ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে?

জাতয়ি ডেস্কঃ

আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার তথা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কার্যক্রম ও নানাবিধ পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— জনসমর্থন বিবেচনায় দেশের দ্বিতীয় বড় দল বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ নেবে কী? আওয়ামী লীগের তরফে খুব জোর দিয়েই বলা হচ্ছে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবেই। আওয়ামী লীগের এমন বিশ্বাসের ভিত্তি কী, তা নিয়ে কিন্তু সর্বত্র আলাপ-আলোচনা পর্যালোচনাও কম হচ্ছে না।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় আগামী ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের ৯০ দিন আগে অর্থাত্ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ঘর গোছানোর প্রক্রিয়ায় দলীয় কোন্দল মেটাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। পাশাপাশি বর্তমান এমপি আর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ চলছে।  বিএনপিও সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কমিটি গঠন পুনর্গঠনের কাজ করছে। অবশ্য তা অনেকটাই ঘরোয়াভাবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন ও আন্দোলন এই দুই বিকল্প প্রস্তুতি সামনে রেখে ৫১টি কমিটি গঠন করে জেলায় জেলায় সভা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগামী ৭ মের মধ্যে এই প্রতিবেদন দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাতে দিতে বলা হয়েছে। বিএনপির ভাষায় প্রকাশ্যে সাংগঠনিক তত্পরতায় বড় বাধা সরকার। বেশির ভাগ এলাকার নেতাদের নামে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে। কেউ আত্মগোপনে কেউবা স্থানীয়ভাবে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পথ চলছেন।

এরকম বাস্তবতায় জোরেসোরে সাংগঠনিক তত্পরতায় বিএনপি নেই। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপি মূলত অগোছালো। এই অবস্থায় কার্যত আর এক বছরের কিছু সময় বেশি হাতে রেখে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে? এ প্রশ্ন করছেন অনেক বিশ্লেষকই। তাছাড়া বিএনপির সামনে যেখানে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেখানে আবার কী কৌশলে নির্বাচন হবে সেটি অনুমান না করে নির্বাচনে যাওয়াটা সঙ্গত কী না তা নিয়ে বিএনপির মধ্যেই ভিন্নমত রয়েছে বলে জানা যায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আওয়ামী লীগ কি কারণে জোর করে বলছে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষায় বিএনপির সামনে বিকল্পইবা কী। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তৃণমূলে কর্মী ধরে রাখা কঠিন হবে। নিবন্ধন বাতিলের প্রশ্ন তো আছেই। সাংগঠনিক দুর্বলতা আরো বাড়বে। এমনকি বিএনপিতে ভাঙন ধরতে পারে- এমন সব বিশ্বাস নিয়েই কী আওয়ামী লীগের উচ্চকণ্ঠ।

নির্বাচন উপেক্ষা করার নজির বিএনপির নতুন নয়। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের দুইবার বিএনপি নিজেদের নির্বাচনের বাইরে রেখেছে। ফলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অবিশ্বাস্যভাবে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। এই অভিজ্ঞতাও বিএনপির আছে। তদুপরি আওয়ামী লীগের বিশ্বাসের উত্স্যটা কী তারই খোঁজ খবর চলছে নানা মহল থেকে।

বলা হচ্ছে, এখন সময় পাল্টেছে। ভূ-আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আঞ্চলিক রাজনীতিতে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। সে বিবেচনায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শান্তি স্থিতিশীলতা সকলেই চাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে— বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব শেষমেশ আগামী নির্বাচনে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য এনে সকলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে।

যদিও বিএনপি এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ হাসিনাকে রেখে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সঙ্কল্প ব্যক্ত করেছে। অবশ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে তারা যে সরে এসেছে সেটি এখন স্পষ্ট। এখন তারা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার দাবি করছে। এ ধরনের সরকারের রূপরেখা কী হবে সেটি প্রস্তুত। ঈদের পরপরই তা ঘোষণা করা হতে পারে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অবশ্য বেশ আগে থেকেই জোর দিয়ে বলছেন যে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবেই এবং তা হবে দলীয় সরকারের অধীনে। তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পর্কে বলছেন সেটি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে আসা এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ঘোরতর আপত্তি থেকে সরে আসার পাশাপাশি নির্বাচনের সঙ্গে আন্দোলন প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কি আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করছে যে, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয়টিও আওয়ামী লীগের এ বিবেচনা থেকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এদিকে বিএনপির কেউ কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই যদি বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে হয়, তাহলে গত নির্বাচনে কী দোষ ছিল? নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে ছাড়া বিএনপি গতবারও নির্বাচনে যায়নি এবারও যাবে না।

