ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তিতাসের বর্তমান আসন ব্যবস্থা বহালে শুরু হলো নেতারা অস্তিত্বের লড়াই

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সীমানা পুর্নবিন্যাসের খসড়া তালিকা প্রকাশ করায় তিতাসে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয়পার্টির নেতাদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেজবুকে) খসড়া তালিকার পক্ষে বিপক্ষে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে চালাচ্ছেন একধরনের প্রতিযোগিতা। অনেকে আবার প্রকাশ্যে নিরব বা মতামত ব্যক্ত করলেও আড়ালে উল্টো ঘুরাচ্ছেন কলকাঠি।

আপিল করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে অনেক নেতা তাদের কর্মীদের আশ্বস্ত করছেন। এদিকে তালিকাটি প্রকাশ হওয়ার পর পুর্নবিন্যাসের বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। তবে সুশীল সমাজ মনে করেন এটা বহাল রাখা এখন স্থানীয় নেতাদের অস্তিত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন থেকে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) ও কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) নিয়ে সংসদীয় আসন পুর্নবিন্যাসের খসড়া প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা জাতীয়পার্টির সভাপতি আলহাজ্ব আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, তিতাসের রাজনীতি হলো ব্যক্তি স্বার্থের রাজনীতি। এলাকার উন্নয়নের ধারস্তে কেউ নেই। আগামী সংসদ নির্বাচনে ১৬জন প্রার্থী কোথায় তারা আজ? তবে মুল কথা হলো- দাউদকান্দির যে শোষণ ও অত্যাচার তিতাসবাসীকে সহ্য করতে হয়েছে। তার থেকে বের হয়ে আসার কারণেই তিতাসে নেতৃত্ব দেয়ার মতো নেতা তৈরী হয়েছে। আর এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে যা করার আমি করবো। আমি নিশ্চিত বর্তমান সংসদীয় আসনই বহাল থাকবে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও যুদ্ধকালীন প্লাটুন কর্মান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী বলেন, দাউদকান্দি ও তিতাস একত্রিত হলে হোমনা ও মেঘনার সাথে ভোটের ব্যবধানটা হয় ১লাখ ৬৯হাজার। আর বর্তমান অবস্থায় থাকলে তার ব্যবধান হয় মাত্র ৪৫হাজার ভোটের। ভৌগোলিক দিক থেকে দাউদকান্দি সাথে মেঘনাকে মানায়। তবে আসন বিন্যাস বর্তমান অবস্থায় রাখার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনে আগামী সপ্তাহে আপিল করবো।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন সরকার বলেন, তিতাস দাউদকান্দি থেকে পৃথক হয়েছে; এক্ষেত্রে দাউদকান্দির সাথেই তিতাসকে মানায়। তবে ওয়ান ইলেভেনের সময় তাৎকালিন সরকার বা নির্বাচন কমিশন যে আসন বিন্যাস করেছিল সেদিনও বিএনপি থেকে কোন আপত্তি জানানো হয়নি; এখন যদি সরকার বা নির্বাচন কমিশন কোন সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি সেটার প্রতিও সমর্থন জানাবে।

কুমিল্লা (উত্তর) জেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সারওয়ার হোসেন বাবু বলেন, আঞ্চলিক অর্থে বর্তমানে যেভাবে সংসদীয় আসন আছে সেটাই সঠিক। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি এখন কোথায়? তিনি সজাগ থাকলে তো বিষয়টি খসড়া তালিকাতে উঠার কথা নয়। আসনটি পুর্নবিন্যাস হলে এর দায়ভার মাননীয় সংসদ সদস্য এড়িয়ে যেতে পারেন না।

কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাদেক হোসেন সরকার বলেন, বর্তমানে সরকার কিভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে এটা সরকারের উপর নির্ভর করছে। তারা তাদের স্বার্থের জন্য কিভাবে আসন বিন্যাস করবে সেটা তাদের এখতিয়ার। তবে কমিশন থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে তাই স্থানীয় বিএনপি মেনে নেবে। সংসদীয় আসন বহাল বা পুর্নবিন্যাস হলে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে বা ভোটের কোন প্রভাব পড়বে না যদি না সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনে আন্তরিক না হয়।

তিতাস উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, আমাদের আন্দোলনের যে ফলটা তিতাসবাসী পেয়েছিল তা এত দ্রুত মিলিয়ে যাবে তা ভাবতে পারছিনা। তবে বর্তমানে নেতৃত্ব দেয়া তিতাসের নেতাকর্মীদের হাল ধরতে হবে; তাদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে।

এদিকে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আওয়ামীলীগ ও বিএনপির কিছু কিছু নেতাকর্মী প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বা মতামত ব্যক্ত করলেও আসল পরিচয়টা দেখাচ্ছে অন্যভাবে। যার প্রতিফলন ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেজবুক ব্যবহারকারীর কেউ কেউ প্রতিবাদ আবার কেউ কেউ অভিনন্দন জানিয়ে শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। তবে খসড়ার বিরুদ্ধে বুধবার বিকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কড়িকান্দি বাজারে দলীয় কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে দাউদকান্দি উপজেলা থেকে উত্তরাঞ্চাল খ্যাত ৯টি ইউনিয়ন কর্তন করে তিতাস উপজেলা গঠিত হয়। ২০০৮ সালে সংসদীয় আসনের ব্যাপক পরিবর্তন হলে দাউদকান্দি ও মেঘনা নিয়ে কুমিল্লা-১ এবং হোমনা ও তিতাস নিয়ে কুমিল্লা-২ সংসদীয় আসন গঠিত হয়।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

তিতাসের বর্তমান আসন ব্যবস্থা বহালে শুরু হলো নেতারা অস্তিত্বের লড়াই

আপডেট সময় ০২:২১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ মার্চ ২০১৮
নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সীমানা পুর্নবিন্যাসের খসড়া তালিকা প্রকাশ করায় তিতাসে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয়পার্টির নেতাদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেজবুকে) খসড়া তালিকার পক্ষে বিপক্ষে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে চালাচ্ছেন একধরনের প্রতিযোগিতা। অনেকে আবার প্রকাশ্যে নিরব বা মতামত ব্যক্ত করলেও আড়ালে উল্টো ঘুরাচ্ছেন কলকাঠি।

আপিল করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে অনেক নেতা তাদের কর্মীদের আশ্বস্ত করছেন। এদিকে তালিকাটি প্রকাশ হওয়ার পর পুর্নবিন্যাসের বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। তবে সুশীল সমাজ মনে করেন এটা বহাল রাখা এখন স্থানীয় নেতাদের অস্তিত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন থেকে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) ও কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) নিয়ে সংসদীয় আসন পুর্নবিন্যাসের খসড়া প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা জাতীয়পার্টির সভাপতি আলহাজ্ব আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, তিতাসের রাজনীতি হলো ব্যক্তি স্বার্থের রাজনীতি। এলাকার উন্নয়নের ধারস্তে কেউ নেই। আগামী সংসদ নির্বাচনে ১৬জন প্রার্থী কোথায় তারা আজ? তবে মুল কথা হলো- দাউদকান্দির যে শোষণ ও অত্যাচার তিতাসবাসীকে সহ্য করতে হয়েছে। তার থেকে বের হয়ে আসার কারণেই তিতাসে নেতৃত্ব দেয়ার মতো নেতা তৈরী হয়েছে। আর এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে যা করার আমি করবো। আমি নিশ্চিত বর্তমান সংসদীয় আসনই বহাল থাকবে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও যুদ্ধকালীন প্লাটুন কর্মান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী বলেন, দাউদকান্দি ও তিতাস একত্রিত হলে হোমনা ও মেঘনার সাথে ভোটের ব্যবধানটা হয় ১লাখ ৬৯হাজার। আর বর্তমান অবস্থায় থাকলে তার ব্যবধান হয় মাত্র ৪৫হাজার ভোটের। ভৌগোলিক দিক থেকে দাউদকান্দি সাথে মেঘনাকে মানায়। তবে আসন বিন্যাস বর্তমান অবস্থায় রাখার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনে আগামী সপ্তাহে আপিল করবো।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন সরকার বলেন, তিতাস দাউদকান্দি থেকে পৃথক হয়েছে; এক্ষেত্রে দাউদকান্দির সাথেই তিতাসকে মানায়। তবে ওয়ান ইলেভেনের সময় তাৎকালিন সরকার বা নির্বাচন কমিশন যে আসন বিন্যাস করেছিল সেদিনও বিএনপি থেকে কোন আপত্তি জানানো হয়নি; এখন যদি সরকার বা নির্বাচন কমিশন কোন সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি সেটার প্রতিও সমর্থন জানাবে।

কুমিল্লা (উত্তর) জেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সারওয়ার হোসেন বাবু বলেন, আঞ্চলিক অর্থে বর্তমানে যেভাবে সংসদীয় আসন আছে সেটাই সঠিক। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি এখন কোথায়? তিনি সজাগ থাকলে তো বিষয়টি খসড়া তালিকাতে উঠার কথা নয়। আসনটি পুর্নবিন্যাস হলে এর দায়ভার মাননীয় সংসদ সদস্য এড়িয়ে যেতে পারেন না।

কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাদেক হোসেন সরকার বলেন, বর্তমানে সরকার কিভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে এটা সরকারের উপর নির্ভর করছে। তারা তাদের স্বার্থের জন্য কিভাবে আসন বিন্যাস করবে সেটা তাদের এখতিয়ার। তবে কমিশন থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে তাই স্থানীয় বিএনপি মেনে নেবে। সংসদীয় আসন বহাল বা পুর্নবিন্যাস হলে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে বা ভোটের কোন প্রভাব পড়বে না যদি না সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনে আন্তরিক না হয়।

তিতাস উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, আমাদের আন্দোলনের যে ফলটা তিতাসবাসী পেয়েছিল তা এত দ্রুত মিলিয়ে যাবে তা ভাবতে পারছিনা। তবে বর্তমানে নেতৃত্ব দেয়া তিতাসের নেতাকর্মীদের হাল ধরতে হবে; তাদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে।

এদিকে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আওয়ামীলীগ ও বিএনপির কিছু কিছু নেতাকর্মী প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বা মতামত ব্যক্ত করলেও আসল পরিচয়টা দেখাচ্ছে অন্যভাবে। যার প্রতিফলন ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেজবুক ব্যবহারকারীর কেউ কেউ প্রতিবাদ আবার কেউ কেউ অভিনন্দন জানিয়ে শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। তবে খসড়ার বিরুদ্ধে বুধবার বিকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কড়িকান্দি বাজারে দলীয় কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে দাউদকান্দি উপজেলা থেকে উত্তরাঞ্চাল খ্যাত ৯টি ইউনিয়ন কর্তন করে তিতাস উপজেলা গঠিত হয়। ২০০৮ সালে সংসদীয় আসনের ব্যাপক পরিবর্তন হলে দাউদকান্দি ও মেঘনা নিয়ে কুমিল্লা-১ এবং হোমনা ও তিতাস নিয়ে কুমিল্লা-২ সংসদীয় আসন গঠিত হয়।