ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বরুড়া উপজেলা আ. লীগের সম্মেলন ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৮

বিশেষ প্রতিনিধি:

শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার বরুড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আহবান করে। একই দিনে ওই স্থানে উপজেলা চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল সমর্থিত নেতাকর্মীরা সম্মেলনের ডাক দেয়। এ ঘটনায় সকাল থেকেই উপজেলা সদরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় ইট-পাটকেলের আঘাতে পুলিশের এএসআই দোলনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশ ৩৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ ঘটনায় বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিসুল ইসলাম বরুড়া ঈদগাহ মাঠে সম্মেলন স্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেন। উভয় গ্রুপ বিকল্প স্থানে সভা করে পাল্টা-পাল্টি কমিটি ঘোষণা করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই সম্মেলন স্থল ও উপজেলা সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে সমবেত হয়। এক পর্যায়ে দুই গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। এ সময় সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয় অন্তত ৮ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে সম্মেলনস্থলে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

পরে স্থানীয় এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল গ্রুপ বরুড়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলাম বরুড়া মধ্যম বাজারে জিরো পয়েন্টে সভা করে। উভয় নেতা পৃথক স্থানে সভা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের পৃথক দুইটি কমিটি ঘোষণা করে। একটি কমিটিতে এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল সভাপতি ও নাছির উদ্দিন লিংকন সাধারণ সম্পাদক এবং অপরটিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলাম সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

তবে পৃথক দুটি সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কিংবা জেলা আওয়ামী লীগের কোনও নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল এমপি বলেন, ‘আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। আমরা সম্মেলন আহ্বান করেছি। এখানে আওয়ামী লীগের অন্য কেউ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে কিনা জানি না।’

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল আমাদের না জানিয়ে সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। তাছাড়া জেলা কমিটির সভাপতি ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের বাইরে আছেন। তাকে না জানিয়ে এভাবে সম্মেলন করা দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী। তাই আমরাও কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।’

সন্ধ্যায় বরুড়া থানার ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনিসুল ইসলাম ঈদগাহ মাঠের সম্মেলন স্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেন। সম্মেলন নিয়ে দুইপক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এএসআই দোলনসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, ‘একই স্থানে দুইপক্ষ সম্মেলন আহবান করায় সংঘর্ষের আশংকায় উপজেলা প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।’

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

বরুড়া উপজেলা আ. লীগের সম্মেলন ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৮

আপডেট সময় ০৫:৪০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধি:

শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার বরুড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আহবান করে। একই দিনে ওই স্থানে উপজেলা চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল সমর্থিত নেতাকর্মীরা সম্মেলনের ডাক দেয়। এ ঘটনায় সকাল থেকেই উপজেলা সদরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় ইট-পাটকেলের আঘাতে পুলিশের এএসআই দোলনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশ ৩৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ ঘটনায় বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিসুল ইসলাম বরুড়া ঈদগাহ মাঠে সম্মেলন স্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেন। উভয় গ্রুপ বিকল্প স্থানে সভা করে পাল্টা-পাল্টি কমিটি ঘোষণা করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই সম্মেলন স্থল ও উপজেলা সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে সমবেত হয়। এক পর্যায়ে দুই গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। এ সময় সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয় অন্তত ৮ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে সম্মেলনস্থলে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

পরে স্থানীয় এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল গ্রুপ বরুড়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলাম বরুড়া মধ্যম বাজারে জিরো পয়েন্টে সভা করে। উভয় নেতা পৃথক স্থানে সভা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের পৃথক দুইটি কমিটি ঘোষণা করে। একটি কমিটিতে এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল সভাপতি ও নাছির উদ্দিন লিংকন সাধারণ সম্পাদক এবং অপরটিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলাম সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

তবে পৃথক দুটি সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কিংবা জেলা আওয়ামী লীগের কোনও নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল এমপি বলেন, ‘আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। আমরা সম্মেলন আহ্বান করেছি। এখানে আওয়ামী লীগের অন্য কেউ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে কিনা জানি না।’

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল আমাদের না জানিয়ে সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। তাছাড়া জেলা কমিটির সভাপতি ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের বাইরে আছেন। তাকে না জানিয়ে এভাবে সম্মেলন করা দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী। তাই আমরাও কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।’

সন্ধ্যায় বরুড়া থানার ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনিসুল ইসলাম ঈদগাহ মাঠের সম্মেলন স্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেন। সম্মেলন নিয়ে দুইপক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এএসআই দোলনসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, ‘একই স্থানে দুইপক্ষ সম্মেলন আহবান করায় সংঘর্ষের আশংকায় উপজেলা প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।’