সম্প্রতি অন্তত দুটি অনুষ্ঠানে আগামী নির্বাচন নিয়ে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন খালেদা জিয়া। সাংবাদিক নেতারা দেখা করতে গেলে খালেদা জিয়া বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া নির্বাচনে গিয়ে কোনো লাভ হবে না।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী মনিরুল হক সাক্কু দেখা করতে গেলে খালেদা জিয়া নির্বাচনী যুদ্ধ জয়ের জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শনিবার ইত্তেফাককে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়। কারণ বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। বিএনপিকে কীভাবে নির্বাচনে আনা যায়, সরকারকে সেই পথ সৃষ্টি করতে হবে। তবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। বিএনপি ছাড়া কোনো নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না। আমরা বলেছি, নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এমন একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা বন্ধ করতে হবে। সব নেতা-কর্মীকে মুক্তি দিতে হবে।

একই বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে যাবে, তবে তা ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়। কিন্তু শেখ হাসিনা রেফারি থাকলে সে নির্বাচনে যাবে না। শেখ হাসিনা রেফারি থাকলে কী ধরনের নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ানি নির্বাচনসহ বিগত দিনের নির্বাচনগুলো দেখলেই বোঝা যায়।

পর্যবেক্ষক মহল বলছে, দরকষাকষির সুযোগ রেখে বিএনপি মূলত নির্বাচনী মাঠেই নামছে। শেষমেশ সার্বিক বিবেচনায় বিএনপি নির্বাচনে আসবে। আর সেটি মাথায় রেখে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনী ব্যবস্থা যাতে না হয় সে জন্য সজাগ থেকে আগেভাগে মাঠ গোছতে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

মুরাদনগর ভয়াবহ আগুন কয়ক কাটি টাকার ক্ষতি 

আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে?

আপডেট সময় ০৪:১৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ মে ২০১৭
জাতয়ি ডেস্কঃ

আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার তথা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কার্যক্রম ও নানাবিধ পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— জনসমর্থন বিবেচনায় দেশের দ্বিতীয় বড় দল বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ নেবে কী? আওয়ামী লীগের তরফে খুব জোর দিয়েই বলা হচ্ছে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবেই। আওয়ামী লীগের এমন বিশ্বাসের ভিত্তি কী, তা নিয়ে কিন্তু সর্বত্র আলাপ-আলোচনা পর্যালোচনাও কম হচ্ছে না।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় আগামী ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের ৯০ দিন আগে অর্থাত্ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ঘর গোছানোর প্রক্রিয়ায় দলীয় কোন্দল মেটাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। পাশাপাশি বর্তমান এমপি আর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ চলছে।  বিএনপিও সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কমিটি গঠন পুনর্গঠনের কাজ করছে। অবশ্য তা অনেকটাই ঘরোয়াভাবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন ও আন্দোলন এই দুই বিকল্প প্রস্তুতি সামনে রেখে ৫১টি কমিটি গঠন করে জেলায় জেলায় সভা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগামী ৭ মের মধ্যে এই প্রতিবেদন দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাতে দিতে বলা হয়েছে। বিএনপির ভাষায় প্রকাশ্যে সাংগঠনিক তত্পরতায় বড় বাধা সরকার। বেশির ভাগ এলাকার নেতাদের নামে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে। কেউ আত্মগোপনে কেউবা স্থানীয়ভাবে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পথ চলছেন।

এরকম বাস্তবতায় জোরেসোরে সাংগঠনিক তত্পরতায় বিএনপি নেই। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপি মূলত অগোছালো। এই অবস্থায় কার্যত আর এক বছরের কিছু সময় বেশি হাতে রেখে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে? এ প্রশ্ন করছেন অনেক বিশ্লেষকই। তাছাড়া বিএনপির সামনে যেখানে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেখানে আবার কী কৌশলে নির্বাচন হবে সেটি অনুমান না করে নির্বাচনে যাওয়াটা সঙ্গত কী না তা নিয়ে বিএনপির মধ্যেই ভিন্নমত রয়েছে বলে জানা যায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আওয়ামী লীগ কি কারণে জোর করে বলছে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষায় বিএনপির সামনে বিকল্পইবা কী। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তৃণমূলে কর্মী ধরে রাখা কঠিন হবে। নিবন্ধন বাতিলের প্রশ্ন তো আছেই। সাংগঠনিক দুর্বলতা আরো বাড়বে। এমনকি বিএনপিতে ভাঙন ধরতে পারে- এমন সব বিশ্বাস নিয়েই কী আওয়ামী লীগের উচ্চকণ্ঠ।

নির্বাচন উপেক্ষা করার নজির বিএনপির নতুন নয়। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের দুইবার বিএনপি নিজেদের নির্বাচনের বাইরে রেখেছে। ফলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অবিশ্বাস্যভাবে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। এই অভিজ্ঞতাও বিএনপির আছে। তদুপরি আওয়ামী লীগের বিশ্বাসের উত্স্যটা কী তারই খোঁজ খবর চলছে নানা মহল থেকে।

বলা হচ্ছে, এখন সময় পাল্টেছে। ভূ-আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আঞ্চলিক রাজনীতিতে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। সে বিবেচনায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শান্তি স্থিতিশীলতা সকলেই চাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে— বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব শেষমেশ আগামী নির্বাচনে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য এনে সকলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে।

যদিও বিএনপি এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ হাসিনাকে রেখে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সঙ্কল্প ব্যক্ত করেছে। অবশ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে তারা যে সরে এসেছে সেটি এখন স্পষ্ট। এখন তারা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার দাবি করছে। এ ধরনের সরকারের রূপরেখা কী হবে সেটি প্রস্তুত। ঈদের পরপরই তা ঘোষণা করা হতে পারে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অবশ্য বেশ আগে থেকেই জোর দিয়ে বলছেন যে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবেই এবং তা হবে দলীয় সরকারের অধীনে। তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পর্কে বলছেন সেটি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে আসা এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ঘোরতর আপত্তি থেকে সরে আসার পাশাপাশি নির্বাচনের সঙ্গে আন্দোলন প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কি আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করছে যে, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয়টিও আওয়ামী লীগের এ বিবেচনা থেকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এদিকে বিএনপির কেউ কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই যদি বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে হয়, তাহলে গত নির্বাচনে কী দোষ ছিল? নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে ছাড়া বিএনপি গতবারও নির্বাচনে যায়নি এবারও যাবে না।

সম্প্রতি অন্তত দুটি অনুষ্ঠানে আগামী নির্বাচন নিয়ে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন খালেদা জিয়া। সাংবাদিক নেতারা দেখা করতে গেলে খালেদা জিয়া বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া নির্বাচনে গিয়ে কোনো লাভ হবে না।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী মনিরুল হক সাক্কু দেখা করতে গেলে খালেদা জিয়া নির্বাচনী যুদ্ধ জয়ের জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শনিবার ইত্তেফাককে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়। কারণ বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। বিএনপিকে কীভাবে নির্বাচনে আনা যায়, সরকারকে সেই পথ সৃষ্টি করতে হবে। তবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। বিএনপি ছাড়া কোনো নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না। আমরা বলেছি, নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এমন একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা বন্ধ করতে হবে। সব নেতা-কর্মীকে মুক্তি দিতে হবে।

একই বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে যাবে, তবে তা ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়। কিন্তু শেখ হাসিনা রেফারি থাকলে সে নির্বাচনে যাবে না। শেখ হাসিনা রেফারি থাকলে কী ধরনের নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ানি নির্বাচনসহ বিগত দিনের নির্বাচনগুলো দেখলেই বোঝা যায়।

পর্যবেক্ষক মহল বলছে, দরকষাকষির সুযোগ রেখে বিএনপি মূলত নির্বাচনী মাঠেই নামছে। শেষমেশ সার্বিক বিবেচনায় বিএনপি নির্বাচনে আসবে। আর সেটি মাথায় রেখে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনী ব্যবস্থা যাতে না হয় সে জন্য সজাগ থেকে আগেভাগে মাঠ গোছতে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ।