ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এমপি বদির বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ আছে প্রমাণ নেই

জাতীয় ডেস্কঃ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, কক্সবাজারের টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। অভিযোগগুলোর ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আর দেশে কোনো ক্রসফায়ার হচ্ছে না, যা হচ্ছে তা বন্দুকযুদ্ধ। পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে এগোচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। টেকনাফ-উখিয়া আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্য বদির বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে। বদিসহ অন্য মাদক কারবারিদের বিষয়ে আপনাদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে আমাদের দিন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ—সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, র‌্যাব, সাংবাদিক যারাই মাদকের ব্যবসায় যুক্ত থাকবে তাদের ছাড় নয়।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা তথ্য-প্রমাণভিত্তিক কাজ করছি। পরিষ্কার কথা, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আপনারা দেখেছেন, আমাদের একজন সংসদ সদস্য কয়েক বছর ধরে জেলে আছেন। তিনি জামিনও পাননি। কাজেই আইন সবার জন্য সমান। আইনের বাইরে আমরা কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিই না। আপনারা যাঁর (বদি) নাম উচ্চারণ করেছেন তিনি একবার কারাগারে গেছেন। তাঁর সম্পর্কে আমরা জানার চেষ্টা করছি, জানছি। আপনারাও (সাংবাদিক) আমাদের তথ্য দিন।’

২০১৪-১৫ সালের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমপি বদির নাম থাকার কথা জানানো হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। সে বদি হোক আর যেই হোক। যার বিরুদ্ধে সঠিক প্রমাণ পাচ্ছি তাকেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যেসব তথ্য আসছে, তার সঙ্গে প্রমাণ জোগাড়ের আগ পর্যন্ত কাউকে নক করছি না।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা তালিকায়ও বদির নাম থাকার কথা গণমাধ্যমে এসেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকের নাম আছে। অনেকে ইমোশনালি নাম দেয় যে এটা হতে পারে। এটা হতে পারে কি পারে না তা তো তদন্তের বিষয়। তদন্তে প্রমাণ তো পেতে হবে।’

দেশে ইয়াবা-মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘ইয়াবা নামের মাদকটি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলাম না। মিয়ানমারও বলে যাচ্ছে। কিন্তু প্র্যাকটিক্যালি তারা সহযোগিতা করছিল না। সে জন্য ইয়াবার এতটা বিস্তৃতি ঘটেছে।’

ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক যারা নিয়ন্ত্রণ করে তারা প্রভাবশালী, শক্তিশালী। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে শুরু করে অবৈধ নানা অস্ত্র আছে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখনই হাই-প্রোফাইল মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গেছে, তখনই তারা হয় পালিয়েছে অথবা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। আর পুলিশকে অ্যাটাক করলে আত্মরক্ষার্থে কাউন্টার অ্যাটাকের আইন আছে। বিগত কয়েক দিনে তেমনই কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।’

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি বদির বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ আছে প্রমাণ নেই

আপডেট সময় ০৯:২২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮
জাতীয় ডেস্কঃ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, কক্সবাজারের টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। অভিযোগগুলোর ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আর দেশে কোনো ক্রসফায়ার হচ্ছে না, যা হচ্ছে তা বন্দুকযুদ্ধ। পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে এগোচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। টেকনাফ-উখিয়া আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্য বদির বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে। বদিসহ অন্য মাদক কারবারিদের বিষয়ে আপনাদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে আমাদের দিন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ—সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, র‌্যাব, সাংবাদিক যারাই মাদকের ব্যবসায় যুক্ত থাকবে তাদের ছাড় নয়।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা তথ্য-প্রমাণভিত্তিক কাজ করছি। পরিষ্কার কথা, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আপনারা দেখেছেন, আমাদের একজন সংসদ সদস্য কয়েক বছর ধরে জেলে আছেন। তিনি জামিনও পাননি। কাজেই আইন সবার জন্য সমান। আইনের বাইরে আমরা কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিই না। আপনারা যাঁর (বদি) নাম উচ্চারণ করেছেন তিনি একবার কারাগারে গেছেন। তাঁর সম্পর্কে আমরা জানার চেষ্টা করছি, জানছি। আপনারাও (সাংবাদিক) আমাদের তথ্য দিন।’

২০১৪-১৫ সালের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমপি বদির নাম থাকার কথা জানানো হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। সে বদি হোক আর যেই হোক। যার বিরুদ্ধে সঠিক প্রমাণ পাচ্ছি তাকেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যেসব তথ্য আসছে, তার সঙ্গে প্রমাণ জোগাড়ের আগ পর্যন্ত কাউকে নক করছি না।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা তালিকায়ও বদির নাম থাকার কথা গণমাধ্যমে এসেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকের নাম আছে। অনেকে ইমোশনালি নাম দেয় যে এটা হতে পারে। এটা হতে পারে কি পারে না তা তো তদন্তের বিষয়। তদন্তে প্রমাণ তো পেতে হবে।’

দেশে ইয়াবা-মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘ইয়াবা নামের মাদকটি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলাম না। মিয়ানমারও বলে যাচ্ছে। কিন্তু প্র্যাকটিক্যালি তারা সহযোগিতা করছিল না। সে জন্য ইয়াবার এতটা বিস্তৃতি ঘটেছে।’

ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক যারা নিয়ন্ত্রণ করে তারা প্রভাবশালী, শক্তিশালী। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে শুরু করে অবৈধ নানা অস্ত্র আছে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখনই হাই-প্রোফাইল মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গেছে, তখনই তারা হয় পালিয়েছে অথবা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। আর পুলিশকে অ্যাটাক করলে আত্মরক্ষার্থে কাউন্টার অ্যাটাকের আইন আছে। বিগত কয়েক দিনে তেমনই কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।’