ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মায়ের গর্ভেই নবজাতকের হার্ট সার্জারি

প্রবাস ডেস্কঃ

মাতৃগর্ভে থাকাকালেই নবজাতকের হার্ট সার্জারি করে নজির গড়লেন কানাডার চিকিৎসকেরা। জন্মের আগেই ট্রান্সপোজিশন অফ গ্রেট আর্টারি (টিজিএ) নামের জটিল এক রোগে আক্রান্ত শিশুটিকে অবশেষে রঙিন দুনিয়ার আলো দেখাতে পেরেছেন তারা। আর এজন্য তাদের অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলতে হয়েছে শুধুমাত্র সাহস ও ইচ্ছাশক্তির জোরে।

জানা গেছে, কানাডার বাসিন্দা ক্রিস্টোফার হ্যাভিল এবং ক্রিস্টিন বেরির প্রথম সন্তান সেবাস্তিয়ান। যে জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল সে, ডাক্তারি পরিভাষায় তার নাম ট্রান্সপোজিশন অফ গ্রেট আর্টারি (টিজিএ)। এই রোগে হৃদযন্ত্র থেকে রক্ত সঞ্চালন এক রকম বন্ধই হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন, জন্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করলে শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। মেডিক্যাল টিম গঠন করে মাতৃগর্ভেই অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জটিল এই অস্ত্রোপচারের নাম আট্রিয়াল সেপ্টোপ্লাস্টি। মা’র গর্ভে একটি সুচ ঢুকিয়ে আলট্রাসাউন্ডের সাহায্যে শিশুর হৃদযন্ত্রের সঙ্গে সংযোগস্থাপন করেন চিকিৎসকেরা। সুচের শেষ প্রান্তে লাগানো থাকে একটি ছোট বেলুন।

এই পদ্ধতিতে শিশুটির হার্টের আট্রিয়াল সেপটামে ৩.৫ মিলিমিটারের একটি ছিদ্র করে পাম্পিং এর সাহায্যে সেখানে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ চালু করেন চিকিৎসকেরা। সেটা গত ১৮ মে’র কথা। তারপর ২৩ মে জন্ম হয় সেবাস্তিয়ানের। জন্মের পর ফের একবার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। এরপর থেকে সুস্থ আছে ওই নবজাতক।

সেবাস্তিয়ানের মা ক্রিস্টিয়ানের কথায়, ‘রোগ যখন ধরা পড়ে, মনে হয়েছিল গোটা পৃথিবীটাই আমার কাছে অন্ধকার হয়ে এসেছে। কিন্তু চিকিৎসকেরা যা করেছেন তা দারুণ।’  মেডিক্যাল টিমে থাকা একজন কার্ডিওলজিস্টের বলেন, ‘মাতৃগর্ভে প্রথম এই পদ্ধতিতে আমরা অস্ত্রোপচার করি। বিশ্বাস ছিল সব কিছুই ভালো হবে। হলোও তাই। যা ভাবা হয়েছিল তার থেকে অনেক সহজে এই অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়েছে।’ গ্লোব নিউজ।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

মুরাদনগর ভয়াবহ আগুন কয়ক কাটি টাকার ক্ষতি 

মায়ের গর্ভেই নবজাতকের হার্ট সার্জারি

আপডেট সময় ০৭:৪৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুলাই ২০১৭
প্রবাস ডেস্কঃ

মাতৃগর্ভে থাকাকালেই নবজাতকের হার্ট সার্জারি করে নজির গড়লেন কানাডার চিকিৎসকেরা। জন্মের আগেই ট্রান্সপোজিশন অফ গ্রেট আর্টারি (টিজিএ) নামের জটিল এক রোগে আক্রান্ত শিশুটিকে অবশেষে রঙিন দুনিয়ার আলো দেখাতে পেরেছেন তারা। আর এজন্য তাদের অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলতে হয়েছে শুধুমাত্র সাহস ও ইচ্ছাশক্তির জোরে।

জানা গেছে, কানাডার বাসিন্দা ক্রিস্টোফার হ্যাভিল এবং ক্রিস্টিন বেরির প্রথম সন্তান সেবাস্তিয়ান। যে জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল সে, ডাক্তারি পরিভাষায় তার নাম ট্রান্সপোজিশন অফ গ্রেট আর্টারি (টিজিএ)। এই রোগে হৃদযন্ত্র থেকে রক্ত সঞ্চালন এক রকম বন্ধই হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন, জন্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করলে শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। মেডিক্যাল টিম গঠন করে মাতৃগর্ভেই অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জটিল এই অস্ত্রোপচারের নাম আট্রিয়াল সেপ্টোপ্লাস্টি। মা’র গর্ভে একটি সুচ ঢুকিয়ে আলট্রাসাউন্ডের সাহায্যে শিশুর হৃদযন্ত্রের সঙ্গে সংযোগস্থাপন করেন চিকিৎসকেরা। সুচের শেষ প্রান্তে লাগানো থাকে একটি ছোট বেলুন।

এই পদ্ধতিতে শিশুটির হার্টের আট্রিয়াল সেপটামে ৩.৫ মিলিমিটারের একটি ছিদ্র করে পাম্পিং এর সাহায্যে সেখানে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ চালু করেন চিকিৎসকেরা। সেটা গত ১৮ মে’র কথা। তারপর ২৩ মে জন্ম হয় সেবাস্তিয়ানের। জন্মের পর ফের একবার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। এরপর থেকে সুস্থ আছে ওই নবজাতক।

সেবাস্তিয়ানের মা ক্রিস্টিয়ানের কথায়, ‘রোগ যখন ধরা পড়ে, মনে হয়েছিল গোটা পৃথিবীটাই আমার কাছে অন্ধকার হয়ে এসেছে। কিন্তু চিকিৎসকেরা যা করেছেন তা দারুণ।’  মেডিক্যাল টিমে থাকা একজন কার্ডিওলজিস্টের বলেন, ‘মাতৃগর্ভে প্রথম এই পদ্ধতিতে আমরা অস্ত্রোপচার করি। বিশ্বাস ছিল সব কিছুই ভালো হবে। হলোও তাই। যা ভাবা হয়েছিল তার থেকে অনেক সহজে এই অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়েছে।’ গ্লোব নিউজ।