ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তফসিলের পর বিএনপির ‘অসহযোগ’ আন্দোলন

জাতীয় ডেস্কঃ

টানা পঞ্চমবারের মতো আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো।

এর আগে ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের পর দুই দিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। এরপর শুক্রবার ও শনিবার বাদে সপ্তাহের পাঁচদিনের মধ্যে দুই দিন করে চারদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে আসছে। সবমিলিয়ে বিএনপি এর আগে চার দফায় নয়দিন অবরোধ এবং একদিন হরতাল পালন করেছে।

সামনে বিএনপির কী ধরনের কর্মসূচি আসছে? একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে ঢাকা ঘেরাও ও ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েই ভাবছেন বিএনপি নেতারা।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘এখনই ঠিক করে বলা যাবে না, আমরা কী কর্মসূচি দেবো। প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি দেওয়া হবে। আগে তফসিল হোক, সেটা দেখেই সিনিয়র নেতারা বৈঠক করেই কর্মসূচি চূড়ান্ত করবেন।’

‘অসহযোগ’ বা ‘ঢাকা ঘেরাও’-এর কোনো কর্মসূচি আসছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসতে পারে। পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝেই আমরা চূড়ান্ত করব। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় করা হবে।’

এখন পর্যন্ত হরতাল ও অবরোধের যে কর্মসূচি বিএনপি পালন করেছে, তাতে কতটুকু সফলতা এসেছে? জানতে চাইলে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আমরা মনে করি পুরোপুরি সফল। সরকার যে ধরনের নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছে তার মধ্যেও জনগণ যে সহযোগিতা করছে তাতে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট। সরকার বাস চালানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু জনগণ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ফলে বাসেও যাত্রী হচ্ছে না, এই কারণে বলছি, আমরা পুরোপুরি সফল। আমাদের আন্দোলনে জনগণ সমর্থন দিচ্ছে। সামনের দিনেও আমরা সফল হবো ইনশাল্লাহ।’

সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে এসে গ্রেফতার এড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিএনপি নেতারা। এ কারণেই চলমান হরতাল-অবরোধে রাজপথ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন অনেকে। সাময়িক গা ঢাকা দেওয়া নেতারাও তফসিল ঘোষণা হলে চূড়ান্ত আন্দোলনে মাঠে নামবেন। বিএনপির মধ্যম সারির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তফসিলের পরদিন ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে। তখন আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। পালিয়ে থাকা নেতা-কর্মীরাও তখন মাঠে নামবেন। সর্বশক্তি নিয়েই তারা মাঠে নামবেন।

এ দফায় প্রথমেই গ্রেফতার হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক ও মিডিয়া সেলের প্রধান জহির উদ্দিন স্বপনসহ দলটির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। এছাড়া গত কয়েকদিনে সারাদেশে আট হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন বলে দাবি দলটির। এমন পরিস্থিতিতে গ্রেফতার এড়িয়ে আন্দোলন জোরদারে কৌশলী বিএনপি।

সামনের দিনের আন্দোলন নিয়ে বিএনপির ভাবনা জানতে চাইলে দলটির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি ঘোষণা হবে। এ নিয়ে দলের সিনিয়র নেতারা কাজ করছেন। তবে বিএনপির চলমান আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি দৃশ্যমান হয়েছে। সরকারের দমন পীড়ন উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষই কর্মসূচি সফল করে তুলছেন।’

বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণা পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা এমনকি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের নেতাদের পরামর্শ নিচ্ছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট, এলডিপি ও গণঅধিকার পরিষদসহ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি ইসলামী দলকে তফসিলকেন্দ্রিক আন্দোলনে পাশে চায় বিএনপি।

বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতারা সচিবালয় ঘেরাও, নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়ার কথাও বলেছেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলায় হরতাল-অবরোধ পালনে কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছে দলটি। সারাদেশ থেকে রাজধানী বিচ্ছিন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বিএনপি। ঘরে বসে গ্রেফতার না হয়ে তখন রাজপথে গ্রেফতার হওয়ার ব্যাপারেও নির্দেশনা আসবে দলের হাইকমান্ডের। এছাড়া বড় শোডাউন দেওয়ার পরিকল্পনা নিতে পারে তারা।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন যারা বাইরে আছেন তারা কর্মসূচি সফল করতে কাজ করছেন। অবরোধ পালনে রাজপথেই আছেন নেতাকর্মীরা। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত নেতা-কর্মীরা ঘরে ফিরবে না। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে কোনো পরিস্থিতিতে আমরা মাঠ ছাড়বো না। যেকোনো মুহূর্তে রাজপথে শুধু নেতা-কর্মীরাই নন, জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার দেখা যাবে। জনতার বিজয় সুনিশ্চিত।’

বিএনপির কর্মসূচিতে প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্নস্থানে বাসে আগুন দেওয়া হচ্ছে। আগুনের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে রাজধানীতে। ফায়ার সার্ভিস গত ২৮ অক্টোবর থেকে ১৩০টিরও বেশি বাসে আগুনের কথা জানিয়েছে। যদিও এসব ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দায়ী করা হলেও রিজভী আহমেদ দাবি করছেন ‘সরকারের এজেন্সি’ দিয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়ে তাদের দলের নেতা-কর্মীদের বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক চেয়েছেন পিটার হাস

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ইস্যুতে তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। সোমবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র স্টিফেন ইবেলি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। দলগুলো হলো-আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষকে (রাজনৈতিক দলগুলোকে) সহিংসতা পরিহার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না বলে বিবৃতিতে পুনরায় স্পষ্ট করেছে দূতাবাস।

বিবৃতিতে সংলাপ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষকে পূর্বশর্ত ছাড়াই সংলাপে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের জন্য ঘোষণা করা ভিসানীতির বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যারা গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করবে তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি কার্যকর থাকবে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণের হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সমীর কুমার দে। এই প্রতিবেদনের সব ধরনের দায়ভার ডয়চে ভেলের।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

তফসিলের পর বিএনপির ‘অসহযোগ’ আন্দোলন

আপডেট সময় ০৩:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৩

জাতীয় ডেস্কঃ

টানা পঞ্চমবারের মতো আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো।

এর আগে ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের পর দুই দিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। এরপর শুক্রবার ও শনিবার বাদে সপ্তাহের পাঁচদিনের মধ্যে দুই দিন করে চারদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে আসছে। সবমিলিয়ে বিএনপি এর আগে চার দফায় নয়দিন অবরোধ এবং একদিন হরতাল পালন করেছে।

সামনে বিএনপির কী ধরনের কর্মসূচি আসছে? একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে ঢাকা ঘেরাও ও ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েই ভাবছেন বিএনপি নেতারা।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘এখনই ঠিক করে বলা যাবে না, আমরা কী কর্মসূচি দেবো। প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি দেওয়া হবে। আগে তফসিল হোক, সেটা দেখেই সিনিয়র নেতারা বৈঠক করেই কর্মসূচি চূড়ান্ত করবেন।’

‘অসহযোগ’ বা ‘ঢাকা ঘেরাও’-এর কোনো কর্মসূচি আসছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসতে পারে। পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝেই আমরা চূড়ান্ত করব। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় করা হবে।’

এখন পর্যন্ত হরতাল ও অবরোধের যে কর্মসূচি বিএনপি পালন করেছে, তাতে কতটুকু সফলতা এসেছে? জানতে চাইলে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আমরা মনে করি পুরোপুরি সফল। সরকার যে ধরনের নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছে তার মধ্যেও জনগণ যে সহযোগিতা করছে তাতে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট। সরকার বাস চালানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু জনগণ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ফলে বাসেও যাত্রী হচ্ছে না, এই কারণে বলছি, আমরা পুরোপুরি সফল। আমাদের আন্দোলনে জনগণ সমর্থন দিচ্ছে। সামনের দিনেও আমরা সফল হবো ইনশাল্লাহ।’

সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে এসে গ্রেফতার এড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিএনপি নেতারা। এ কারণেই চলমান হরতাল-অবরোধে রাজপথ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন অনেকে। সাময়িক গা ঢাকা দেওয়া নেতারাও তফসিল ঘোষণা হলে চূড়ান্ত আন্দোলনে মাঠে নামবেন। বিএনপির মধ্যম সারির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তফসিলের পরদিন ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে। তখন আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। পালিয়ে থাকা নেতা-কর্মীরাও তখন মাঠে নামবেন। সর্বশক্তি নিয়েই তারা মাঠে নামবেন।

এ দফায় প্রথমেই গ্রেফতার হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক ও মিডিয়া সেলের প্রধান জহির উদ্দিন স্বপনসহ দলটির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। এছাড়া গত কয়েকদিনে সারাদেশে আট হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন বলে দাবি দলটির। এমন পরিস্থিতিতে গ্রেফতার এড়িয়ে আন্দোলন জোরদারে কৌশলী বিএনপি।

সামনের দিনের আন্দোলন নিয়ে বিএনপির ভাবনা জানতে চাইলে দলটির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি ঘোষণা হবে। এ নিয়ে দলের সিনিয়র নেতারা কাজ করছেন। তবে বিএনপির চলমান আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি দৃশ্যমান হয়েছে। সরকারের দমন পীড়ন উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষই কর্মসূচি সফল করে তুলছেন।’

বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণা পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা এমনকি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের নেতাদের পরামর্শ নিচ্ছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট, এলডিপি ও গণঅধিকার পরিষদসহ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি ইসলামী দলকে তফসিলকেন্দ্রিক আন্দোলনে পাশে চায় বিএনপি।

বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতারা সচিবালয় ঘেরাও, নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়ার কথাও বলেছেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলায় হরতাল-অবরোধ পালনে কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছে দলটি। সারাদেশ থেকে রাজধানী বিচ্ছিন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বিএনপি। ঘরে বসে গ্রেফতার না হয়ে তখন রাজপথে গ্রেফতার হওয়ার ব্যাপারেও নির্দেশনা আসবে দলের হাইকমান্ডের। এছাড়া বড় শোডাউন দেওয়ার পরিকল্পনা নিতে পারে তারা।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন যারা বাইরে আছেন তারা কর্মসূচি সফল করতে কাজ করছেন। অবরোধ পালনে রাজপথেই আছেন নেতাকর্মীরা। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত নেতা-কর্মীরা ঘরে ফিরবে না। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে কোনো পরিস্থিতিতে আমরা মাঠ ছাড়বো না। যেকোনো মুহূর্তে রাজপথে শুধু নেতা-কর্মীরাই নন, জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার দেখা যাবে। জনতার বিজয় সুনিশ্চিত।’

বিএনপির কর্মসূচিতে প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্নস্থানে বাসে আগুন দেওয়া হচ্ছে। আগুনের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে রাজধানীতে। ফায়ার সার্ভিস গত ২৮ অক্টোবর থেকে ১৩০টিরও বেশি বাসে আগুনের কথা জানিয়েছে। যদিও এসব ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দায়ী করা হলেও রিজভী আহমেদ দাবি করছেন ‘সরকারের এজেন্সি’ দিয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়ে তাদের দলের নেতা-কর্মীদের বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক চেয়েছেন পিটার হাস

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ইস্যুতে তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। সোমবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র স্টিফেন ইবেলি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। দলগুলো হলো-আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষকে (রাজনৈতিক দলগুলোকে) সহিংসতা পরিহার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না বলে বিবৃতিতে পুনরায় স্পষ্ট করেছে দূতাবাস।

বিবৃতিতে সংলাপ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষকে পূর্বশর্ত ছাড়াই সংলাপে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের জন্য ঘোষণা করা ভিসানীতির বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যারা গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করবে তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি কার্যকর থাকবে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণের হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সমীর কুমার দে। এই প্রতিবেদনের সব ধরনের দায়ভার ডয়চে ভেলের।