ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নেপাল দূর্ঘটনায় নিহত বাঞ্ছারামপুরের নব দম্পত্তি ‘‘আঁখির বাবা-এখনো খুজে বেড়ায় সেই বিয়ের সাজে মেয়ের মুখ!’’

ফয়সল আহমেদ খান,বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকেঃ

‘‘১৩ মার্চ।২০১৮।সকাল ১১,২০মিনিট।গতকাল ১২ মার্চ ২.২০মিনিটে এই নেপালে বাংলাদেশ থেকে আসা একটি বেসরকারি বিমান ৬৭জন যাত্রী নিয়ে ল্যান্ড করার সময় বিধ্বস্ত হয়।ঘটনাস্থলে মারা যায় ২৩জন বাংলাদেশী।এ সংবাদ পেয়ে ছুটে যাই ১৩ তাং সকালের ফ্লাইটে।সেই নেপাল।কারন,যে ফ্লাইটটি ক্রাশ করে,সেটি ছিলো আমার একমাত্র সদ্য বিবাহিতা আখিমনি।

ফ্ল্যাশব্যাক,নেপাল-১৩ মার্চ ও আখির পিতার স্থৃতি রোমন্থন

নেপালের ত্রিভূবন এভিয়েশনের কাছেই নেপাল সরকারি হাসপাতালের ফ্রিজেন মর্গ।সারিবদ্ধভাবে একের পর এক ইউএস-বাংলা প্লেনক্রাশে নিহতদের লাশ সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে।শান্তির প্রতীক সাদার পরিবর্তে সবগুলো শবদেহ কষ্টের প্রতীক নীল কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বরফ ঠান্ডার মধ্যেও বিশাল কক্ষের চারদিকে পুঁড়ে যাওয়া লাশের তেতোঁ গন্ধ।অন্য সময় হলে দম আটকে আসতো। কিন্তু,এখন হচ্ছে না।কারন,আমি আমার মেয়েকে খুজছি।আমি আমার কলিজার টুকরো সোনামনি(আখিমনি)কে খুজছি।একজন পিতা,তার নিজের ঔরসজাত সন্তানের লাশ খোজা কি নিদারুন কষ্টের তা আজ আমি ছাড়া কেউ বুঝবে না। তারপরও,তার নিথরদেহটি আমি দেখতে পাগল প্রায়। এখানে সকলেই মুখে মাস্ক পড়ে যাত্রীদের সনাক্তকরনের কাজ করছেন।কেউবা নেপালী,আবার কেউ বাংলাদেশী।বাঙ্গালী,হাসপাতালের লোক সহ নানা জাতের লোকজন আছে ভেতরে।নেপাল সিভিল এভিয়েশনের লোকজনই বেশী।তাদের কথা ঠিকঠাক বুঝা যাচ্ছে না।

নিম্নস্তরের কর্মচারীরা নেপালের মাতৃভাষা ও একটু উচু টাইপের কর্মকর্তারা ইংরেজী-নেপালী উভয় ভাষায় কথা বলছিলেন। নেপাল হাসপাতালের মর্গ বিভাগের এক কর্তা আমার দিকে তাকিয়ে ২৩জন স্পটডেড বডির মধ্যে একটি একটি করে খুজতে ইশারা করেন।আমি খুজতে থাকি। এক,দুই,তিন…। শরীর কাঁপছে,নানা অজানা আশংকায়।৭ নাম্বারে যেয়ে ডেড বডি দেখি। নারী। মুখমন্ডল পুঁড়ে ছাঁই হয়ে গেছে।সারা শরীর বিমানের আগুনে পুড়ে একাকার।এরমধ্যে ৭ নাম্বার ডেড বডিটার সারা শরীর পুড়ে গেলেও হয়তো আমাকে চিহ্নিত করনের জন্য বিধাতা দেহুটির বা হাতটি তালুটি পুড়তে দেয়নি।সেটি দেখে বুঝতে পারি।আমার রক্তের বাধন আখিমনি সে। কারন মাত্র ৩ মার্চ তার বিয়ে হয়,মিনহাজের সাথে।সে বিয়ের মেহেদীর রং,আঙ্গুলের অনামিকায় হিরের আংটি তখনো চক্চক্ করছে।বিমানের হাজার ডিগ্রী সে: তাপমাত্রাও তাকে কাবু করতে পারেনি। আমি মর্গের অফিসারকে বললাম,হ্যা-পেয়েছি।খুজে পেয়েছি আমার সোনামনিকে।এরপর,বুকফাঁটা আর্তনাত…।ঘন্টাখানেক পর আমার জ্ঞান ফিরে।

