ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশে ফিরতে দিন গুনছেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ

জাতীয় ডেস্কঃ

দেশে ফিরতে উদগ্রীব হয়ে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তবে আইনি বাধার কারণে এখনই ফিরতে পারছেন না তিনি।

ভারতে অবৈধ প্রবেশের দায়ে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট-৪৬’ এ করা মামলায় বর্তমানে শর্তসাপেক্ষে সেখানেই জামিনে আছেন তিনি।

দেশটির মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই রায় ঘোষণা হতে পারে। কোনো সাজা না হলে রায়ের পরপরই তিনি দেশে ফিরে আসবেন।

রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত তিনি মেঘালয় রাজ্য ছাড়তে পারবেন না এবং সপ্তাহে ১ দিন শিলং পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ও ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দেয়ার শর্তে জামিন পান সালাহ উদ্দিন।

আদালতের অনুমতি নিয়ে কয়েক মাস আগে দিল্লিতে চিকিৎসা করাতে যান তিনি। সেখানে তার কিডনি ও ঘাড়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। নিয়মিত চেকআপের জন্য এখনও তাকে মাঝে মাঝে দিল্লি যেতে হয়।

সালাহ উদ্দিন এখন শিলংয়ে সানরাইজ গেস্ট হাউসে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে একজন সহকারী আছেন। তিনিই তার দেখভাল করেন। এছাড়া তার ভাতিজারা কয়েক মাস পরপর সেখানে যান।

ফেরা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সালাহ উদ্দিন আহমেদ টেলিফোনে একটি পত্রিকার কাছে বলেন, আমি তো ইচ্ছা করে এখানে থাকছি না। আদালতের নির্দেশেই আমাকে এখানে থাকতে হচ্ছে। মামলার রায় ঘোষণার পর আমি একদিনও এখানে থাকতে চাই না। রায়ের পরপরই আমি দেশে ফিরে যাব।

এ বিএনপি নেতা বলেন, ‘শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ হইনি। কিছুদিন আগে দিল্লিতে অপারেশন হয়েছে। নিয়মিত চেকআপের জন্য আমাকে শিলংয়ের বাইরে যেতে হয়।’

মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত মামলার কাজ অনেক দূর এগিয়ে এনেছেন। আশা করি দ্রুত রায় হবে। দেশবাসী এবং নেতাকর্মীদের দোয়ায় মামলার রায় আমার পক্ষে আসবে বলে আশা করছি।

দলীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) সাক্ষ্য গ্রহণও শেষ। এখন চলছে জেরা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। এরপরই রায় দেবেন আদালত।

সূত্র আরও জানায়, প্রয়োজন ছাড়া সালাহ উদ্দিন গেস্ট হাউস থেকে বের হন না। বিভিন্ন খবরের কাগজ, টিভি, অনলাইন নিউজ পোর্টাল দেখে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির খবর রাখেন। দলের নেতাকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীরাও সালাহ উদ্দিনের খোঁজখবর রাখছেন।

এ প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ জানান, তিনি (সালাহ উদ্দিন) এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি। এখনও চিকিৎসার মধ্যে আছেন।

তিনি আরও বলেন, সন্তানের পড়ালেখার কারণে নিয়মিত শিলংয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ছেলেমেয়েরা যখন ছুটি পায়, তখন তাদের নিয়ে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করি। তবে এবার ঈদ সালাহ উদ্দিনের সঙ্গেই কাটিয়েছেন হাসিনা আহমেদ।

২০১৫ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হন ওই সময়ে দলটির মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা সালাহ উদ্দিন আহমেদ।

এরপর থেকে পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে বাসা থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।

নিখোঁজের ৬২ দিন পর ২০১৫ সালের ১১ মে শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকায় খোঁজ মেলে সালাহ উদ্দিনের। উদভ্রান্তের মতো ঘোরাফেরার সময় সেখানকার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখানকার পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সালাহ উদ্দিনের স্ত্রীকে ফোন করে। খবর পেয়েই শিলংয়ে ছুটে যান স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

চিকিৎসা চলা অবস্থায়ই তার বিরুদ্ধে করা মামলার চার্জশিট দেয়া হয়। সিটি পুলিশ মেঘালয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ চার্জশিট দেয়।

এতে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারা অনুযায়ী বৈধ ডকুমেন্ট ছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। চার্জশিট হওয়ার আগেই মামলা চালানোর জন্য শিলংয়ের বিশিষ্ট আইনজীবী এসপি মোহান্তকে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি সালাহ উদ্দিনের পক্ষে আইনগত দিকগুলো দেখছেন। খবর যুগান্তর।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

