ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদেশিদের উপর ‘নির্ভরতা’ থেকে সরে আসছে বিএনপি

জাতীয় ডেস্কঃ

বিদেশিদের ওপর ‘নির্ভরতা’ থেকে সরে আসছে বিএনপি। তারা উপলব্ধি করেছে বিদেশিদের দিকে তাকিয়ে থাকলেই ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে না। এ দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে বিদেশিরা যে আশ্বাস দিয়ে আসছেন তাতে আর আস্থা নেই দশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা এই দলটির। ফলে বদলে ফেলা হচ্ছে বিএনপির রাজনীতির কৌশল। নির্বাচনকে টার্গেট করে দলের ঐক্য এবং নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

গত সোমবার রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের ঐক্য মজবুত, দল শক্তিশালীকরণ এবং নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য একটি সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত কয়েক মাস ধরে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া অন্তত ২০-২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত-কূটনীতিক এবং সফররত মন্ত্রী-এমপিদের সাথে বৈঠক করেছেন। তবে এই বিদেশিদের বক্তব্যে কেবল ‘আশ্বাস এবং আশা প্রকাশ’ থাকলেও তাতে আস্থা রাখার মতো কোনো বক্তব্য নেই। সূত্র মতে, বছর খানেক আগেও বিএনপির ধারণা ছিল-বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের নীতি পাল্টাবে। কিন্তু সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি প্রথমে তাকিয়ে ছিল ভারতের নির্বাচনের দিকে । তারা ভেবেছিল বিজেপি ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের নীতির বদল হবে। কিন্তু তাও হয়নি। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন ক্ষমতায় আসবেন এমন আশায় ছিল বিএনপি। বিএনপির প্রত্যাশা ছিল হিলারি এলে সরকারের উপর আগাম নির্বাচনের ব্যাপারে চাপ বাড়বে, সংলাপে বসতে তাগিদ দিবেন এবং সেই সঙ্গে নির্দলীয় কমিশন করার ব্যাপারে চাপ বাড়ালে সরকার ৫ জানুয়ারির মতো আর একটি নির্বাচন করতে পারবে না। কিন্তু তাদের সেই আশাও পূরণ হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকায়ও তারা সন্তুষ্ট নয়। বিএনপির কূটনীতিক টিমের একজন নেতা বলেন, ঢাকাস্থ ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরো মায়দুনের বক্তব্য গতানুগতিক। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ না থাকায়-শুরুতে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। একই যুক্তিতে বিরত থাকে পর্যবেক্ষক পাঠানো থেকেও। যদিও নির্বাচনের পরে এ নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি তাদের মুখ থেকে। বিএনপির ওই সিনিয়র নেতা বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা আর বলছে না ইইউ। উল্টো আওয়ামী লীগ সরকার এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করছে। ফলে বিএনপি মনে করে এই বিদেশি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ অভিন্ন।

ইতোমধ্যে বিএনপি ভারতের বিষয়ে তাদের অবস্থান বদলে ফেলেছে। নব্বইয়ের দশকে বিএনপি ভারতবিরোধী ভূমিকা নিয়ে যে ধরনের ‘লাভবান’ হয়েছিল তারা সেটা এখন পুনর্মূল্যায়ন করছে। সমপ্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভারতের তত্কালীন সরকার ‘ন্যক্কারজনকভাবে হস্তক্ষেপ’ করেছিল। তাছাড়া বিএনপির কোনো কোনো নেতা বক্তব্য-বিবৃতিতে ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করছেন। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ভারতের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মনোভাবকে কাজে লাগাতে বিএনপি আবারো তাদের আগের ভারতবিরোধী নীতিতেই ফিরছে।

এদিকে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামনে অগ্রসর হওয়ার জন্য নানামুখী পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কেমন সরকার হবে, কিভাবে দেশ পরিচালনা করা হবে তার জন্য ‘ভিশন ২০৩০’ নামে একটি রূপকল্প আজ বুধবার প্রকাশ করবেন খালেদা জিয়া।