জ্ঞান ফিরার পর,এক বাঙ্গালীকে নিয়ে নেপালী কর্মকর্তা বলেন সনাক্ত করলেন কি করে?মানে ওরা জানতে চাইছে সারা শরীর যে নিথর দেহটি বিমানের তীব্র আগুনে পুড়ে ভষ্ম,সেটি হতে কি করে শতভাগ নিশ্চিত হলাম,এটি-ই আমার মেয়ে।আমার আখি মনি?আমি ধীরে ধীরে জবাব দেই।বুঝিয়ে বলি মেহেদী ও আংটির ফ্ল্যাশব্যাক।
বলতে থাকি,বুঝাতে থাকি,প্রমান করতে থাকি …সেই মেহেদী রাঙ্গানো হাত।যা গত ৩ মার্চ বিয়ের দিন রাঙ্গানো হয়েছিলো। সেই ডায়ামন্ডের আংটি।সোনামনির এনগেইজমেন্ট-এ পরিয়েছিলো ওর শশুড়।তারপরৃ এখনো হাতের মেহেদী মুছেনি। যে মেহেদী রং আনন্দের,তা আজ হয়ে উঠেছে কষ্টের। বিয়ের আঙটি যে আঙুলে, সেটি এখন নিথর, অনুভূতিহীন। তবে সেই আঙুলে মেহেদীর ছোপ ছোপ রঙ।’’এভাবেই আখি মনির পিতা কান্নাজড়িত কন্ঠে রফিকুল ইসলাম পেশকার মিয়া এক এই প্রতিবেদককে তার রামপুরার বাসায় বৃহস্পতিবার(২২/০৩/২০১৮)সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে  অশ্রুসজল চোঁখে বলছিলেন ।

নেপালে হানিমুন করতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী গ্রামের রফিকুল ইসলাম পেশকার মিয়ার মেয়ে আঁখি ও তার স্বামী মারা যায়। চলতি মার্চ মাসের ৩ তারিখে তাদের বিয়ে হয়েছিল। মিনহাজের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাতাকান্দি গ্রামে।থাকতো চট্রগ্রামে।ব্যবসা করতো আমেরিকায়।২০১৪ সালের এই মার্চ মাসেই তাদের প্রেমের শুরু।টানা ৪ বছর প্রেম করে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ধূমধাম করে ৩ মার্চ বিয়ে হয়। ‘হিমালয় কন্যার দেশ নেপালে হানিমুন করবে’ তা আপ বিয়ের আগেই ঠিক করে রেখেছিলো’’-জানায় আখির ১ বছরের ছোট ভাই সাকিব। নবদম্পত্তি বিয়ের পর উঠেছিলো ঢাকার ধানমন্ডির একটি নতুন ফ্লাটে। আখিমনিদের স্থায়ী বসতবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদীর দক্ষিণপাড়ার সরকার বাড়িতে।

