বুধবার, ২৫ মে ২০২২ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
অ+
অ-

দেবিদ্বারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর বেহালদশা

pc comilla 30-10-15

শাহিন আলম, দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ

রোজ শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৫ ইং(মুরাদনগর বার্তা ডটকম)ঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলাধীন সদ্য জাতীয়করণ হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো, টয়লেট, টিউবওয়েল, স্কুলের পরিবেশ সমস্যাসহ নানা সমস্যায় বেহালদশা।  বর্তমান সরকার ২০১৩ সালে সারা দেশের ন্যায় দেবিদ্বার

উপজেলাধীন ৫৮টি বেসরকারী (রেজি:) প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে। জাতীয়করণ হওয়ার পর প্রায় অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২/৪জন শিক্ষক/শিক্ষিকা দিয়ে চলে পাঠদান।

উপজেলাধীন সদ্য জাতীয়করণ হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেবিদ্বার রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোট আলমপুর রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাষারপাড় রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক স্কুল গুলোর ভবন অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ, নেই টয়লেট, কোন বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল, কমলমতি শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ।

দেবিদ্বার দ: রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা দিল আফরোজ জানায়, স্কুলের অবকাঠামো ও পরিবেশ সমস্যায় ছাত্র/ছাত্রীরা দিন দিন ঝড়ে পড়ছে। বৃষ্টির মৌসুমে প্রতিটি শ্রেণী হাটুজলে ডুবে থাকে, স্কুলের পাশের বাড়িতে চলে ছাত্র/ছাত্রীদের পরীক্ষা ও পাঠদান।

কাশারী খোলা রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’র প্রধান শিক্ষিক নার্গিস আক্তার জানায়, আমার স্কুলে সীমানা প্রাচীর না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিহীনতায় ভোগছে। স্কুলটির পূর্ব পাশে রাস্তা হওয়ায় দ্রুত গতিতে সিএনজি, অটো রিক্সা ও ব্যাটারী চালিত রিক্সা চলাচল করে, ছুটির ঘন্টা পড়লে শিক্ষার্থীরা হৈ হুল্লোড় করে ছুটাছুটি করে যেকোন সময় র্দূঘটনা ঘটতে পারে।

ছোট আলমপুর রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম জানায়, এ স্কুলের ভবনটি দীর্ঘদিন যাবৎ অকেজো হয়ে পড়ে আছে, বর্তমানে বাঁশ দিয়ে বানানো টিনের ঘরে পাঠদান চলছে, সরকারি ভাবে নতুন ভবনের কাজ করার কথা থাকলে কবে নাগাদ শুরু হবে তা জানিনা। টিনের ঘরে গরমের তীব্র তাপদাহে শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে আসতে অনাগ্রহীতা প্রকাশ করে।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান মো: রুহুল আমীন জানান, আমিও সদ্য জাতীয়করণ হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের মধ্যে কিছু স্কুল পরির্দশন করেছি, ২/৩ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান যা কমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য অপ্রতুল, তাছাড়া অনেক স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ এখনো তৈরী হয়নি। অবকাঠামো সংকট, বিশুদ্ধ পানি, শিক্ষা উপকরণ, টয়লেটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যার কথা আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা করেছি, আশা করছি কর্তৃপক্ষ এ সমস্যা নিরসনে দ্রুত এগিয়ে আসবে।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম জানান, যে স্কুলগুলো জরাজীর্ণ এগুলোর তালিকা করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিপূর্ণ গুলো মধ্যে ৪০ টি স্কুললে ২বান ঢেউটিন ও ৬ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহ মোঃ ইকবাল মনসুর জানান, জাতীয়করণ বিদ্যালয় সমূহের মধ্যে যে সকল প্রধান শিক্ষক পদ গুলো শূণ্য রয়েছে সেগুলো পদোন্নতির মাধ্যমে খুব শিঘ্রই পূরণ করা হবে, সহকারি শিক্ষক শূণ্য পদ গুলোতে  সরকার নিয়োগ দিচ্ছে সেগুলোও দ্রুত পূরণ হবে, বর্তমানে শিক্ষক বদলি বন্ধ রয়েছে জানুয়ারী থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বদলী কার্যক্রম চালু থাকে তখন যেখানে শিক্ষক বেশি থাকে সেখান থেকে কোন শিক্ষক যদি স্ব-ইচ্ছায় বদলীর আবেদন করে করলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলীর নির্দেশ দিলে আমরা যেসব স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে সেগুলো পূরণ করা হবে।

print

আরো পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন