ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইতিহাস বিকৃতিকারীরা আর যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে আর যেন স্বাধীনতাবিরোধী, রাজকার, যুদ্ধাপরাধী, খুনি ও ইতিহাস বিকৃতিকারীরা ক্ষমতায় আসতে না পারে। সেদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেসকোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় শনিবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘদিন ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করতে দেয়া হয়নি। এই ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সত্য ইতিহাস চির ভাস্বর। ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না।

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, এত দূরদর্শী ও এত নির্দেশনা বিশ্বের আর কোনো ভাষণ ভাষণে নেই। এই ভাষণে জাতির পিতা অসহযোগ আন্দোলনের কথা বলেছিলেন। গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি জয়বাংলা বলে তার ভাষণ শেষ করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষকে রাজনৈতিক মুক্তি দিয়েছেন, অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়ার পথে হাঁটা শুরু করেছিলেন। দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু তখনই স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

বাংলাদেশ নামটাও বঙ্গবন্ধুর দেয়া উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যাই করা হয়নি, তার আদর্শ নষ্ট করে এ দেশে রাজাকার-খুনিদের ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে স্বীকৃতি দেয়ার কারণে শেখ হাসিনা ইউনেসকোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি যারা স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন তাদেরও স্বীকৃতি। এই ভাষণে যে কেবল নির্দেশনা ছিল তাই নয়, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে সেটাও বঙ্গবন্ধু বলেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে এখন আমরা উন্নয়নের রোল মডেল। শিগগিরই এই জাতি অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে। ২০২১ সালে এ দেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধিশালী দেশ। আগামীর বাংলাদেশ হবে অর্থনৈতিক মুক্তির ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।

সমাবেশ উপলক্ষে দুপুর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে থাকেন রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, সরকারি চাকুরে, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুপুর থেকেই চলে নানা আয়োজন। নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি উপভোগ করেন আগত অতিথিরা। বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে সরকারি চাকুরেদের সমাবেশে ভাষণ দিতে উপস্থিত হন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

ইতিহাস বিকৃতিকারীরা আর যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
জাতীয় ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে আর যেন স্বাধীনতাবিরোধী, রাজকার, যুদ্ধাপরাধী, খুনি ও ইতিহাস বিকৃতিকারীরা ক্ষমতায় আসতে না পারে। সেদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেসকোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় শনিবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘদিন ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করতে দেয়া হয়নি। এই ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সত্য ইতিহাস চির ভাস্বর। ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না।

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, এত দূরদর্শী ও এত নির্দেশনা বিশ্বের আর কোনো ভাষণ ভাষণে নেই। এই ভাষণে জাতির পিতা অসহযোগ আন্দোলনের কথা বলেছিলেন। গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি জয়বাংলা বলে তার ভাষণ শেষ করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষকে রাজনৈতিক মুক্তি দিয়েছেন, অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়ার পথে হাঁটা শুরু করেছিলেন। দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু তখনই স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

বাংলাদেশ নামটাও বঙ্গবন্ধুর দেয়া উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যাই করা হয়নি, তার আদর্শ নষ্ট করে এ দেশে রাজাকার-খুনিদের ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে স্বীকৃতি দেয়ার কারণে শেখ হাসিনা ইউনেসকোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি যারা স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন তাদেরও স্বীকৃতি। এই ভাষণে যে কেবল নির্দেশনা ছিল তাই নয়, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে সেটাও বঙ্গবন্ধু বলেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে এখন আমরা উন্নয়নের রোল মডেল। শিগগিরই এই জাতি অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে। ২০২১ সালে এ দেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধিশালী দেশ। আগামীর বাংলাদেশ হবে অর্থনৈতিক মুক্তির ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।

সমাবেশ উপলক্ষে দুপুর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে থাকেন রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, সরকারি চাকুরে, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুপুর থেকেই চলে নানা আয়োজন। নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি উপভোগ করেন আগত অতিথিরা। বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে সরকারি চাকুরেদের সমাবেশে ভাষণ দিতে উপস্থিত হন।