ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তিতাসে একাধিক ব্রিজের পাশে বাড়ি নির্মাণ ৫০০ একর ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা তিতাস উপজেলা সদর কড়িকান্দি ইউনিয়নে অপরিকল্পিতভাবে একাধিক ব্রিজের মুখে বসতবাড়ি নির্মাণ, সড়ক ও জনপথের পানি অপসারণের খাল দখল করে মার্কেট নির্মাণ করায় প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ফলে উক্ত ইউনিয়নের কড়িকান্দি ও বন্দরামপুর গ্রামের প্রায় পাঁচশতাধিক কৃষক এবার আলু, টমেটো, খিরা, গম, মরিচ জাতীয় ফসল ও ধান উত্পাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলা সদর কড়িকান্দি ইউনিয়নে তিনটি ব্লকের মধ্যে কড়িকান্দি গ্রামের পশ্চিমপাশ থেকে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পূর্বপাশ এবং কড়িকান্দি-রাজাপুর সড়ক থেকে কড়িকান্দি মুন্সি সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১৬০ একর এবং গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পশ্চিমপাশ, এশিয়া জেনারেল হাসপাতালের উত্তরপাশ ও কলাকান্দি গ্রামের পূর্বপাশে ৩০ একর আবাদি জমি রয়েছে। একই ইউনিয়নের বন্দরামপুর ব্লকের কড়িকান্দি মজিদপুর সড়কের দক্ষিণপাশ, মজিদপুর-মৌটুপী সড়কের উত্তরপাশ ও গৌরীপুর-হোমনা সড়কের মৌটুপী-কড়িকান্দি অংশের পশ্চিমপাশ পর্যন্ত ৩১০ একর আবাদি জমি রয়েছে। বর্তমানে যার সম্পূর্ণ অংশে জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কড়িকান্দি গ্রামের পশ্চিমপাশে ফসলি জমি থেকে পানি সরবরাহের একমাত্র মাধ্যম কড়িকান্দি বাজার স্টেশন সংলগ্ন গৌরীপুর-হোমনা সড়কের কালভার্টটির পশ্চিমপাশে মাটি ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। উক্ত কালভার্টের মুখ থেকে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পূর্বপাশ ঘেঁষে একটি খাল ছিল যা একাধিক পাইপের সাথে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে এ অংশে মাটি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করায় পানি অপসারণ হচ্ছে না। গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পশ্চিমপাশ ও কলাকান্দি গ্রামের পূর্বপাশের জমি থেকে পানি অপসারণের একমাত্র ব্রিজ ছিল কলাকান্দি-আলীরগাঁও সড়কের এশিয়া জেনারেল হাসপাতালের পশ্চিমপাশে, যার উভয়পাশ মাটি ভরাট করে একতলা ও দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

কড়িকান্দি, কলাকান্দি ও বন্দরামপুর গ্রামের একাধিক কৃষক জানান, আগে যদি পানি চলাচলের মাধ্যমগুলো ভরাট করা না হতো তাহলে আজ এ অবস্থায় পড়তে হতো না। তবে অনেকে এটাকে কপালের লিখন বলে আখ্যায়িত করেন বলেন, কি আর করার?

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. কামরুল হাসান মিতু বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে এ অবস্থায় কৃষকদের পড়তে হতো না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মকিমা বেগম জানান, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করায় তিতাসের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দখল হওয়া খালগুলোর প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্ব স্ব ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

মুরাদনগর ভয়াবহ আগুন কয়ক কাটি টাকার ক্ষতি 

তিতাসে একাধিক ব্রিজের পাশে বাড়ি নির্মাণ ৫০০ একর ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা

আপডেট সময় ০১:৪০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০১৭
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা তিতাস উপজেলা সদর কড়িকান্দি ইউনিয়নে অপরিকল্পিতভাবে একাধিক ব্রিজের মুখে বসতবাড়ি নির্মাণ, সড়ক ও জনপথের পানি অপসারণের খাল দখল করে মার্কেট নির্মাণ করায় প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ফলে উক্ত ইউনিয়নের কড়িকান্দি ও বন্দরামপুর গ্রামের প্রায় পাঁচশতাধিক কৃষক এবার আলু, টমেটো, খিরা, গম, মরিচ জাতীয় ফসল ও ধান উত্পাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলা সদর কড়িকান্দি ইউনিয়নে তিনটি ব্লকের মধ্যে কড়িকান্দি গ্রামের পশ্চিমপাশ থেকে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পূর্বপাশ এবং কড়িকান্দি-রাজাপুর সড়ক থেকে কড়িকান্দি মুন্সি সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১৬০ একর এবং গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পশ্চিমপাশ, এশিয়া জেনারেল হাসপাতালের উত্তরপাশ ও কলাকান্দি গ্রামের পূর্বপাশে ৩০ একর আবাদি জমি রয়েছে। একই ইউনিয়নের বন্দরামপুর ব্লকের কড়িকান্দি মজিদপুর সড়কের দক্ষিণপাশ, মজিদপুর-মৌটুপী সড়কের উত্তরপাশ ও গৌরীপুর-হোমনা সড়কের মৌটুপী-কড়িকান্দি অংশের পশ্চিমপাশ পর্যন্ত ৩১০ একর আবাদি জমি রয়েছে। বর্তমানে যার সম্পূর্ণ অংশে জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কড়িকান্দি গ্রামের পশ্চিমপাশে ফসলি জমি থেকে পানি সরবরাহের একমাত্র মাধ্যম কড়িকান্দি বাজার স্টেশন সংলগ্ন গৌরীপুর-হোমনা সড়কের কালভার্টটির পশ্চিমপাশে মাটি ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। উক্ত কালভার্টের মুখ থেকে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পূর্বপাশ ঘেঁষে একটি খাল ছিল যা একাধিক পাইপের সাথে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে এ অংশে মাটি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করায় পানি অপসারণ হচ্ছে না। গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পশ্চিমপাশ ও কলাকান্দি গ্রামের পূর্বপাশের জমি থেকে পানি অপসারণের একমাত্র ব্রিজ ছিল কলাকান্দি-আলীরগাঁও সড়কের এশিয়া জেনারেল হাসপাতালের পশ্চিমপাশে, যার উভয়পাশ মাটি ভরাট করে একতলা ও দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

কড়িকান্দি, কলাকান্দি ও বন্দরামপুর গ্রামের একাধিক কৃষক জানান, আগে যদি পানি চলাচলের মাধ্যমগুলো ভরাট করা না হতো তাহলে আজ এ অবস্থায় পড়তে হতো না। তবে অনেকে এটাকে কপালের লিখন বলে আখ্যায়িত করেন বলেন, কি আর করার?

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. কামরুল হাসান মিতু বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে এ অবস্থায় কৃষকদের পড়তে হতো না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মকিমা বেগম জানান, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করায় তিতাসের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দখল হওয়া খালগুলোর প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্ব স্ব ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।