বুধবার, ২৫ মে ২০২২ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
অ+
অ-

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভূয়া সার্টিফিকেটে মিথ্যা মামলায় ফেসে যাচ্ছে অনেক নিরীহ পরিবার

মো: মোশাররফহোসেন মনিরঃ

রোজ শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ইং(মুরাদনগর বার্তা ডটকম):
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুনের দেয়া ভূয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট ঘটনা সাজিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দিয়ে কুমিল্লার আলেখারচর এলাকার নিরীহ একটি পরিবারকে হয়রানী করার অভিযোগ ওঠেছে। গত বছরের ২২শে সেপ্টেম্বর মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের মুকসাইর গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ এর মেয়ে ফারজানা আক্তার বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় এই মামলাটি দায়ের করে। মামলা নং-২৩/১৫।

বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে জানা যানি হলে এর সাথে জরিতরা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে সংবাদিকদের আপোষ মীমাংসার প্রস্তাব দেন। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের এই ধরনের কার্যক্রমে উপজেলার জনসাধারনের মধ্যে চরম আতংক ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। এর সাথে জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয়রা।

মামলায় ফেসে যাওয়া আশিকুর রহমান মাছুম অভিযোগ করে বলেন, মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুনের যোগ সাজেসে গত বছরের ২৩শে আগষ্ট ইসূকৃত একটি জরুরী বিভাগীয় টিকিট ও গত বছরের ২৮ শে সেপ্টেম্বর ইসূকৃত ভূয়া একটি চিকিৎসা সনদ দেয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে তার নিরাপরাধ পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং সেই মামলার দায়সারা তদন্ত করেই অভিযোগ পত্র (চার্জশীট) দাখিল করেছে মুরাদনগর থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী জানায় মামলায় যে তারিখে বাদী ফারজানাকে বাড়ী থেকে রেব করে দেয়া ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেই তারিখে সে ঢাকা অবস্থান করছিল। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্টার খাতার পাতা পরিবর্তন করে নতুন করে ফারজানাকে রোগীর তালিকায় যুক্ত করে জরুরী বিভাগীয় টিকিট ও ভূয়া একটি চিকিৎসা সনদ দেয়া হয়েছে যার যথেষ্ট তথ্য প্রমান তাদের হাতে রয়েছে। ভুক্তভোগী আরো জানায় মামলা করলে আদালত হাসপাতালের রেজিষ্টার তলব করতে পারে, তাই পূর্বের কাটা চেরা করা পৃষ্ঠাটি পরিবর্তন করে ফেলবে ভূক্তভোগিরা এমন খবর পেয়ে বিশস্থ সুত্রের মাধ্যমে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের  রেজিষ্টিকৃত মূল ঐ ৪টি পৃষ্ঠার ছবি সংগ্রহ করা হয়।

বিষয়টি জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু জাহের বলেন, সনদ জালিয়াতীর অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। তখন তিনি বিষয়গুলো জানতে হাসপাতালের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন, জরুরী বিভাগের রেজিষ্টার ইনচার্জ মো: ইদ্রিস মিয়া ও তৎকালীন লেখক সেবক মোসলেহ উদ্দিনকে হাসপাতালের রেজিস্টার খাতাসহ ডেকে পাঠান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সাথে অভিযোগের বিষয়ে আলাপ কালে সাংবাদিকদের কাছে থাকা হাসপাতালের রেজিষ্টার খাতার পূর্বের ২৫৯/২৬০/২৬১/২৬২নং পৃষ্ঠার ছবির প্রিন্ট পেপার , এবং রেজিষ্টারের বর্তমানের একই নাম্বারের পৃষ্ঠায় ব্যাপক গরমিল দেখতে পায়। এবং হাতের লেখার পরিবর্তন দেখে ২৩শে আগষ্ট রেজিষ্টার খাতা কে লিখেছে সংস্লিষ্টদরে কাছে জানতে চান। তৎকালীন রেজিষ্টার খাতার লেখক সেবক মোসলেহ উদ্দিন   সাংবাদিকদের কাছে থাকা ৪টি পৃষ্ঠার ছবির প্রিন্ট পেপারের হাতের লেখা ও বর্তমান রেজিস্টারের লেখা গুলো তার নিজের বলে স্বীকার করেন। তখন রেজিষ্টার খাতার ঐ পৃষ্ঠায় একজন রোগির নাম বাদ দিয়ে জালিয়াতী করে ফারজানার নাম লিপিবদ্ধ করা ও খাতার পাতার সেলাইটি কেটে পুনারায় নতুন পাতা সংযোজন করে সেলাই করারও আলামত পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু জাহের ও তার হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাথে আলাপচারিতার মাঝেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে জালিয়াতির সকল বিষয়ের সত্যতা পায় সাংবাদিকরা।

অনুসন্ধান কালে সাংবাদিকরা তাদের সকল আলাপচারিতা কৌশলে ভয়েজ ও ভিডিও রেকর্ড করে ফেলে। শেষে সাংবাদিকরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসার সময় ঘটনার সাথে জড়িতরা বিষয়টি আপোষ মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে ।

আশিকুর রহমান মাছুম আরও জানায়, ২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৪ সালে আলেখারচর এলাকার আব্দুস সালাম এর ছেলে আশিকুর রহমান মাছুম এর সাথে মুরাদনগর উপজেলার মুকসাইর গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ এর মেয়ে ফারজানা আক্তারের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ে পর থেকেই ফারজানা কুমিল্লা না থেকে, ঢাকায় তার মায়ের সাথে থাকবে বলে দাবি করে আসছিল এবং বেপরোয়া জীবন যাপন করছিল। মাসুম ভেবে ছিলেন তাদের পরিবারে কোন বাচ্চা হলে হয়ত ফারজানার মন মানসিকতা পরির্বতন হয়ে যাবে কিন্তু তাদের পবিরারে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নিলেও ফারজানা আক্তারের বেপরোয়া ও উশৃংখল জীবন যাপনের কোন পরিবর্তন আসেনি। স্বামীর কথার অবাধ্য হয়ে ফারজানা একদিন তার বাবার বাড়ীতে চলে যায়। বাবার বাড়ী এসে ফারজানা ঢাকার একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে উশৃংখল জীবন যাপন শুরু করে। অনেক বুঝিয়েও ফারজানাকে স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে পারেনি মাছুম। এমন অবস্থায় চলতে দিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই ফারজানাকে ডিভোর্স লেটার পাঠায় মাছুম। ডিভোর্স দেয়ার কারনে ক্ষুদ্ধ হয়ে ডিভোর্সের পূর্ববর্তী তারিখে হাসপাতাল থেকে ভূয়া সনদ নিয়ে মামলা করে ফারজানা।

সুত্রে জানা যায়, ঠিক একই রকম একটি ঘটনার মাধ্যমে উপজেলার হিরাপুর গ্রামের নিরপরাধ ৯জনের নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায়ও মাত্র দেড় মাসের মধ্যে অভিযোগ পত্র (চার্জশীট) দাখিল করেছে থানা পুলিশ। অথচ মামলায় যেই দিন যেস্থানে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সে স্থানে অদৌ এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানান দেখানো ঘটনাস্থল এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়রা।

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিব রাহমান জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ ফেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করব।

print

কুমিল্লা : আরো পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন