ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তথ্য যাচাইয়ে শতকরা ৭৫ জনের কাছ থেকে ঘুষ নেয় পুলিশ পাসপোর্ট সেবায় টিআইবির ১২ দফা সুপারিশ

জাতীয় ডেস্কঃ
পাসপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে শতকরা ৫৫ শতাংশ মানুষই দুর্নীতির শিকার হচ্ছে। এমনকি তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশনের সময় শতকরা ৭৫ দশমিক ৩ জন গ্রাহকের কাছ থেকে এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) পুলিশ ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ আদায় করছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টার-ন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল সোমবার টিআইবি’র মেঘমালা সম্মেলন কক্ষে ‘পাসপোর্ট সেবায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি এ খাতের সুশাসন নিশ্চিতে দেশের পাসপোর্ট কার্যালয়সমূহে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও লজিস্টিকসের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, আবেদনপত্র সত্যায়ন, প্রত্যয়ন ও পুলিশ প্রতিবেদনের বিধান বাতিল এবং দালালের দৌরাত্ম্য নিমূর্লসহ ১২ দফা স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ করেছে টিআইবি। ২০১৬ সেপ্টেম্বর থেকে মে ২০১৭ সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী মোট ১৪৫৩ জন সেবাগ্রহীতার ওপর জরিপ পরিচালনা এবং কেস স্টাডি করে পাসপোর্ট সেবা বিষয়ক এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাসপোর্ট সেবায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে আবেদনপত্র উত্তোলন, আবেদনপত্র জমাদান ও প্রি-এনরোলমেন্ট, বায়ো-এনরোলমেন্ট, পাসপোর্ট বিতরণ এবং দালালের সাথে চুক্তি। পাসপোর্ট অফিসের সেবায় ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ দেওয়ার গড় পরিমাণ ২ হাজার ২ শত ২১ টাকা। নতুন পাসপোর্ট আবেদনে সেবাগ্রহীতাদের ৭৬ দশমিক ২ শতাংশ পুলিশি তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে, ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ সেবাগ্রহীতাকে ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ দিতে হয়েছে। এছাড়া, ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ হিসেবে গড়ে ৭৯৭ টাকা দিতে হয়েছে। পুলিশ প্রতিবেদন প্রণয়নে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) কর্তৃক আবেদনপত্রে অযথা ত্রুটি খুঁজে বের করার চেষ্টা, জঙ্গি কার্যক্রম বা অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততার ভয় দেখানো, বাড়িতে না এসে চায়ের দোকান বা থানায় ডেকে পাঠানো, নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ বা ঘুষ দাবি করা এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা বিকাশে পাঠাতে বলার মাধ্যমে আবেদনকারীদের হয়রানি করার বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে গবেষণা প্রতিবেদনে। পাসপোর্ট বিতরণে অফিস নির্ধারিত সময়ের পর গড়ে ১২ দিন, সর্বোচ্চ ৪৫ দিন এবং সর্বনিম্ন ৪ দিন বিলম্ব হয়।
টিআইবির দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশে বলা হয়, পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিধান বাতিল এবং সকল নাগরিকের জন্য ‘বায়োমেট্রিক ডাটা ব্যাংক’ তৈরির পাশাপাশি স্মার্ট কার্ড তৈরি ও বিতরণ, ‘অপরাধী তথ্যভাণ্ডার’ আধুনিক ও যুগোপযোগী করে এই তথ্য ভাণ্ডারের সাথে পাসপোর্ট অফিস ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সংযোগ স্থাপন করতে হবে।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধে পুলিশ ভেরিফিকেশন বিধান বাতিল করতে হবে। আমরা এর আগের প্রতিবেদনেও তা-ই বলেছিলাম। সরকার ও পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে একমত। কিন্তু পুলিশের একটি অংশ তা বাতিল করতে চান না। পুলিশের রাখার ইচ্ছে না থাকলে তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে এটা বাতিল করতে পারে। টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, পাসপোর্ট কার্যালয়গুলোর ভেতরের কিছু কর্মকর্তাদের প্রশ্রয় না থাকলে দালালদের দৌরাত্ম্য থাকত না।
ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

তথ্য যাচাইয়ে শতকরা ৭৫ জনের কাছ থেকে ঘুষ নেয় পুলিশ পাসপোর্ট সেবায় টিআইবির ১২ দফা সুপারিশ

আপডেট সময় ০৭:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০১৭
জাতীয় ডেস্কঃ
পাসপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে শতকরা ৫৫ শতাংশ মানুষই দুর্নীতির শিকার হচ্ছে। এমনকি তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশনের সময় শতকরা ৭৫ দশমিক ৩ জন গ্রাহকের কাছ থেকে এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) পুলিশ ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ আদায় করছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টার-ন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল সোমবার টিআইবি’র মেঘমালা সম্মেলন কক্ষে ‘পাসপোর্ট সেবায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি এ খাতের সুশাসন নিশ্চিতে দেশের পাসপোর্ট কার্যালয়সমূহে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও লজিস্টিকসের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, আবেদনপত্র সত্যায়ন, প্রত্যয়ন ও পুলিশ প্রতিবেদনের বিধান বাতিল এবং দালালের দৌরাত্ম্য নিমূর্লসহ ১২ দফা স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ করেছে টিআইবি। ২০১৬ সেপ্টেম্বর থেকে মে ২০১৭ সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী মোট ১৪৫৩ জন সেবাগ্রহীতার ওপর জরিপ পরিচালনা এবং কেস স্টাডি করে পাসপোর্ট সেবা বিষয়ক এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাসপোর্ট সেবায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে আবেদনপত্র উত্তোলন, আবেদনপত্র জমাদান ও প্রি-এনরোলমেন্ট, বায়ো-এনরোলমেন্ট, পাসপোর্ট বিতরণ এবং দালালের সাথে চুক্তি। পাসপোর্ট অফিসের সেবায় ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ দেওয়ার গড় পরিমাণ ২ হাজার ২ শত ২১ টাকা। নতুন পাসপোর্ট আবেদনে সেবাগ্রহীতাদের ৭৬ দশমিক ২ শতাংশ পুলিশি তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে, ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ সেবাগ্রহীতাকে ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ দিতে হয়েছে। এছাড়া, ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ হিসেবে গড়ে ৭৯৭ টাকা দিতে হয়েছে। পুলিশ প্রতিবেদন প্রণয়নে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) কর্তৃক আবেদনপত্রে অযথা ত্রুটি খুঁজে বের করার চেষ্টা, জঙ্গি কার্যক্রম বা অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততার ভয় দেখানো, বাড়িতে না এসে চায়ের দোকান বা থানায় ডেকে পাঠানো, নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ বা ঘুষ দাবি করা এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা বিকাশে পাঠাতে বলার মাধ্যমে আবেদনকারীদের হয়রানি করার বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে গবেষণা প্রতিবেদনে। পাসপোর্ট বিতরণে অফিস নির্ধারিত সময়ের পর গড়ে ১২ দিন, সর্বোচ্চ ৪৫ দিন এবং সর্বনিম্ন ৪ দিন বিলম্ব হয়।
টিআইবির দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশে বলা হয়, পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিধান বাতিল এবং সকল নাগরিকের জন্য ‘বায়োমেট্রিক ডাটা ব্যাংক’ তৈরির পাশাপাশি স্মার্ট কার্ড তৈরি ও বিতরণ, ‘অপরাধী তথ্যভাণ্ডার’ আধুনিক ও যুগোপযোগী করে এই তথ্য ভাণ্ডারের সাথে পাসপোর্ট অফিস ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সংযোগ স্থাপন করতে হবে।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধে পুলিশ ভেরিফিকেশন বিধান বাতিল করতে হবে। আমরা এর আগের প্রতিবেদনেও তা-ই বলেছিলাম। সরকার ও পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে একমত। কিন্তু পুলিশের একটি অংশ তা বাতিল করতে চান না। পুলিশের রাখার ইচ্ছে না থাকলে তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে এটা বাতিল করতে পারে। টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, পাসপোর্ট কার্যালয়গুলোর ভেতরের কিছু কর্মকর্তাদের প্রশ্রয় না থাকলে দালালদের দৌরাত্ম্য থাকত না।