ইত্তেফাক/

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

বিদেশিদের উপর ‘নির্ভরতা’ থেকে সরে আসছে বিএনপি

আপডেট সময় ০৩:২০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০১৭
জাতীয় ডেস্কঃ

বিদেশিদের ওপর ‘নির্ভরতা’ থেকে সরে আসছে বিএনপি। তারা উপলব্ধি করেছে বিদেশিদের দিকে তাকিয়ে থাকলেই ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে না। এ দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে বিদেশিরা যে আশ্বাস দিয়ে আসছেন তাতে আর আস্থা নেই দশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা এই দলটির। ফলে বদলে ফেলা হচ্ছে বিএনপির রাজনীতির কৌশল। নির্বাচনকে টার্গেট করে দলের ঐক্য এবং নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

গত সোমবার রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের ঐক্য মজবুত, দল শক্তিশালীকরণ এবং নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য একটি সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত কয়েক মাস ধরে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া অন্তত ২০-২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত-কূটনীতিক এবং সফররত মন্ত্রী-এমপিদের সাথে বৈঠক করেছেন। তবে এই বিদেশিদের বক্তব্যে কেবল ‘আশ্বাস এবং আশা প্রকাশ’ থাকলেও তাতে আস্থা রাখার মতো কোনো বক্তব্য নেই। সূত্র মতে, বছর খানেক আগেও বিএনপির ধারণা ছিল-বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের নীতি পাল্টাবে। কিন্তু সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি প্রথমে তাকিয়ে ছিল ভারতের নির্বাচনের দিকে । তারা ভেবেছিল বিজেপি ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের নীতির বদল হবে। কিন্তু তাও হয়নি। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন ক্ষমতায় আসবেন এমন আশায় ছিল বিএনপি। বিএনপির প্রত্যাশা ছিল হিলারি এলে সরকারের উপর আগাম নির্বাচনের ব্যাপারে চাপ বাড়বে, সংলাপে বসতে তাগিদ দিবেন এবং সেই সঙ্গে নির্দলীয় কমিশন করার ব্যাপারে চাপ বাড়ালে সরকার ৫ জানুয়ারির মতো আর একটি নির্বাচন করতে পারবে না। কিন্তু তাদের সেই আশাও পূরণ হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকায়ও তারা সন্তুষ্ট নয়। বিএনপির কূটনীতিক টিমের একজন নেতা বলেন, ঢাকাস্থ ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরো মায়দুনের বক্তব্য গতানুগতিক। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ না থাকায়-শুরুতে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। একই যুক্তিতে বিরত থাকে পর্যবেক্ষক পাঠানো থেকেও। যদিও নির্বাচনের পরে এ নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি তাদের মুখ থেকে। বিএনপির ওই সিনিয়র নেতা বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা আর বলছে না ইইউ। উল্টো আওয়ামী লীগ সরকার এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করছে। ফলে বিএনপি মনে করে এই বিদেশি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ অভিন্ন।

ইতোমধ্যে বিএনপি ভারতের বিষয়ে তাদের অবস্থান বদলে ফেলেছে। নব্বইয়ের দশকে বিএনপি ভারতবিরোধী ভূমিকা নিয়ে যে ধরনের ‘লাভবান’ হয়েছিল তারা সেটা এখন পুনর্মূল্যায়ন করছে। সমপ্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভারতের তত্কালীন সরকার ‘ন্যক্কারজনকভাবে হস্তক্ষেপ’ করেছিল। তাছাড়া বিএনপির কোনো কোনো নেতা বক্তব্য-বিবৃতিতে ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করছেন। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ভারতের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মনোভাবকে কাজে লাগাতে বিএনপি আবারো তাদের আগের ভারতবিরোধী নীতিতেই ফিরছে।

এদিকে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামনে অগ্রসর হওয়ার জন্য নানামুখী পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কেমন সরকার হবে, কিভাবে দেশ পরিচালনা করা হবে তার জন্য ‘ভিশন ২০৩০’ নামে একটি রূপকল্প আজ বুধবার প্রকাশ করবেন খালেদা জিয়া।

ইত্তেফাক/