দেশে ফিরতে দিন গুনছেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ

আপডেট সময় ০২:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০১৭
জাতীয় ডেস্কঃ

দেশে ফিরতে উদগ্রীব হয়ে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তবে আইনি বাধার কারণে এখনই ফিরতে পারছেন না তিনি।

ভারতে অবৈধ প্রবেশের দায়ে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট-৪৬’ এ করা মামলায় বর্তমানে শর্তসাপেক্ষে সেখানেই জামিনে আছেন তিনি।

দেশটির মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই রায় ঘোষণা হতে পারে। কোনো সাজা না হলে রায়ের পরপরই তিনি দেশে ফিরে আসবেন।

রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত তিনি মেঘালয় রাজ্য ছাড়তে পারবেন না এবং সপ্তাহে ১ দিন শিলং পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ও ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দেয়ার শর্তে জামিন পান সালাহ উদ্দিন।

আদালতের অনুমতি নিয়ে কয়েক মাস আগে দিল্লিতে চিকিৎসা করাতে যান তিনি। সেখানে তার কিডনি ও ঘাড়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। নিয়মিত চেকআপের জন্য এখনও তাকে মাঝে মাঝে দিল্লি যেতে হয়।

সালাহ উদ্দিন এখন শিলংয়ে সানরাইজ গেস্ট হাউসে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে একজন সহকারী আছেন। তিনিই তার দেখভাল করেন। এছাড়া তার ভাতিজারা কয়েক মাস পরপর সেখানে যান।

ফেরা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সালাহ উদ্দিন আহমেদ টেলিফোনে একটি পত্রিকার কাছে বলেন, আমি তো ইচ্ছা করে এখানে থাকছি না। আদালতের নির্দেশেই আমাকে এখানে থাকতে হচ্ছে। মামলার রায় ঘোষণার পর আমি একদিনও এখানে থাকতে চাই না। রায়ের পরপরই আমি দেশে ফিরে যাব।

এ বিএনপি নেতা বলেন, ‘শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ হইনি। কিছুদিন আগে দিল্লিতে অপারেশন হয়েছে। নিয়মিত চেকআপের জন্য আমাকে শিলংয়ের বাইরে যেতে হয়।’

মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত মামলার কাজ অনেক দূর এগিয়ে এনেছেন। আশা করি দ্রুত রায় হবে। দেশবাসী এবং নেতাকর্মীদের দোয়ায় মামলার রায় আমার পক্ষে আসবে বলে আশা করছি।

দলীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) সাক্ষ্য গ্রহণও শেষ। এখন চলছে জেরা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। এরপরই রায় দেবেন আদালত।

সূত্র আরও জানায়, প্রয়োজন ছাড়া সালাহ উদ্দিন গেস্ট হাউস থেকে বের হন না। বিভিন্ন খবরের কাগজ, টিভি, অনলাইন নিউজ পোর্টাল দেখে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির খবর রাখেন। দলের নেতাকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীরাও সালাহ উদ্দিনের খোঁজখবর রাখছেন।

এ প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ জানান, তিনি (সালাহ উদ্দিন) এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি। এখনও চিকিৎসার মধ্যে আছেন।

তিনি আরও বলেন, সন্তানের পড়ালেখার কারণে নিয়মিত শিলংয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ছেলেমেয়েরা যখন ছুটি পায়, তখন তাদের নিয়ে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করি। তবে এবার ঈদ সালাহ উদ্দিনের সঙ্গেই কাটিয়েছেন হাসিনা আহমেদ।

২০১৫ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হন ওই সময়ে দলটির মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা সালাহ উদ্দিন আহমেদ।

এরপর থেকে পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে বাসা থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।

নিখোঁজের ৬২ দিন পর ২০১৫ সালের ১১ মে শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকায় খোঁজ মেলে সালাহ উদ্দিনের। উদভ্রান্তের মতো ঘোরাফেরার সময় সেখানকার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখানকার পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সালাহ উদ্দিনের স্ত্রীকে ফোন করে। খবর পেয়েই শিলংয়ে ছুটে যান স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

চিকিৎসা চলা অবস্থায়ই তার বিরুদ্ধে করা মামলার চার্জশিট দেয়া হয়। সিটি পুলিশ মেঘালয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ চার্জশিট দেয়।

এতে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারা অনুযায়ী বৈধ ডকুমেন্ট ছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। চার্জশিট হওয়ার আগেই মামলা চালানোর জন্য শিলংয়ের বিশিষ্ট আইনজীবী এসপি মোহান্তকে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি সালাহ উদ্দিনের পক্ষে আইনগত দিকগুলো দেখছেন। খবর যুগান্তর।