ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার যেকোনো মুহূর্তে প্যারালাইজড হতে পারে: ফখরুল

জাতীয় ডেস্কঃ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার যেকোনো মুহূর্তে প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কখনো বলা হচ্ছে ‘পিজি’ কথা আবার কখনো বলা হচ্ছে ‘সিএমএইচের’কথা। আসলে সরকার খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দিতে চায় না। কারাবন্দি খালেদা জিয়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নেবেন না।
খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালেই কেন ভর্তি করা দরকার? আমরা এজন্য সেখানকার কথা বলছি, কারণ আমাদের আস্থাটা ওখানে। রোগীর যে চিকিৎসকের ওপর আস্থা থাকে তার কাছেই যায়। আমরা মনে করি, ইউনাইটেডে গেলে খালেদা জিয়ার উত্তম চিকিৎসা হবে।
ফখরুল বলেন, গতকাল (১৬ জুন) কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনরা দেখা করেছেন। তার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক নাজুক। তিনি একা হাঁটতে পারছেন না। আমরা আজকের মধ্যে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে পিজিতে পাঠানো হবে, সেখানে ভালো মানের চিকিৎসক আছে। আবার বলা হচ্ছে সিএমএইচে পাঠানো হবে। সিএমএইচ হাসপাতালে রাজনৈতিক কারণে ভর্তি নেয় না। সরকারের মনোভাব খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দেয়া।’
বিএনপির মহাসচিবের দাবি, ‘খালেদা জিয়াকে যেভাবে নিঃসঙ্গ রাখা হয়েছে তা মানবাধিকার ও জেল কোডের বিপক্ষে। একজন বন্দিকে নির্জনভাবে রাখা যায় না, এটা বেআইনি। জেল কোডে কোথাও বলা নেই যে, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া যাবে না। খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে আছেন। বিনা চিকিৎসায় তার কিছু হয়ে গেলে সেই দায় সরকারকেই নিতে হবে।
ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনা যদি বন্দি অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন, প্যারোলে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পান, মোহাম্মদ নাসিম ও জলিল সাহেব যদি কয়েদি অবস্থায় ল্যাব এইডে চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন, তাহলে আমাদের দেশনেত্রীকে ইউনাইটেডে যেতে দেবেন না কেন, কারণ কী? কারণ একটাই, আপনারা তার ক্ষতি করতে চান। তার জীবন বিপন্ন করতে চান। সেই কারণে আপনারা এই পথ বেঁচে নিয়েছেন।’
রবিবার সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য, ‘খালেদা জিয়া জনগণের সম্পদ, জনগণের নেত্রী। তার জীবনের মূল্য আমাদের কাছে অনেক বেশি। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করবো। জনগণই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবো, গণতন্ত্রকেও মুক্ত করবো।
বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা আগের থেকে অবনতি ঘটেছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি, উনি এখন সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না। ব্যক্তিগত কাজকর্ম করার জন্য সাহায্যের প্রয়োজন হচ্ছে তার। যে চোখে অপারেশন হয়েছে, তা আরও লাল হচ্ছে। ঘাড়ের ব্যথা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে বাঁ হাতের আঙুলগুলো সার্বক্ষণিক ব্যাথা করছে। এ কারণে হাত দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না। কোমরের ব্যাথা বাঁ পায়ের তলা পর্যন্ত ছড়িয়েছে। এটা খুবই মারাত্মক।’
ফখরুল বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কারাগারে সাবেক এক প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে রাখা হয়েছে, সেটা কোন সভ্য সমাজে করা হয় না। তাকে রাখা হয়েছে একেবারে নিঃসঙ্গ অবস্থায়। তিনি ছাড়া আর কোন বন্দি সেখানে নাই। আর যে কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন তারা সারাদিন তাদের কাজ নিয়ে থাকেন, তারাও বেগম খালেদা জিয়ার থেকে দূরে থাকেন। তার ওপর কারাগারের ভিতরে বড় বড় ইদুর, তেলাপোকা, ছাড়পোকা, বিছা রয়েছে।
‘কয়েক দিন আগে ম্যাডামের ঘরের মধ্যে একটি বড় ইদুর ধরেছে বিড়াল। এর পর থেকেই ম্যাডাম আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমরা বার বার বলছি, আপনারা (সরকার) কেন তার এই আচরণ করছেন। এটাতো কোন সভ্য আচরণ নয়, ওটা অসভ্য বর্বরদের আচরণ।
ফখরুল বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কোন নির্বাচনে পরাজিত হন নাই। গণতন্ত্র্রের জন্য তিনি দীর্ঘ পথ পারি দিয়েছেন, স্বাধীনতার যুদ্ধে তিনি নিগৃত হয়েছেন। তার এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকার খালেদা জিয়ার ক্ষতি চায় দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে আছেন। বিনা চিকিৎসায় তার কিছু হলে দায় সরকারকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হচ্ছে আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব, জনগণ তাকে মুক্ত করবে। আন্দোলন কখন থেকে শুরু হচ্ছে- এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘আন্দোলন ঈদের পরে বা আগে না। যেদিন থেকে এই সরকার ক্ষমতায় আসছে, সেদিন থেকে আমরা আন্দোলন করছি। আন্দোলন একটা পর্যায়ে এসেছে। আমরা মনে করি এই আন্দোলনে আমাদের বিজয় অবশম্ভাবী।’
ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

