ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পঞ্চম শ্রেণিতে এবার উপজেলাভিত্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা

মুরাদনগর বার্তা ডেস্কঃ

পঞ্চম শ্রেণি থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) তুলে দেওয়ার প্রস্তাব আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিসভায় ওঠছে। এতে ২০০৯ সাল থেকে চালু হওয়া এ পরীক্ষা পঞ্চম শ্রেণি থেকে উঠিয়ে অষ্টম শ্রেণি শেষে চালু করার প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ১৮ মে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীতকরণের ঘোষণা দেয় সরকার। এরপরই এ পরীক্ষা বাতিলের দাবি ওঠে অভিভাবক মহল থেকে। তবে পিইসি বাতিল হলেও পরীক্ষার বোঝা থেকে এখনই মুক্তি পাচ্ছে না পঞ্চম শ্রেণিপড়ূয়া শিশুরা। তাদের জন্য এবার নতুন করে চালু হচ্ছে উপজেলাভিত্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা। এ জন্য একই সঙ্গে আরেকটি প্রস্তাব তৈরি করেছে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটিও আগামীকাল মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের জন্য পেশ করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন খালিদ বলেন, সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হলেও সরকার এই শিশুদের জন্য বরাদ্দ থাকা প্রাথমিক বৃত্তির টাকা দিয়ে যেতে চায়। এই বৃত্তি দিতে গেলে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দরকার। তাই জাতীয়ভাবে আয়োজিত সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে স্থানীয়ভাবে উপজেলাভিত্তিক একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বৃত্তি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এ প্রস্তাবের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো আমলাদের মধ্যে একটি পক্ষ চায়, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বাড়ূক এবং অবৈধ নোটবই আর কোচিং-বাণিজ্য তুঙ্গে ওঠুক। তারা এ দেশের লাখো অভিভাবক আর বরেণ্য শিক্ষাবিদের বক্তব্য মনে হয় বুঝতে পারছেন না। কোমলমতি শিশুদের ওপর থেকে যে কোনো মূল্যে বাড়তি পরীক্ষার চাপ আমরা কমাতে চাই।

তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে চালুর পর শিক্ষার মানোন্নয়ন বা পড়াশোনার ব্যাপারে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহী করে গড়ে তোলাথ কোনো উদ্দেশ্যই সফল করতে পারেনি এ পরীক্ষা। বরং এতে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের ধারা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

মো. হুমায়ুন খালিদ আরও বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণি শেষে বাচ্চাদের একটি মূল্যায়ন হওয়া উচিত। প্রতিবছর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচন করতাম পিইসি পরীক্ষার মাধ্যমেই। এখন সেটা উঠে গেলে আমাদের মূল্যায়নের তো একটা ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেটাই হবে উপজেলাওয়ারি অভিন্ন প্রশ্নে মূল্যায়ন পরীক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনেই এই পরীক্ষা হবে। তবে এটা কোনোভাবেই পাবলিক পরীক্ষা নয়।

জানা যায়, গত বছর প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্তের সংখ্যা ছিল ৫৫ হাজার। চলতি বছর থেকে সে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮২ হাজার ৫০০। মূল্যয়ন পরীক্ষার মাধ্যমেও বৃত্তির এই সংখ্যা ঠিক রাখা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিনজন ছাত্র ও তিনজন ছাত্রীকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। আর ট্যালেন্টপুলের বৃত্তি নির্ধারিত হবে উপজেলার পরীক্ষার্থীর সংখ্যার হিসাবে। এই ক্যাটাগরিতে বৃত্তির সংখ্যা ৩৩ হাজার। তবে যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে, তাকে আর সাধারণ বৃত্তির হিসাবে আনা হবে না।

জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষানীতি অনুযায়ী মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে বৃত্তি দেওয়া হলে তা অত্যন্ত ভালো প্রস্তাব। তবে এটা যেন কোনোভাবেই পাবলিক পরীক্ষা হয়ে না ওঠে। আমরাও পঞ্চম শ্রেণি শেষে একটি মূল্যায়ন চাই। নয়তো শিক্ষাক্ষেত্রে শূন্যতার সৃষ্টি হবে। তবে এই মূল্যায়ন পরীক্ষা বাস্তবায়নের আগেই শিক্ষাবিদ ও তৃণমূলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পুরো বিষয়টি ঠিক করতে হবে।’

জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করে গত ১৮ মে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে সরকার। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রচলন শুরু হয়। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় জেএসসি পরীক্ষা। আগে পঞ্চম শ্রেণিতে আলাদা করে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হলেও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী চালুর পর থেকে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চম শ্রেণিতে এবার উপজেলাভিত্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা

আপডেট সময় ০৮:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুন ২০১৬
মুরাদনগর বার্তা ডেস্কঃ

পঞ্চম শ্রেণি থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) তুলে দেওয়ার প্রস্তাব আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিসভায় ওঠছে। এতে ২০০৯ সাল থেকে চালু হওয়া এ পরীক্ষা পঞ্চম শ্রেণি থেকে উঠিয়ে অষ্টম শ্রেণি শেষে চালু করার প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ১৮ মে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীতকরণের ঘোষণা দেয় সরকার। এরপরই এ পরীক্ষা বাতিলের দাবি ওঠে অভিভাবক মহল থেকে। তবে পিইসি বাতিল হলেও পরীক্ষার বোঝা থেকে এখনই মুক্তি পাচ্ছে না পঞ্চম শ্রেণিপড়ূয়া শিশুরা। তাদের জন্য এবার নতুন করে চালু হচ্ছে উপজেলাভিত্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা। এ জন্য একই সঙ্গে আরেকটি প্রস্তাব তৈরি করেছে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটিও আগামীকাল মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের জন্য পেশ করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন খালিদ বলেন, সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হলেও সরকার এই শিশুদের জন্য বরাদ্দ থাকা প্রাথমিক বৃত্তির টাকা দিয়ে যেতে চায়। এই বৃত্তি দিতে গেলে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দরকার। তাই জাতীয়ভাবে আয়োজিত সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে স্থানীয়ভাবে উপজেলাভিত্তিক একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বৃত্তি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এ প্রস্তাবের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো আমলাদের মধ্যে একটি পক্ষ চায়, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বাড়ূক এবং অবৈধ নোটবই আর কোচিং-বাণিজ্য তুঙ্গে ওঠুক। তারা এ দেশের লাখো অভিভাবক আর বরেণ্য শিক্ষাবিদের বক্তব্য মনে হয় বুঝতে পারছেন না। কোমলমতি শিশুদের ওপর থেকে যে কোনো মূল্যে বাড়তি পরীক্ষার চাপ আমরা কমাতে চাই।

তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে চালুর পর শিক্ষার মানোন্নয়ন বা পড়াশোনার ব্যাপারে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহী করে গড়ে তোলাথ কোনো উদ্দেশ্যই সফল করতে পারেনি এ পরীক্ষা। বরং এতে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের ধারা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

মো. হুমায়ুন খালিদ আরও বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণি শেষে বাচ্চাদের একটি মূল্যায়ন হওয়া উচিত। প্রতিবছর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচন করতাম পিইসি পরীক্ষার মাধ্যমেই। এখন সেটা উঠে গেলে আমাদের মূল্যায়নের তো একটা ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেটাই হবে উপজেলাওয়ারি অভিন্ন প্রশ্নে মূল্যায়ন পরীক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনেই এই পরীক্ষা হবে। তবে এটা কোনোভাবেই পাবলিক পরীক্ষা নয়।

জানা যায়, গত বছর প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্তের সংখ্যা ছিল ৫৫ হাজার। চলতি বছর থেকে সে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮২ হাজার ৫০০। মূল্যয়ন পরীক্ষার মাধ্যমেও বৃত্তির এই সংখ্যা ঠিক রাখা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিনজন ছাত্র ও তিনজন ছাত্রীকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। আর ট্যালেন্টপুলের বৃত্তি নির্ধারিত হবে উপজেলার পরীক্ষার্থীর সংখ্যার হিসাবে। এই ক্যাটাগরিতে বৃত্তির সংখ্যা ৩৩ হাজার। তবে যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে, তাকে আর সাধারণ বৃত্তির হিসাবে আনা হবে না।

জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষানীতি অনুযায়ী মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে বৃত্তি দেওয়া হলে তা অত্যন্ত ভালো প্রস্তাব। তবে এটা যেন কোনোভাবেই পাবলিক পরীক্ষা হয়ে না ওঠে। আমরাও পঞ্চম শ্রেণি শেষে একটি মূল্যায়ন চাই। নয়তো শিক্ষাক্ষেত্রে শূন্যতার সৃষ্টি হবে। তবে এই মূল্যায়ন পরীক্ষা বাস্তবায়নের আগেই শিক্ষাবিদ ও তৃণমূলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পুরো বিষয়টি ঠিক করতে হবে।’

জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করে গত ১৮ মে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে সরকার। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রচলন শুরু হয়। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় জেএসসি পরীক্ষা। আগে পঞ্চম শ্রেণিতে আলাদা করে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হলেও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী চালুর পর থেকে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।