুঞ্জুর গ্রামের এক ভাড়াটিয়া যুবকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই যুবক কাঠমিস্ত্রিদের কাজে ব্যবহৃত লোহার বাটাম দিয়ে ইমনের বাঁ পায়ে আঘাত করে। মুহূর্তেই ঘটনাটি দুই গ্রামের আধিপত্যের পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নেয়।

খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে মুরাদনগর থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইমন জানান, ব্যক্তিগত কাজে গুঞ্জুর গ্রামে গেলে পূর্ব শত্রুতার জেরে আব্দুল্লাহ ওই ভাড়াটিয়া যুবকের মাধ্যমে তাকে লোহার বাটাম দিয়ে আঘাত করায়। বিষয়টি জানাজানি হলে তার গ্রামের লোকজন গেলে আবারো তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে বাখরনগর গ্রামের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে।

অন্যদিকে গুঞ্জুর গ্রামের আব্দুল্লাহ দাবি করেন, ইমনের সাথে তাদের গ্রামের এক ভাড়াটিয়া নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। ওই নারীর স্বামীকে দেখে ইমন পালাতে গেলে তিনি ইমনকে আঘাত করেন। এর জেরে ইমন তাদের গ্রামে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলার ঘটনায় গুঞ্জুর গ্রামের প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে।

উভয় পক্ষের দাবিদাওয়ার মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাহিদুর রহমান জানান, বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষর কেহই অভিযোগ করেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে অর্ধগলিত অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

মুরাদনগরে দুই গ্রামের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র, আহত ৫০

আপডেট সময় ০৬:৩০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

মুরাদনগর বার্তা ডেস্কঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকা। আগুনের লেলিহান শিখায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামে।

শনিবার রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকায় বাখরনগর ও গুঞ্জুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এতে জড়িত হয়ে ৩ ঘণ্টাব্যাপী এই তাণ্ডবে রণক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসময় বহু দোকানপাট, বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। ভাঙচুর করা হয় দুইটি পিকআপ, পুড়িয়ে দেওয়া হয় দুইটি মোটরসাইকেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ বাজারে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন এলাকায় বাখরনগর গ্রামের ইমন ও গুঞ্জুর গ্রামের এক ভাড়াটিয়া যুবকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই যুবক কাঠমিস্ত্রিদের কাজে ব্যবহৃত লোহার বাটাম দিয়ে ইমনের বাঁ পায়ে আঘাত করে। মুহূর্তেই ঘটনাটি দুই গ্রামের আধিপত্যের পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নেয়।

খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে মুরাদনগর থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইমন জানান, ব্যক্তিগত কাজে গুঞ্জুর গ্রামে গেলে পূর্ব শত্রুতার জেরে আব্দুল্লাহ ওই ভাড়াটিয়া যুবকের মাধ্যমে তাকে লোহার বাটাম দিয়ে আঘাত করায়। বিষয়টি জানাজানি হলে তার গ্রামের লোকজন গেলে আবারো তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে বাখরনগর গ্রামের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে।

অন্যদিকে গুঞ্জুর গ্রামের আব্দুল্লাহ দাবি করেন, ইমনের সাথে তাদের গ্রামের এক ভাড়াটিয়া নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। ওই নারীর স্বামীকে দেখে ইমন পালাতে গেলে তিনি ইমনকে আঘাত করেন। এর জেরে ইমন তাদের গ্রামে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলার ঘটনায় গুঞ্জুর গ্রামের প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে।

উভয় পক্ষের দাবিদাওয়ার মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাহিদুর রহমান জানান, বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষর কেহই অভিযোগ করেনি।