খালেদা জিয়ার যেকোনো মুহূর্তে প্যারালাইজড হতে পারে: ফখরুল

আপডেট সময় ০৩:০১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ জুন ২০১৮
জাতীয় ডেস্কঃ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার যেকোনো মুহূর্তে প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কখনো বলা হচ্ছে ‘পিজি’ কথা আবার কখনো বলা হচ্ছে ‘সিএমএইচের’কথা। আসলে সরকার খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দিতে চায় না। কারাবন্দি খালেদা জিয়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নেবেন না।
খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালেই কেন ভর্তি করা দরকার? আমরা এজন্য সেখানকার কথা বলছি, কারণ আমাদের আস্থাটা ওখানে। রোগীর যে চিকিৎসকের ওপর আস্থা থাকে তার কাছেই যায়। আমরা মনে করি, ইউনাইটেডে গেলে খালেদা জিয়ার উত্তম চিকিৎসা হবে।
ফখরুল বলেন, গতকাল (১৬ জুন) কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনরা দেখা করেছেন। তার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক নাজুক। তিনি একা হাঁটতে পারছেন না। আমরা আজকের মধ্যে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে পিজিতে পাঠানো হবে, সেখানে ভালো মানের চিকিৎসক আছে। আবার বলা হচ্ছে সিএমএইচে পাঠানো হবে। সিএমএইচ হাসপাতালে রাজনৈতিক কারণে ভর্তি নেয় না। সরকারের মনোভাব খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দেয়া।’
বিএনপির মহাসচিবের দাবি, ‘খালেদা জিয়াকে যেভাবে নিঃসঙ্গ রাখা হয়েছে তা মানবাধিকার ও জেল কোডের বিপক্ষে। একজন বন্দিকে নির্জনভাবে রাখা যায় না, এটা বেআইনি। জেল কোডে কোথাও বলা নেই যে, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া যাবে না। খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে আছেন। বিনা চিকিৎসায় তার কিছু হয়ে গেলে সেই দায় সরকারকেই নিতে হবে।
ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনা যদি বন্দি অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন, প্যারোলে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পান, মোহাম্মদ নাসিম ও জলিল সাহেব যদি কয়েদি অবস্থায় ল্যাব এইডে চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন, তাহলে আমাদের দেশনেত্রীকে ইউনাইটেডে যেতে দেবেন না কেন, কারণ কী? কারণ একটাই, আপনারা তার ক্ষতি করতে চান। তার জীবন বিপন্ন করতে চান। সেই কারণে আপনারা এই পথ বেঁচে নিয়েছেন।’
রবিবার সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য, ‘খালেদা জিয়া জনগণের সম্পদ, জনগণের নেত্রী। তার জীবনের মূল্য আমাদের কাছে অনেক বেশি। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করবো। জনগণই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবো, গণতন্ত্রকেও মুক্ত করবো।
বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা আগের থেকে অবনতি ঘটেছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি, উনি এখন সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না। ব্যক্তিগত কাজকর্ম করার জন্য সাহায্যের প্রয়োজন হচ্ছে তার। যে চোখে অপারেশন হয়েছে, তা আরও লাল হচ্ছে। ঘাড়ের ব্যথা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে বাঁ হাতের আঙুলগুলো সার্বক্ষণিক ব্যাথা করছে। এ কারণে হাত দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না। কোমরের ব্যাথা বাঁ পায়ের তলা পর্যন্ত ছড়িয়েছে। এটা খুবই মারাত্মক।’
ফখরুল বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কারাগারে সাবেক এক প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে রাখা হয়েছে, সেটা কোন সভ্য সমাজে করা হয় না। তাকে রাখা হয়েছে একেবারে নিঃসঙ্গ অবস্থায়। তিনি ছাড়া আর কোন বন্দি সেখানে নাই। আর যে কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন তারা সারাদিন তাদের কাজ নিয়ে থাকেন, তারাও বেগম খালেদা জিয়ার থেকে দূরে থাকেন। তার ওপর কারাগারের ভিতরে বড় বড় ইদুর, তেলাপোকা, ছাড়পোকা, বিছা রয়েছে।
‘কয়েক দিন আগে ম্যাডামের ঘরের মধ্যে একটি বড় ইদুর ধরেছে বিড়াল। এর পর থেকেই ম্যাডাম আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমরা বার বার বলছি, আপনারা (সরকার) কেন তার এই আচরণ করছেন। এটাতো কোন সভ্য আচরণ নয়, ওটা অসভ্য বর্বরদের আচরণ।
ফখরুল বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কোন নির্বাচনে পরাজিত হন নাই। গণতন্ত্র্রের জন্য তিনি দীর্ঘ পথ পারি দিয়েছেন, স্বাধীনতার যুদ্ধে তিনি নিগৃত হয়েছেন। তার এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকার খালেদা জিয়ার ক্ষতি চায় দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে আছেন। বিনা চিকিৎসায় তার কিছু হলে দায় সরকারকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হচ্ছে আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব, জনগণ তাকে মুক্ত করবে। আন্দোলন কখন থেকে শুরু হচ্ছে- এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘আন্দোলন ঈদের পরে বা আগে না। যেদিন থেকে এই সরকার ক্ষমতায় আসছে, সেদিন থেকে আমরা আন্দোলন করছি। আন্দোলন একটা পর্যায়ে এসেছে। আমরা মনে করি এই আন্দোলনে আমাদের বিজয় অবশম্ভাবী।’