ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাঞ্ছারামপুরে শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি প্রতিবাদে মানববন্ধন

আশিকুর রহমান বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া ) প্রতিনিধিঃ 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নৌসাদ মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে সম্প্রতি শিক্ষা সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন এলাকাবাসী। টাকা ছাড়া কোনো ফাইল স্বাক্ষর করেন না তিনি, তাকে টাকা দিলে সবই হয় বাঞ্ছারামপুর শিক্ষা অফিসে। এসব কারণে দিনদিন ফুঁসে উঠছে বাঞ্ছারামপুরের সাধারণ শিক্ষক সমাজ। বেশ কয়েকজন শিক্ষক আছেন যারা শ্রেণীকক্ষে পাঠদান না করে শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষে নিয়মিত আড্ডা দেন এবং এসব শিক্ষকরা তার সব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নৌসাদ মাহমুদ টাকার বিনিময়ে শিক্ষক বদলি, গত মার্চ মাসে সহকারী শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলেও মে মাসে মার্চ মাসের তারিখ দেখিয়ে মনাইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাঞ্ছারামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও কড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মনাইখালী বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত স্লিপের টাকা থেকে প্রত্যেক স্কুল থেকে দুই হাজার করে টাকা আদায়, ট্রেজারি অফিসের নাম করে এক হাজার টাকা করে আত্মসাৎ, স্কুলের প্রথম, দ্বিতীয় সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষার ফি ব্যাংকে জমা না নিয়ে নিজে গ্রহণ করে প্রশ্ন ছাপিয়ে স্কুলে বিতরণ করেছেন, গত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২টি মডেল টেস্ট পরীক্ষা নিয়েছেন। প্রতিটি পরীক্ষার ফি বাবদ ৩০/৩৫ টাকা করে আদায় করেছেন। বই রাখার কোনো গোডাউন না থাকলেও গোডাউনের ভুয়া দারোয়ান দেখিয়ে ৯ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলন করেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা থেকে অফিস খরচ বাবদ ২ হাজার টাকা ও ইনকাম টেক্সের নামে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা আদায় করেছেন, ডিপিএড প্রশিক্ষণে সিনিয়রকে বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে জুনিয়দের পাঠানো, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার কোড নম্বর ফাঁস করে দেয়া, শিক্ষকদের বেতনের ফিক্সিশেসনের নামে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা করে আদায়, অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের কাগজপত্র সঠিক করতে প্রতি শিক্ষকদের কাছ থেকে ৮/১০ হাজার করে টাকা নেয়া, নিজের কোনো মোটরসাইকেল না থাকা সত্ত্বেও মেরামত ও জালানি খরচ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন, প্রাক-প্রাথমিকের মালামাল নিজে সরবরাহ করা, শিক্ষকদের নানা অনিয়মের বিষয় নিয়ে শোকজ করে টাকা আদায় করা, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ। পদ শূন্য না থাকা সত্ত্বেও জয়কালিপুর, সফিরকান্দি, শেকেরকান্দি ও মধ্যনগর সরকারি বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষককে পারস্পরিক বদলি করা হয় টাকার বিনিময়ে। খাককান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইয়ামিন মিয়াকে অবৈধভাবে মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. শরিফুল ইসলামকে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. নৌসাদ মাহমুদ বলেন, ‘বদলিতে কিছু অনিয়ম হয়েছে বিভিন্ন তদবিরের কারণে। ইনকাম টেক্সের টাকা ফেরত দেয়ার কথা শিক্ষক নেতারা বলেছিল কিন্তু পরে তা জমা দিয়ে দেই। ট্রেনিংয়ের বিষয়ে কিছু তদবির থাকায় কিছু জুনিয়রদের নাম ঢুকানো হয়েছে। পিইসি পরীক্ষার কোড নম্বর কিভাবে ফাঁস হল তা আমারও জানা নাই। তবে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক বলেন, ‘বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নৌসাদ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

বাঞ্ছারামপুরে শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০২:১৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭
আশিকুর রহমান বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া ) প্রতিনিধিঃ 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নৌসাদ মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে সম্প্রতি শিক্ষা সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন এলাকাবাসী। টাকা ছাড়া কোনো ফাইল স্বাক্ষর করেন না তিনি, তাকে টাকা দিলে সবই হয় বাঞ্ছারামপুর শিক্ষা অফিসে। এসব কারণে দিনদিন ফুঁসে উঠছে বাঞ্ছারামপুরের সাধারণ শিক্ষক সমাজ। বেশ কয়েকজন শিক্ষক আছেন যারা শ্রেণীকক্ষে পাঠদান না করে শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষে নিয়মিত আড্ডা দেন এবং এসব শিক্ষকরা তার সব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নৌসাদ মাহমুদ টাকার বিনিময়ে শিক্ষক বদলি, গত মার্চ মাসে সহকারী শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলেও মে মাসে মার্চ মাসের তারিখ দেখিয়ে মনাইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাঞ্ছারামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও কড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মনাইখালী বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত স্লিপের টাকা থেকে প্রত্যেক স্কুল থেকে দুই হাজার করে টাকা আদায়, ট্রেজারি অফিসের নাম করে এক হাজার টাকা করে আত্মসাৎ, স্কুলের প্রথম, দ্বিতীয় সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষার ফি ব্যাংকে জমা না নিয়ে নিজে গ্রহণ করে প্রশ্ন ছাপিয়ে স্কুলে বিতরণ করেছেন, গত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২টি মডেল টেস্ট পরীক্ষা নিয়েছেন। প্রতিটি পরীক্ষার ফি বাবদ ৩০/৩৫ টাকা করে আদায় করেছেন। বই রাখার কোনো গোডাউন না থাকলেও গোডাউনের ভুয়া দারোয়ান দেখিয়ে ৯ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলন করেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা থেকে অফিস খরচ বাবদ ২ হাজার টাকা ও ইনকাম টেক্সের নামে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা আদায় করেছেন, ডিপিএড প্রশিক্ষণে সিনিয়রকে বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে জুনিয়দের পাঠানো, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার কোড নম্বর ফাঁস করে দেয়া, শিক্ষকদের বেতনের ফিক্সিশেসনের নামে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা করে আদায়, অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের কাগজপত্র সঠিক করতে প্রতি শিক্ষকদের কাছ থেকে ৮/১০ হাজার করে টাকা নেয়া, নিজের কোনো মোটরসাইকেল না থাকা সত্ত্বেও মেরামত ও জালানি খরচ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন, প্রাক-প্রাথমিকের মালামাল নিজে সরবরাহ করা, শিক্ষকদের নানা অনিয়মের বিষয় নিয়ে শোকজ করে টাকা আদায় করা, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ। পদ শূন্য না থাকা সত্ত্বেও জয়কালিপুর, সফিরকান্দি, শেকেরকান্দি ও মধ্যনগর সরকারি বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষককে পারস্পরিক বদলি করা হয় টাকার বিনিময়ে। খাককান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইয়ামিন মিয়াকে অবৈধভাবে মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. শরিফুল ইসলামকে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. নৌসাদ মাহমুদ বলেন, ‘বদলিতে কিছু অনিয়ম হয়েছে বিভিন্ন তদবিরের কারণে। ইনকাম টেক্সের টাকা ফেরত দেয়ার কথা শিক্ষক নেতারা বলেছিল কিন্তু পরে তা জমা দিয়ে দেই। ট্রেনিংয়ের বিষয়ে কিছু তদবির থাকায় কিছু জুনিয়রদের নাম ঢুকানো হয়েছে। পিইসি পরীক্ষার কোড নম্বর কিভাবে ফাঁস হল তা আমারও জানা নাই। তবে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক বলেন, ‘বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নৌসাদ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’