ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদায় মাহে রমজান

মুরাদনগর বার্তা ডেস্কঃ
আজ ৩০ রমজান। কাল ঈদ। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম রাখবে এবং চাঁদ দেখে সিয়াম থেকে বিরত হবে। ঈদুল ফিতর মানে সিয়াম ভাঙার আনন্দ উত্সব। এই ঈদে আল্লাহর বিরাটত্ব ঘোষিত

হয় এই তকবীর উচ্চারণের মাধ্যমে আর তা হচ্ছে: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক জাতিরই আনন্দ উত্সব আছে আমাদের আনন্দ উত্সব এই ঈদ। আনন্দ উত্সব যা প্রতি বছর নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট নিয়মে ফিরে ফিরে আসে এবং যা নির্দিষ্ট নিয়মে, নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট আচার- অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতি বছর পালিত হয়। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম ৬২২ খ্রিস্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসে মক্কা মুয়াজ্জমা হতে মদীনা মনওয়ারায় হিজরত করে এসে এখানে স্থাপন করলেন একটি মসজিদ এবং এই মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে তুললেন একটি সুখী-সুন্দর সমাজ কাঠামো। তিনি মদীনায় এসে লক্ষ্য করলেন যে, এখানকার মানুষ প্রতি বছর অতি উত্সাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে দুইটি উত্সব পালন করে যাতে কোনো পবিত্রতার বালাই নেই, নেই কোনো পরিচ্ছন্ন মননের ছোঁয়া। অশ্লীল আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, নিরর্থক আমোদ-ফুর্তির মধ্য দিয়ে প্রতি বছর নির্দিষ্ট তারিখে এই উত্সব দুইটি নির্দিষ্ট সময়ে মদীনার মানুষ পালন করতো। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আনাস (রাদি) আল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘ আলায়হি ওয়া সাল্লাম মদীনাতে এসে দেখলেন যে, তাদের দুইটি উত্সবের দিন রয়েছে। সেই দুই দিন তারা আমোদ-ফুর্তি, খেলাধুলা প্রভৃতি করতো। তিনি জিজ্ঞেসা করলেন: এই দুইদিন কিসের জন্য? তারা বললো: এই দুই দিন অন্ধকার যুগে আমরা খেলাধুলা করতাম। এই কথা শুনে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন: আল্লাহ এই দুই দিনের পরিবর্তে অধিকতর উত্তম দুইটি দিন তোমাদের দিয়েছেন আর তা হচ্ছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।

কাল ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরকে দানের আনন্দ-উত্সবও বলা হয়। ঈদুল ফিতরের অন্যতম প্রধান কর্তব্য হচ্ছে দরিদ্রদেরকে সাহায্য করা। বিত্তবানদের জন্য ওয়াজিব করা হয়েছে বিত্তহীনদের মধ্যে ফিতরা বিতরণ করা। কি পরিমাণ ধন-সম্পদের অধিকারী হলে ফিতরা দিতে হবে তাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ঈদের দিন সকালেই ঈদের নামাজ আদায় করতে যাবার পূর্বেই ফিতরা প্রদান করা উত্তম। প্রিয়নবী (স.) বলেছেন: ফিতরা সিয়ামকে কুকথা ও বাহুল্য বাক্য হতে পবিত্র করে এবং গরীব-দুঃখী অসহায় মানুষের আহার্য জোগায়। তিনি আরো বলেছেন: ফিতরা যারা দেয় তোমাদের সেই সব ধনীকে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র করবেন এবং তোমাদের মধ্যে যারা দরিদ্রদেরকে দান করে আল্লাহ তাদেরকে তার চেয়ে অনেক বেশি দান করবেন।

ঈদ পরিচ্ছন্ন আনন্দের দিন। আল্লাহর মহান দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করার দিন। এই দিনে যাতে গরীব-দুঃখীরা ধনীদের সঙ্গে আনন্দের সমান ভাগীদার হতে পারে সেজন্য গরীব-দুঃখীদের সাহায্য করার দিন। যাকাত পাবার অধিকারী যারা, ফিত্রা পাবার অধিকারী তারাই। ইসলাম ধনীদের ধন-সম্পদে দরিদ্রের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে দিয়েছে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে দরিদ্রের ন্যায্য অধিকার রয়েছে ভিক্ষুকের এবং বঞ্চিতের (সূরা যারিয়াত: আয়াত ১৯)। রমাদানের একমাস সিয়াম পালনের মাধ্যমে সায়িম ধৈর্য্য, দয়া, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সংযম এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের যে প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ করে সেই প্রশিক্ষণকে জীবনের সর্বস্তরে বাস্তবায়নের দৃঢ় শপথে বলীয়ান হবার আনন্দ-উত্সব হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এইদিন আনন্দ করার এবং আনন্দ বিলাবার প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হওয়ার দিন। এই দিন পারস্পরিক প্রাচুর্য কামনার লক্ষ্যে প্রত্যেকের মুখে প্রাণের গভীর থেকে ঈদ মুবারক উচ্চারিত হয় বার বার।

ঈদ সব মানুষকে একই উঠোনে এনে দাঁড় করায় এবং সকলকে বুকে বুক মিলিয়ে, গলায় গলা মিলিয়ে এক আনন্দ সৌকর্য বিমণ্ডিত হূদয় দেয়া-নেয়ার অনন্য অনুভব জাগিয়ে তোলে। ঈদ কেবল পার্থিব আনন্দ-উত্সব নয়, এ কেবল পার্থিব আমোদ নয়, ঈদ ইবাদতেরও অন্তর্গত। ঈদ মানুষকে আত্মিক উত্কর্ষ ও পরিতৃপ্তির পথ নির্দেশনা দেয় এবং আল্লাহ জাল্লাশানুহুর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের সুপ্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করে। যুগ শ্রেষ্ঠ সূফী অলীয়ে মাদারজাদ হযরত মওলানা শাহ সূফী তোয়াজউদ্দীন আহমদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেন: প্রকৃত রোযাদারের জন্য ঈদ পৃথিবীতে জান্নাতী সুখের নমুনা।

ঈদ বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলবার তাকীদে সমুজ্জ্বল। সমগ্র পৃথিবীর মানুষ একটি জাতি— কুরআন মজীদে উল্লেখিত এই অনন্য চেতনার অনুরণন ও স্পন্দন ঈদুল ফিতরে ভাস্বর হয়ে ওঠে। মানুষে মানুষে ঐক্য ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক সংযমী জীবনের চেতনাই ঈদুল ফিতরের চেতনা এবং এই খানেই নিহিত রয়েছে সিয়াম ভাঙার এই উত্সবের প্রকৃত আনন্দ বৈভব। সবাইকে জানাই “ঈদ মুবারক”।
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগর বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতির ইন্তেকাল

বিদায় মাহে রমজান

আপডেট সময় ০৭:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ জুলাই ২০১৬
মুরাদনগর বার্তা ডেস্কঃ
আজ ৩০ রমজান। কাল ঈদ। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম রাখবে এবং চাঁদ দেখে সিয়াম থেকে বিরত হবে। ঈদুল ফিতর মানে সিয়াম ভাঙার আনন্দ উত্সব। এই ঈদে আল্লাহর বিরাটত্ব ঘোষিত

হয় এই তকবীর উচ্চারণের মাধ্যমে আর তা হচ্ছে: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক জাতিরই আনন্দ উত্সব আছে আমাদের আনন্দ উত্সব এই ঈদ। আনন্দ উত্সব যা প্রতি বছর নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট নিয়মে ফিরে ফিরে আসে এবং যা নির্দিষ্ট নিয়মে, নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট আচার- অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতি বছর পালিত হয়। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম ৬২২ খ্রিস্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসে মক্কা মুয়াজ্জমা হতে মদীনা মনওয়ারায় হিজরত করে এসে এখানে স্থাপন করলেন একটি মসজিদ এবং এই মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে তুললেন একটি সুখী-সুন্দর সমাজ কাঠামো। তিনি মদীনায় এসে লক্ষ্য করলেন যে, এখানকার মানুষ প্রতি বছর অতি উত্সাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে দুইটি উত্সব পালন করে যাতে কোনো পবিত্রতার বালাই নেই, নেই কোনো পরিচ্ছন্ন মননের ছোঁয়া। অশ্লীল আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, নিরর্থক আমোদ-ফুর্তির মধ্য দিয়ে প্রতি বছর নির্দিষ্ট তারিখে এই উত্সব দুইটি নির্দিষ্ট সময়ে মদীনার মানুষ পালন করতো। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আনাস (রাদি) আল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘ আলায়হি ওয়া সাল্লাম মদীনাতে এসে দেখলেন যে, তাদের দুইটি উত্সবের দিন রয়েছে। সেই দুই দিন তারা আমোদ-ফুর্তি, খেলাধুলা প্রভৃতি করতো। তিনি জিজ্ঞেসা করলেন: এই দুইদিন কিসের জন্য? তারা বললো: এই দুই দিন অন্ধকার যুগে আমরা খেলাধুলা করতাম। এই কথা শুনে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন: আল্লাহ এই দুই দিনের পরিবর্তে অধিকতর উত্তম দুইটি দিন তোমাদের দিয়েছেন আর তা হচ্ছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।

কাল ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরকে দানের আনন্দ-উত্সবও বলা হয়। ঈদুল ফিতরের অন্যতম প্রধান কর্তব্য হচ্ছে দরিদ্রদেরকে সাহায্য করা। বিত্তবানদের জন্য ওয়াজিব করা হয়েছে বিত্তহীনদের মধ্যে ফিতরা বিতরণ করা। কি পরিমাণ ধন-সম্পদের অধিকারী হলে ফিতরা দিতে হবে তাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ঈদের দিন সকালেই ঈদের নামাজ আদায় করতে যাবার পূর্বেই ফিতরা প্রদান করা উত্তম। প্রিয়নবী (স.) বলেছেন: ফিতরা সিয়ামকে কুকথা ও বাহুল্য বাক্য হতে পবিত্র করে এবং গরীব-দুঃখী অসহায় মানুষের আহার্য জোগায়। তিনি আরো বলেছেন: ফিতরা যারা দেয় তোমাদের সেই সব ধনীকে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র করবেন এবং তোমাদের মধ্যে যারা দরিদ্রদেরকে দান করে আল্লাহ তাদেরকে তার চেয়ে অনেক বেশি দান করবেন।

ঈদ পরিচ্ছন্ন আনন্দের দিন। আল্লাহর মহান দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করার দিন। এই দিনে যাতে গরীব-দুঃখীরা ধনীদের সঙ্গে আনন্দের সমান ভাগীদার হতে পারে সেজন্য গরীব-দুঃখীদের সাহায্য করার দিন। যাকাত পাবার অধিকারী যারা, ফিত্রা পাবার অধিকারী তারাই। ইসলাম ধনীদের ধন-সম্পদে দরিদ্রের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে দিয়েছে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে দরিদ্রের ন্যায্য অধিকার রয়েছে ভিক্ষুকের এবং বঞ্চিতের (সূরা যারিয়াত: আয়াত ১৯)। রমাদানের একমাস সিয়াম পালনের মাধ্যমে সায়িম ধৈর্য্য, দয়া, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সংযম এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের যে প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ করে সেই প্রশিক্ষণকে জীবনের সর্বস্তরে বাস্তবায়নের দৃঢ় শপথে বলীয়ান হবার আনন্দ-উত্সব হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এইদিন আনন্দ করার এবং আনন্দ বিলাবার প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হওয়ার দিন। এই দিন পারস্পরিক প্রাচুর্য কামনার লক্ষ্যে প্রত্যেকের মুখে প্রাণের গভীর থেকে ঈদ মুবারক উচ্চারিত হয় বার বার।

ঈদ সব মানুষকে একই উঠোনে এনে দাঁড় করায় এবং সকলকে বুকে বুক মিলিয়ে, গলায় গলা মিলিয়ে এক আনন্দ সৌকর্য বিমণ্ডিত হূদয় দেয়া-নেয়ার অনন্য অনুভব জাগিয়ে তোলে। ঈদ কেবল পার্থিব আনন্দ-উত্সব নয়, এ কেবল পার্থিব আমোদ নয়, ঈদ ইবাদতেরও অন্তর্গত। ঈদ মানুষকে আত্মিক উত্কর্ষ ও পরিতৃপ্তির পথ নির্দেশনা দেয় এবং আল্লাহ জাল্লাশানুহুর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের সুপ্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করে। যুগ শ্রেষ্ঠ সূফী অলীয়ে মাদারজাদ হযরত মওলানা শাহ সূফী তোয়াজউদ্দীন আহমদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেন: প্রকৃত রোযাদারের জন্য ঈদ পৃথিবীতে জান্নাতী সুখের নমুনা।

ঈদ বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলবার তাকীদে সমুজ্জ্বল। সমগ্র পৃথিবীর মানুষ একটি জাতি— কুরআন মজীদে উল্লেখিত এই অনন্য চেতনার অনুরণন ও স্পন্দন ঈদুল ফিতরে ভাস্বর হয়ে ওঠে। মানুষে মানুষে ঐক্য ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক সংযমী জীবনের চেতনাই ঈদুল ফিতরের চেতনা এবং এই খানেই নিহিত রয়েছে সিয়াম ভাঙার এই উত্সবের প্রকৃত আনন্দ বৈভব। সবাইকে জানাই “ঈদ মুবারক”।