ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেবিদ্বারে স্বামীর দেওয়াা আগুনে দগ্ধ সাদিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

মনির খাঁনঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় যৌতুকের জন্য স্বামীর দেওয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হওয়া গৃহবধূ সাদিয়া ৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪ টায় ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে মারা যান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

তিনি জানান, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শুনেছি সাদিয়া মারা গেছে। এ ঘটনা আগের মামলার সঙ্গে পরিবার আরেকটি হত্যা মামলা যোগ করতে পারবে। এ ঘটনায় বুধবার (২৭ এপ্রিল) রাতে অভিযান পরিচালনা করে স্বামী আসাদ সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। সে এখন পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে মুখ খোলেনি। আমরা তাকে আদালতের মাধ্যমের কারাগারে পাঠিয়েছি। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সাদিয়ার স্বামী আসাদ সরকার গুনাইঘর গ্রামের নুরু সরকারের ছেলে। নিহত সাদিয়া একই উপজেলার পদ্মকোট গ্রামের মো: অপুল সরকারের মেয়ে।

নিহত সাদিয়ার ভাই খাইরুল বলেন, ডাক্তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেও আমার বোনকে বাঁচাতে পারেনি। সে মৃত্যুর আগের ভিডিও বার্তায় তার স্বামীকে অভিযুক্ত করে জবানবন্দি দিয়েছে। আশা করি, গ্রেফতার আসামিকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। বর্তমানে সাদিয়ার মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বারের গ্রামের বাড়ির পারিবারিক করবস্থানে দাফন করানো হবে।
ঘটনার একদিন পর হাসপাতাল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাদিয়া ভিডিও বার্তায় বলেছিল, আসাদ আমাকে কয়েকবার বলেছেন যে পেট্্েরাল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করবে। গত ৫ মাস ধরে যৌতুকের জন্য আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছেন। আমার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই শুধু বলত, বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আয়। টাকা না দেওয়ায় আমার শরীরে কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় আমার স্বামী। আমি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আমাকে বাধা দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলা সদরের বানিয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় সাদিয়াকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার দুইদিন পর সাদিয়ার বাবা মো: ফরিদুল আলম অপুল সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। বুধবার রাতে আসাদ সরকারকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

মুরাদনগরে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

দেবিদ্বারে স্বামীর দেওয়াা আগুনে দগ্ধ সাদিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

আপডেট সময় ০৯:৫০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২২

মনির খাঁনঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় যৌতুকের জন্য স্বামীর দেওয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হওয়া গৃহবধূ সাদিয়া ৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪ টায় ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে মারা যান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

তিনি জানান, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শুনেছি সাদিয়া মারা গেছে। এ ঘটনা আগের মামলার সঙ্গে পরিবার আরেকটি হত্যা মামলা যোগ করতে পারবে। এ ঘটনায় বুধবার (২৭ এপ্রিল) রাতে অভিযান পরিচালনা করে স্বামী আসাদ সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। সে এখন পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে মুখ খোলেনি। আমরা তাকে আদালতের মাধ্যমের কারাগারে পাঠিয়েছি। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সাদিয়ার স্বামী আসাদ সরকার গুনাইঘর গ্রামের নুরু সরকারের ছেলে। নিহত সাদিয়া একই উপজেলার পদ্মকোট গ্রামের মো: অপুল সরকারের মেয়ে।

নিহত সাদিয়ার ভাই খাইরুল বলেন, ডাক্তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেও আমার বোনকে বাঁচাতে পারেনি। সে মৃত্যুর আগের ভিডিও বার্তায় তার স্বামীকে অভিযুক্ত করে জবানবন্দি দিয়েছে। আশা করি, গ্রেফতার আসামিকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। বর্তমানে সাদিয়ার মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বারের গ্রামের বাড়ির পারিবারিক করবস্থানে দাফন করানো হবে।
ঘটনার একদিন পর হাসপাতাল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাদিয়া ভিডিও বার্তায় বলেছিল, আসাদ আমাকে কয়েকবার বলেছেন যে পেট্্েরাল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করবে। গত ৫ মাস ধরে যৌতুকের জন্য আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছেন। আমার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই শুধু বলত, বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আয়। টাকা না দেওয়ায় আমার শরীরে কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় আমার স্বামী। আমি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আমাকে বাধা দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলা সদরের বানিয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় সাদিয়াকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার দুইদিন পর সাদিয়ার বাবা মো: ফরিদুল আলম অপুল সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। বুধবার রাতে আসাদ সরকারকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ।