ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় ভণ্ড কবিরাজের নির্যাতনে শিশু নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লায় মাহবুবুর রহমান নামের এক ভণ্ড কবিরাজের আস্তানায় শেখ ফরিদ নামে ৩ বছরের শিশুর দুষ্টুমি কমানোর নামে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ২জনকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনার পর রবিবার দুপুরে শিশুর ময়নাতদন্ত করা হয়। এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় জ্বিন হুজুরসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই শিশু জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া পাড়া গ্রামের প্রবাসী জামাল হোসেনের একমাত্র সন্তান।
ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবুর রহমান জেলার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বারপাড়া গ্রামের বাড়িতে গড়ে তোলেন জ্বিন-ভুত তাড়ানোর অপচিকিৎসার আস্তানা। সে সকল মহলে জ্বিন হুজুর নামে পরিচিত। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই ভণ্ড কবিরাজের আস্তানায় তল্লাশি চালায়। পৌনে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তল্লাশি চলছিল।
জানা যায়, ছোট্ট শিশু শেখ ফরিদ বেশি ছোটাছুটি ও দুষ্টুমি করতো। এতে শিশুর মা রোজিনা বেগম শিশুর দুষ্টুমি কমানোর জন্য গত শুক্রবার সকালে বারপাড়া গ্রামের কবিরাজ মাহবুবুর রহমানের নিজ বাড়ির আস্তানায় নিয়ে যান। এরপর কবিরাজ শিশুর মায়ের কথা শুনেন এবং ওই শিশুর দুষ্টুমি কমাতে হলে শিশুকে ৩দিন তার নিকট রাখতে হবে বলে শর্ত দেন। এতে শিশুর মা সম্মত হয়ে ওই শিশুকে কবিরাজের নিকট রেখে বাড়ি চলে যান।
শিশুর মা রোজিনা আক্তার জানান, ওইদিন রাতে মোবাইল ফোনে কবিরাজের নিকট ছেলের অবস্থা জানতে চাইলে কবিরাজ বলেছে, আপনার ছেলে ভালো আছে। চিকিৎসা চলছে, রবিবারে এসে নিয়ে যাবেন। তার দুষ্টুমি কমে গেছে, সে একেবারে ভদ্র ও শান্ত হয়ে সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে।
রোজিনা আক্তার আরও জানান, পরদিন শনিবার সাদা কাপড়ে (কাফন) মোড়ানো অবস্থায় আমার সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে পাঠায় কবিরাজ মাহবুব এবং সে মোবাইল ফোনে আমাকে জানায়, শেখ ফরিদকে সকালে জ্বিনে মেরে ফেলেছে, গোসল ও জানাজা হয়ে গেছে, দাফন করে দিন। এদিকে শিশু ফরিদের মামাতো ভাই জাহিদ হোসেন ও নিকটাত্মীয় মোবারক মিয়া এ ঘটনা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ শিশুর লাশ উদ্ধারসহ ভণ্ড কবিরাজের সহযোগী শাহাদাত হোসেন ও অ্যাম্বুলেন্সের চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার দুপুরে লাশটি তার স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর মা রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবুর রহমানকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, ওই ভণ্ড কবিরাজের আস্তানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে, পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কুমিল্লায় ভণ্ড কবিরাজের নির্যাতনে শিশু নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা

আপডেট সময় ০২:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১৮
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লায় মাহবুবুর রহমান নামের এক ভণ্ড কবিরাজের আস্তানায় শেখ ফরিদ নামে ৩ বছরের শিশুর দুষ্টুমি কমানোর নামে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ২জনকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনার পর রবিবার দুপুরে শিশুর ময়নাতদন্ত করা হয়। এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় জ্বিন হুজুরসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই শিশু জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া পাড়া গ্রামের প্রবাসী জামাল হোসেনের একমাত্র সন্তান।
ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবুর রহমান জেলার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বারপাড়া গ্রামের বাড়িতে গড়ে তোলেন জ্বিন-ভুত তাড়ানোর অপচিকিৎসার আস্তানা। সে সকল মহলে জ্বিন হুজুর নামে পরিচিত। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই ভণ্ড কবিরাজের আস্তানায় তল্লাশি চালায়। পৌনে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তল্লাশি চলছিল।
জানা যায়, ছোট্ট শিশু শেখ ফরিদ বেশি ছোটাছুটি ও দুষ্টুমি করতো। এতে শিশুর মা রোজিনা বেগম শিশুর দুষ্টুমি কমানোর জন্য গত শুক্রবার সকালে বারপাড়া গ্রামের কবিরাজ মাহবুবুর রহমানের নিজ বাড়ির আস্তানায় নিয়ে যান। এরপর কবিরাজ শিশুর মায়ের কথা শুনেন এবং ওই শিশুর দুষ্টুমি কমাতে হলে শিশুকে ৩দিন তার নিকট রাখতে হবে বলে শর্ত দেন। এতে শিশুর মা সম্মত হয়ে ওই শিশুকে কবিরাজের নিকট রেখে বাড়ি চলে যান।
শিশুর মা রোজিনা আক্তার জানান, ওইদিন রাতে মোবাইল ফোনে কবিরাজের নিকট ছেলের অবস্থা জানতে চাইলে কবিরাজ বলেছে, আপনার ছেলে ভালো আছে। চিকিৎসা চলছে, রবিবারে এসে নিয়ে যাবেন। তার দুষ্টুমি কমে গেছে, সে একেবারে ভদ্র ও শান্ত হয়ে সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে।
রোজিনা আক্তার আরও জানান, পরদিন শনিবার সাদা কাপড়ে (কাফন) মোড়ানো অবস্থায় আমার সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে পাঠায় কবিরাজ মাহবুব এবং সে মোবাইল ফোনে আমাকে জানায়, শেখ ফরিদকে সকালে জ্বিনে মেরে ফেলেছে, গোসল ও জানাজা হয়ে গেছে, দাফন করে দিন। এদিকে শিশু ফরিদের মামাতো ভাই জাহিদ হোসেন ও নিকটাত্মীয় মোবারক মিয়া এ ঘটনা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ শিশুর লাশ উদ্ধারসহ ভণ্ড কবিরাজের সহযোগী শাহাদাত হোসেন ও অ্যাম্বুলেন্সের চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার দুপুরে লাশটি তার স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর মা রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবুর রহমানকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, ওই ভণ্ড কবিরাজের আস্তানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে, পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।