মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২ ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
অ+
অ-

বিদ্যুৎ গ্যাসের দাম বাড়লেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু:খালেদা

khaleda ziah (2)_61261
১৩ ডিসেম্বর (মুরাদনগর বার্তা ডটকম ডেস্ক):
নারায়নগঞ্জ থেকে মুক্তাদির হোসেন প্রান্তিক : বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে জেলা ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায়  প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, ক্ষমতার জোরে দফায় দফায় বিদ্যুৎ  ও গ্যাসের দাম বাড়ানো চলবে না।

বিদ্যুৎ গ্যাসের দাম বৃদ্ধিও চক্রান্ত প্রতিরোধ, গুম-খুন গুপ্তহত্যা বন্ধ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে এ জনসভা আয়োজন করা হয়।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

তিনি বলেন, অনির্বাচিত অবৈধ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। আর এর জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাহলেই দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ,মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আগেও বলেছি এখনো শেষবারের মতো বলছি অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে ভালোই ভালো ক্ষমতা থেকে সরে পড়ুন।

আওয়ামী লীগের অধীনে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না তা এইচ টি ইমামের বক্তব্যে ফাঁস হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

বেগম জিয়া বলেন, আগামী দিনে সরকার পতনের আন্দোলনে রাজপথে আমিও থাকবো , আপনারাও থাকবেন। বাড়ির সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করবেন না। সাহস থাকলে রাজপথে মোকাবেলা করুন। দেখা হবে রাজপথে। যত দিন না এই সরকারের পতন হবে ততদিন রাজপথে থাকবো।

আওয়ামী লীগ সবক্ষেত্রে দলীয়করণ করে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে উল্লেখ করে বলেন, সম্প্রতি মিথ্যা অভিযোগ এনে ভালো ভালো অফিসারদের চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে দিয়েছে। অথচ নারায়ণগঞ্জের খুনের সঙ্গে জড়িত র‌্যাবের জিয়াকে এখনো চাকরিচ্যুত করা হয়নি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আজ পরিবেশ নষ্ট করে দিচ্ছে। সুন্দরবনের ঘটনা পরিকল্পিত। এরা এখন মানুষ খেকো নয়, বরং বাংলাদেশ খেকো। এরা বাংলাদেশকে খেয়ে ফেলতে চায় এবং নাম নিশানা মুছে দিতে চায়।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বিচারকরা ১৫ টি মামলায় হাসিনাকে খালাস দিয়েছে। দেশের বিচার ব্যবস্থা কোন পর্যায়ে গেছে? বিচারকরা আওয়ামী লীগ দেখলেই খালাস দেয় আর বিএনপি জামায়াত হলেই বলেন, জেলে পুরো।

পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, জনগণের সেবক হউন হত্যকারী হবেন না। অন্যায়ভাবে জনগণের উপর গুলি চালাবেন না।

শেখ হাসিনা তরুণ সমাজকে টার্গেট করে বলেও অভিযোগ করেন এই নেতা।

জনসভায় উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, প্রস্তুত থাকেন। আমি যখন আন্দোলনের ডাক দিবো তখন রাজপথে নেমে আসবেন।

নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন নয়, ১১ জনকে খুন করা হয়েছে। আর এ সকল খুনের সঙ্গে জড়িত এই সরকার, সরকারি দলের লোকজন ও র‌্যাব। র‌্যাব ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছিলো। তারা মনে করেছিলো লাশ পাওয়া যাবে না। অথচ আল্লাহর রহমতে লাশ পানি থেকে ভেসে উঠে। কিন্তু সরকার এই খুনের বিচার এখনো করেনি। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা এখনো আড়ালে রয়েছে। প্রকৃত খুনিদের না ধরে লোক দেখাতে কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। আসল হোতা র‌্যাবের জিয়াকে ধরতে সাহস পায় না। তাকে জামাই আদরে রেখেছে। কারণ তাকে ধরলে গুম খুনের  আসল কাহিনী বেরিয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশব্যাপী গুম খুন নির্যাতন বেড়ে যায় অভিযোগ করে ২০ দলীয় জোট নেত্রী বলেন, বর্তমানে যারা একত্রে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে তারা সকলেই খুনি। এদের জন্য বড় দুর্দিন অপেক্ষা করছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে সামনের দিকে না নিয়ে পেছনের দিকে নিয়ে যায়। কাজেই এদের কাছ থেকে দেশের ভালো কিছু আশা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরশাদকে বিশ্ব বেহায়া ও শেখ হাসিনাকে স্বঘোষিত বেইমান উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, এদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। আওয়ামী লীগ দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে পুলিশ দিয়ে প্রতিনিয়ত গুম খুনের অপকর্ম করাচ্ছে।এভাবে বেশি দিন চললে জনগণ পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হবে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও  জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশব্যাপী যেভাবে বিচার বহির্ভূত হুম খুন হত্যা নির্যাতন চালাচ্ছেন তার জন্য হয়তো ভবিষ্যতে জবাবদিহি করতে হবে। বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। আপনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিলো। আপনি ক্ষমতায় এসে সেগুলো প্রত্যাহার করেছেন কেন? এই মামলায় তো আপনার সাজা হতো। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুন্ডামি বন্ধ করুন, তাদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেন। তাদের হাতে যদি অস্ত্র থাকে আর জনগণের হাতে অস্ত্র থাকলে তাহলে তো আর দোষ হওয়ার কথা নয়। কারণ অবৈধ অস্ত্র এক হয়ে যাবে।

বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা ও ফাঁসির ভয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি নয়। এরা সীমান্ত পারি দেয়া মুক্তিযোদ্ধার দল।

বিচারপতিদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই দুনিয়াই শেষ নয়। হাসিনাকে নয়, আল্লাহকে ভয় করেন। ভুলে যাবেন না। দুনিয়া কয়েক দিনের। অন্যায়ভাবে বিচার করলে একদিন আল্লাহর কাছে এর জবাবদিহি করতে হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, হাসিনাকে আমরা মারতে চাই না। মারার প্রয়োজন নেই। হাসিনা যত দিন বেশি বাঁচবে তত দিন জনগণের কাছে বেশি ধিক্কৃত হবে। আল্লাহর তরফ থেকে গজব নেমে আসবে।

এসময় তিনি মঞ্জুর হত্যার দায়ে এরশাদের বিচার না হওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত এক মহিলাকে গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সাজানো নাটক।

তিনি বলেন, হাসিনা ছাড়া তার পরিবারের কেউ দেশে থাকে না। বিয়েও করে বিদেশে। কাজেই দেশের প্রতি তাদের কোনো দায় নেই। আলেম ওলামা দেখলেই আওয়ামী লীগ বলে এরা জঙ্গী ও সন্ত্রাসী। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

বেগম জিয়া বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন আজ আবারো মুখ থুবড়ে পড়েছে। দুর্নীতি, লুণ্ঠন, অনিরাপত্তা, অস্থিতিশীলতা, সন্ত্রাস, আইনের শাসনের ও ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতিতে মানুষ আজ উৎকণ্ঠিত, অস্থির ও জর্জরিত। জনগণের ভোটাধিকার লুণ্ঠিত।

২০ দলীয় জোটের প্রধান বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্ধেকের বেশি এবং প্রায় বিনা ভোটে বাদবাকি সদস্যদের নিয়ে এক অনির্বাচিত সংসদ গঠন করেছে অবৈধ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অথচ সেই প্রহসনের নির্বাচনে কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দলই অংশ নেয়নি। ফলে তথাকথিত সংসদে কার্যত কোনো বিরোধীদলও নেই। যারা রয়েছে তারা এক দিকে নিজেদের বিরোধী দল ও অন্যদিকে সরকারের অংশ দাবি করে থাকেন।

তিনি বলেন, অনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মিলে একটি সরকার গঠন করেছে। এই সরকার নির্বাচিত নয়। এই সরকার জনপ্রতিনিধিত্বশীল নয়। এই সরকার বৈধ নয়। এই সরকার গণতান্ত্রিক নয়। এই সরকারের উপর জনগণের কোনো আস্থা, সমর্থন ও সম্মতি নেই। তাই জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়-দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাও নেই। তারা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে আছে।

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দখল, দলীয়করণ ও সশস্ত্র সংঘাতে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ কলুষিত হচ্ছে। পরিস্থিতির এতো অবনতি হয়েছে যে, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশস্ত্র ট্রেনিং সেন্টার খুলে শিক্ষকদেরকে পর্যন্ত অবৈধ অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। অন্যায় কাজে সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালন করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে। তারা হত্যা, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মানুষের ওপর অত্যাচারসহ বিভিন্ন ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে খালেদা জিয়া রাজধানীর গুলশান বাসভবন থেকে সড়ক পথে রওনা হয়ে  বিকেলে জনসভাস্থলে আসেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) ফজলুল হক মিলন, যুব বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্র দলের সভাপতি রাজীব আহসান ও ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের মধ্যে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, মেজর (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, শফিউল আলম প্রধান, মোস্তফা জামাল হায়দার, এডভোকেট শফিউদ্দিন ভূঁইয়া, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এডভোকেট আব্দুল মোবিন, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।

print

আরো পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন