ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তিতাসে চাঁদাবাজি নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধসহ আহত ৭

তিতাস(কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার তিতাসের গোমতী নদীতে বালুবোঝাই জাহাজ থেকে চাঁদাবাজি নিয়ে দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ সাতজন আহত হয়েছে। আহতদের  মধ্যে গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের গোমতী নদীর বটতলী ঘাটের কাছে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধরা হলেন হালিম সিরাজী, সুমন, মনির, জালাল এবং বাবু।এলাকাবাসী ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বর্ষা আসলেই গোমতী নদী দিয়ে বালুবোঝাই জাহাজ নিয়ে বালু ব্যবসায়ীরা বালু বিক্রি করার জন্য নিয়ে যায়। এ  সময় যুবলীগ নামধারী এক শ্রেণির চাঁদাবাজ প্রতিটি বালুবোঝাই জাহাজ থেকে ৪-৫ শ টাকা চাঁদা আদায় করে। শুক্রবার ইফতারের পর বালুবোঝাই ট্রলার থেকে যুবলীগের ইসলাম ও মহসিনের নেতৃত্বে একটি পক্ষ চাঁদা আদায় করছিল। ওই সময় নদীপথে যুবলীগ নেতা হালিম সিরাজী পক্ষের সদস্যরা ট্রলারযোগে গজারিয়া থেকে গোমতী নদী দিয়ে তিতাসে আসছিল। এ সময় যুবলীগের ইসলাম ও মহসিনের পক্ষের সদস্যরা তাদেরকে ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হলে হালিম পক্ষের পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত মহসিন পক্ষের দুইজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

যুবলীগ নেতা হালিম সিরাজী বলেন, “আমরা একজন মেহমান নিয়ে গজারিয়া থেকে নদীপথে ট্রলার দিয়ে গোমতী নদী দিয়ে তিতাসে যাচ্ছিলাম। পথে তিতাসের বটতলী ঘাটের নিকট পৌঁছালে মহসিন পক্ষের লোকজন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নদীতে বালুর শিপ থেকে চাঁদা আদায় করছিল। তখন আমাদের ট্রলারটি তার পাশ দিয়ে আসার সময় হঠাৎ আমাদের ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় আমিসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ করে মারাত্মক আহত হই।

অপর পক্ষ যুবলীগ নেতা মহসিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা ট্রলার নিয়ে আমাদের কয়েকজন বন্ধু মিলে ঘাটে বসেছিলাম। ‌এ সময় হালিম তার ট্রলার নিয়ে দেশীয় বন্দুক নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়। ”

তিতাস থানা ওসি মো. নুরুল আমিন বলেন, “শুনেছি নদীতে বালুরশিপে চাঁদাবাজি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর শুনেছি। আমার নিকট কোনো  পক্ষই অভিযোগ করেনি। তবে এটি আমার এলাকায় না। তা দাউদকান্দি এলাকার মধ্যে পড়েছে। ” এদিকে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, “গোমতী নদীটি আমার এলাকা দিয়ে তিতাসে প্রবেশ করেছে। এটি মজিদপুর ইউনিয়নের বটতলী ঘাটে ঘটনাটি ঘটেছে। তিতাস উপজেলা  দুই পক্ষের লোকজন বালুরশিপে চাাঁদাবাজির ঘটনাটি ঘটেছে এবং হতাহত হয়েছে। বিষয়টির দায়িত্ব ওই থানার ওপর বর্তায়। ”

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

তিতাসে চাঁদাবাজি নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধসহ আহত ৭

আপডেট সময় ০২:২৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জুন ২০১৭
তিতাস(কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার তিতাসের গোমতী নদীতে বালুবোঝাই জাহাজ থেকে চাঁদাবাজি নিয়ে দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ সাতজন আহত হয়েছে। আহতদের  মধ্যে গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের গোমতী নদীর বটতলী ঘাটের কাছে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধরা হলেন হালিম সিরাজী, সুমন, মনির, জালাল এবং বাবু।এলাকাবাসী ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বর্ষা আসলেই গোমতী নদী দিয়ে বালুবোঝাই জাহাজ নিয়ে বালু ব্যবসায়ীরা বালু বিক্রি করার জন্য নিয়ে যায়। এ  সময় যুবলীগ নামধারী এক শ্রেণির চাঁদাবাজ প্রতিটি বালুবোঝাই জাহাজ থেকে ৪-৫ শ টাকা চাঁদা আদায় করে। শুক্রবার ইফতারের পর বালুবোঝাই ট্রলার থেকে যুবলীগের ইসলাম ও মহসিনের নেতৃত্বে একটি পক্ষ চাঁদা আদায় করছিল। ওই সময় নদীপথে যুবলীগ নেতা হালিম সিরাজী পক্ষের সদস্যরা ট্রলারযোগে গজারিয়া থেকে গোমতী নদী দিয়ে তিতাসে আসছিল। এ সময় যুবলীগের ইসলাম ও মহসিনের পক্ষের সদস্যরা তাদেরকে ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হলে হালিম পক্ষের পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত মহসিন পক্ষের দুইজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

যুবলীগ নেতা হালিম সিরাজী বলেন, “আমরা একজন মেহমান নিয়ে গজারিয়া থেকে নদীপথে ট্রলার দিয়ে গোমতী নদী দিয়ে তিতাসে যাচ্ছিলাম। পথে তিতাসের বটতলী ঘাটের নিকট পৌঁছালে মহসিন পক্ষের লোকজন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নদীতে বালুর শিপ থেকে চাঁদা আদায় করছিল। তখন আমাদের ট্রলারটি তার পাশ দিয়ে আসার সময় হঠাৎ আমাদের ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় আমিসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ করে মারাত্মক আহত হই।

অপর পক্ষ যুবলীগ নেতা মহসিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা ট্রলার নিয়ে আমাদের কয়েকজন বন্ধু মিলে ঘাটে বসেছিলাম। ‌এ সময় হালিম তার ট্রলার নিয়ে দেশীয় বন্দুক নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়। ”

তিতাস থানা ওসি মো. নুরুল আমিন বলেন, “শুনেছি নদীতে বালুরশিপে চাঁদাবাজি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর শুনেছি। আমার নিকট কোনো  পক্ষই অভিযোগ করেনি। তবে এটি আমার এলাকায় না। তা দাউদকান্দি এলাকার মধ্যে পড়েছে। ” এদিকে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, “গোমতী নদীটি আমার এলাকা দিয়ে তিতাসে প্রবেশ করেছে। এটি মজিদপুর ইউনিয়নের বটতলী ঘাটে ঘটনাটি ঘটেছে। তিতাস উপজেলা  দুই পক্ষের লোকজন বালুরশিপে চাাঁদাবাজির ঘটনাটি ঘটেছে এবং হতাহত হয়েছে। বিষয়টির দায়িত্ব ওই থানার ওপর বর্তায়। ”