ঢাকার রামপুরায় বসবাসরত পেশকার মিয়া বলেন,-‘আমার মেয়ে খুব মেধাবী ছিলো।তাকে খুব আদর করতাম।বড় মেয়ে বলে কথা।আদর করে ওকে সোনামনি করে ডাকলে সে খুব খুশী হতো।এশিয়ান ইউনির্ভাসিটিতে মাষ্টার্স পাশ করে আমাদের সম্মতিতে গত ৩ মার্চ বেশ ধূমধাম করে বিয়ে হয়,আখির।মেয়ের ইচ্ছে অনুযায়ী নেপালে যাওয়ার জন্য গত সপ্তাহে টিকিট বুকিং দেয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানে।বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া মৃতদের তালিকার ১৮ ও ১৯ নং সিরিয়ালে রয়েছে এই হতভাগ্যদের নামের তালিকা।

পিঠাপিঠি ভাইবোন বা দুই ভাইবোন খুব কাছের বন্ধুর মতো ছিলো সাকিব ও আখি মনি।আগের দিন দুই ভাইবোনের মধ্যে মোবাইল নিয়ে খুনসুটি ঝগড়া হয়। সাকিব জানায়,-‘আপু এয়ারপোর্টে গিয়েও আমাকে ফোন দেয়।বলে আমাকে যদি অবহেলা করিস,আমি কিন্তু আর ফিরবো না’।

১২মার্চ সকাল ১১টায় এয়ারপোর্টে পৌছে দিয়ে আসে সাকিব ছাড়া পরিবারের সবাই।যাবার সময় কি এক অজানা আশংকায় আখিমনি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন।সেই অজানা আশংকাই সত্যি হলো। ২ বেজে ২০ মিনিটে তার নতুন বর মিনহাজ বিন নাছির সহ বিমানটি ক্রাশের স্থলেই আগুনে পুড়ে যায় বলে ধারনা করা হচ্ছে।আখি ও তার স্বামী মিনহাজের লাশ এখনো নেপাল হতে দেশে আসে। গিয়েছিলো তরতাজা এক নতুন দম্পত্তি।হানিমুন করে ফিরবে বলে।কিন্তু ফিরে লাশ হয়ে।কফিনে মধ্যে বন্ধু লাশ।আখিঁমনি-তুমি চীর শান্তিতে ঘুমাও-সে প্রত্যাশা সবার।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপাল দূর্ঘটনায় নিহত বাঞ্ছারামপুরের নব দম্পত্তি ‘‘আঁখির বাবা-এখনো খুজে বেড়ায় সেই বিয়ের সাজে মেয়ের মুখ!’’

আপডেট সময় ০১:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মার্চ ২০১৮
ফয়সল আহমেদ খান,বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকেঃ

‘‘১৩ মার্চ।২০১৮।সকাল ১১,২০মিনিট।গতকাল ১২ মার্চ ২.২০মিনিটে এই নেপালে বাংলাদেশ থেকে আসা একটি বেসরকারি বিমান ৬৭জন যাত্রী নিয়ে ল্যান্ড করার সময় বিধ্বস্ত হয়।ঘটনাস্থলে মারা যায় ২৩জন বাংলাদেশী।এ সংবাদ পেয়ে ছুটে যাই ১৩ তাং সকালের ফ্লাইটে।সেই নেপাল।কারন,যে ফ্লাইটটি ক্রাশ করে,সেটি ছিলো আমার একমাত্র সদ্য বিবাহিতা আখিমনি।

ফ্ল্যাশব্যাক,নেপাল-১৩ মার্চ ও আখির পিতার স্থৃতি রোমন্থন

নেপালের ত্রিভূবন এভিয়েশনের কাছেই নেপাল সরকারি হাসপাতালের ফ্রিজেন মর্গ।সারিবদ্ধভাবে একের পর এক ইউএস-বাংলা প্লেনক্রাশে নিহতদের লাশ সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে।শান্তির প্রতীক সাদার পরিবর্তে সবগুলো শবদেহ কষ্টের প্রতীক নীল কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বরফ ঠান্ডার মধ্যেও বিশাল কক্ষের চারদিকে পুঁড়ে যাওয়া লাশের তেতোঁ গন্ধ।অন্য সময় হলে দম আটকে আসতো। কিন্তু,এখন হচ্ছে না।কারন,আমি আমার মেয়েকে খুজছি।আমি আমার কলিজার টুকরো সোনামনি(আখিমনি)কে খুজছি।একজন পিতা,তার নিজের ঔরসজাত সন্তানের লাশ খোজা কি নিদারুন কষ্টের তা আজ আমি ছাড়া কেউ বুঝবে না। তারপরও,তার নিথরদেহটি আমি দেখতে পাগল প্রায়। এখানে সকলেই মুখে মাস্ক পড়ে যাত্রীদের সনাক্তকরনের কাজ করছেন।কেউবা নেপালী,আবার কেউ বাংলাদেশী।বাঙ্গালী,হাসপাতালের লোক সহ নানা জাতের লোকজন আছে ভেতরে।নেপাল সিভিল এভিয়েশনের লোকজনই বেশী।তাদের কথা ঠিকঠাক বুঝা যাচ্ছে না।

নিম্নস্তরের কর্মচারীরা নেপালের মাতৃভাষা ও একটু উচু টাইপের কর্মকর্তারা ইংরেজী-নেপালী উভয় ভাষায় কথা বলছিলেন। নেপাল হাসপাতালের মর্গ বিভাগের এক কর্তা আমার দিকে তাকিয়ে ২৩জন স্পটডেড বডির মধ্যে একটি একটি করে খুজতে ইশারা করেন।আমি খুজতে থাকি। এক,দুই,তিন…। শরীর কাঁপছে,নানা অজানা আশংকায়।৭ নাম্বারে যেয়ে ডেড বডি দেখি। নারী। মুখমন্ডল পুঁড়ে ছাঁই হয়ে গেছে।সারা শরীর বিমানের আগুনে পুড়ে একাকার।এরমধ্যে ৭ নাম্বার ডেড বডিটার সারা শরীর পুড়ে গেলেও হয়তো আমাকে চিহ্নিত করনের জন্য বিধাতা দেহুটির বা হাতটি তালুটি পুড়তে দেয়নি।সেটি দেখে বুঝতে পারি।আমার রক্তের বাধন আখিমনি সে। কারন মাত্র ৩ মার্চ তার বিয়ে হয়,মিনহাজের সাথে।সে বিয়ের মেহেদীর রং,আঙ্গুলের অনামিকায় হিরের আংটি তখনো চক্চক্ করছে।বিমানের হাজার ডিগ্রী সে: তাপমাত্রাও তাকে কাবু করতে পারেনি। আমি মর্গের অফিসারকে বললাম,হ্যা-পেয়েছি।খুজে পেয়েছি আমার সোনামনিকে।এরপর,বুকফাঁটা আর্তনাত…।ঘন্টাখানেক পর আমার জ্ঞান ফিরে।

জ্ঞান ফিরার পর,এক বাঙ্গালীকে নিয়ে নেপালী কর্মকর্তা বলেন সনাক্ত করলেন কি করে?মানে ওরা জানতে চাইছে সারা শরীর যে নিথর দেহটি বিমানের তীব্র আগুনে পুড়ে ভষ্ম,সেটি হতে কি করে শতভাগ নিশ্চিত হলাম,এটি-ই আমার মেয়ে।আমার আখি মনি?আমি ধীরে ধীরে জবাব দেই।বুঝিয়ে বলি মেহেদী ও আংটির ফ্ল্যাশব্যাক।
বলতে থাকি,বুঝাতে থাকি,প্রমান করতে থাকি …সেই মেহেদী রাঙ্গানো হাত।যা গত ৩ মার্চ বিয়ের দিন রাঙ্গানো হয়েছিলো। সেই ডায়ামন্ডের আংটি।সোনামনির এনগেইজমেন্ট-এ পরিয়েছিলো ওর শশুড়।তারপরৃ এখনো হাতের মেহেদী মুছেনি। যে মেহেদী রং আনন্দের,তা আজ হয়ে উঠেছে কষ্টের। বিয়ের আঙটি যে আঙুলে, সেটি এখন নিথর, অনুভূতিহীন। তবে সেই আঙুলে মেহেদীর ছোপ ছোপ রঙ।’’এভাবেই আখি মনির পিতা কান্নাজড়িত কন্ঠে রফিকুল ইসলাম পেশকার মিয়া এক এই প্রতিবেদককে তার রামপুরার বাসায় বৃহস্পতিবার(২২/০৩/২০১৮)সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে  অশ্রুসজল চোঁখে বলছিলেন ।

নেপালে হানিমুন করতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী গ্রামের রফিকুল ইসলাম পেশকার মিয়ার মেয়ে আঁখি ও তার স্বামী মারা যায়। চলতি মার্চ মাসের ৩ তারিখে তাদের বিয়ে হয়েছিল। মিনহাজের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাতাকান্দি গ্রামে।থাকতো চট্রগ্রামে।ব্যবসা করতো আমেরিকায়।২০১৪ সালের এই মার্চ মাসেই তাদের প্রেমের শুরু।টানা ৪ বছর প্রেম করে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ধূমধাম করে ৩ মার্চ বিয়ে হয়। ‘হিমালয় কন্যার দেশ নেপালে হানিমুন করবে’ তা আপ বিয়ের আগেই ঠিক করে রেখেছিলো’’-জানায় আখির ১ বছরের ছোট ভাই সাকিব। নবদম্পত্তি বিয়ের পর উঠেছিলো ঢাকার ধানমন্ডির একটি নতুন ফ্লাটে। আখিমনিদের স্থায়ী বসতবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদীর দক্ষিণপাড়ার সরকার বাড়িতে।

ঢাকার রামপুরায় বসবাসরত পেশকার মিয়া বলেন,-‘আমার মেয়ে খুব মেধাবী ছিলো।তাকে খুব আদর করতাম।বড় মেয়ে বলে কথা।আদর করে ওকে সোনামনি করে ডাকলে সে খুব খুশী হতো।এশিয়ান ইউনির্ভাসিটিতে মাষ্টার্স পাশ করে আমাদের সম্মতিতে গত ৩ মার্চ বেশ ধূমধাম করে বিয়ে হয়,আখির।মেয়ের ইচ্ছে অনুযায়ী নেপালে যাওয়ার জন্য গত সপ্তাহে টিকিট বুকিং দেয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানে।বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া মৃতদের তালিকার ১৮ ও ১৯ নং সিরিয়ালে রয়েছে এই হতভাগ্যদের নামের তালিকা।

পিঠাপিঠি ভাইবোন বা দুই ভাইবোন খুব কাছের বন্ধুর মতো ছিলো সাকিব ও আখি মনি।আগের দিন দুই ভাইবোনের মধ্যে মোবাইল নিয়ে খুনসুটি ঝগড়া হয়। সাকিব জানায়,-‘আপু এয়ারপোর্টে গিয়েও আমাকে ফোন দেয়।বলে আমাকে যদি অবহেলা করিস,আমি কিন্তু আর ফিরবো না’।

১২মার্চ সকাল ১১টায় এয়ারপোর্টে পৌছে দিয়ে আসে সাকিব ছাড়া পরিবারের সবাই।যাবার সময় কি এক অজানা আশংকায় আখিমনি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন।সেই অজানা আশংকাই সত্যি হলো। ২ বেজে ২০ মিনিটে তার নতুন বর মিনহাজ বিন নাছির সহ বিমানটি ক্রাশের স্থলেই আগুনে পুড়ে যায় বলে ধারনা করা হচ্ছে।আখি ও তার স্বামী মিনহাজের লাশ এখনো নেপাল হতে দেশে আসে। গিয়েছিলো তরতাজা এক নতুন দম্পত্তি।হানিমুন করে ফিরবে বলে।কিন্তু ফিরে লাশ হয়ে।কফিনে মধ্যে বন্ধু লাশ।আখিঁমনি-তুমি চীর শান্তিতে ঘুমাও-সে প্রত্যাশা সবার।