ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরের অসহায় জেএসসি পরীক্ষার্থী শারমিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

শামীম আহম্মেদ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর এ.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী জেএসসি পরীক্ষার্থী অসহায় শারমিন আক্তার এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সে রাজধানী ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

বুধবার এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সে গুরতর আহত হয়। গত ৩ দিনেও তার জ্ঞান ফিরেনি। শারমিন আক্তার পাশের বঘুরামপুর গ্রামের মৃত ইবরাহিম ভ্ইুয়ার মেয়ে। চিকিৎসার ব্যয়-ভার বহন করার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে বৃত্তবানদের সাহায্য কামনা করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার সকালে জেএসসির বিজ্ঞান পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শারমিন আক্তারসহ ৫জন সিএনজি অটোরিকশা যোগে কোম্পানীগঞ্জ কেন্দ্রে রওয়ানা হয়। বাখরনগর-কুলুবাড়ী গ্রামের মধ্যবর্তী ইটভাটার নিকট পৌছাঁমাত্র তাদের বহনকারী সিএনজির সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটো রিকশার সংঘর্ষ হয়। তখন সিএনজিতে থাকা ৫ পরীক্ষার্থী আহত হয়। তবে শারমিন আক্তারের অবস্থা আশংকাজনক।

তাৎক্ষনিক মুরাদনগর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে কুমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে বুধবার বিকেলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করে। ওইদিন সন্ধ্যায় শারমিন আক্তারের খিচুনী দেখা দিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে আইসিইউতে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ঢামেক হাসপাতালে আইসিইউ সংকট থাকায় তাকে রাজধানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কিন্তুু গত তিনদিনেও জ্ঞান না ফিরায় তার মা সাহিদা আক্তার, আত্মীয়-স্বজনরা বিলাপ করে বার বার মূর্চা যাচ্ছে।

একমাত্র বোনের এ দৈন্যদশা দেখে ৪ ভাইসহ প্রতিবেশী এবং সহপাঠিরা অজানা আতংকে দিন কাটাচ্ছে।

মেয়েটির সাথে থাকা চাচাতো ভাই বাবুল মিয়া জানান, গত দু’বছর পূর্বে তার চাচা ইবরাহিম ভুইয়া ৫ ছেলে-মেয়ে রেখে মারা যায়। ওষুধপত্রসহ এখন শারমিন আক্তারের প্রতিদিন খরচ ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। যেখানে পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে এত ব্যয় বহুল চিকিৎসা কিভাবে দিবে, এ চিন্তায় পরিবারের সদস্যরা মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরতর আহত শারমিন আক্তারের পরিবারটি খুবই অসহায়। তাদের পক্ষে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা তার পরিবারের অসহায়ত্বের কথা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। স্যার জেলা প্রশাসক স্যারের সহযোগিতা চেয়েছেন। এছাড়াও তার চিকিৎসার ব্যয়-ভার মিটানোর জন্য উপজেলা শিক্ষক সমিতিসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিকট যথাসম্ভব সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

মুরাদনগরের অসহায় জেএসসি পরীক্ষার্থী শারমিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

আপডেট সময় ০১:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

শামীম আহম্মেদ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর এ.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী জেএসসি পরীক্ষার্থী অসহায় শারমিন আক্তার এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সে রাজধানী ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

বুধবার এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সে গুরতর আহত হয়। গত ৩ দিনেও তার জ্ঞান ফিরেনি। শারমিন আক্তার পাশের বঘুরামপুর গ্রামের মৃত ইবরাহিম ভ্ইুয়ার মেয়ে। চিকিৎসার ব্যয়-ভার বহন করার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে বৃত্তবানদের সাহায্য কামনা করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার সকালে জেএসসির বিজ্ঞান পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শারমিন আক্তারসহ ৫জন সিএনজি অটোরিকশা যোগে কোম্পানীগঞ্জ কেন্দ্রে রওয়ানা হয়। বাখরনগর-কুলুবাড়ী গ্রামের মধ্যবর্তী ইটভাটার নিকট পৌছাঁমাত্র তাদের বহনকারী সিএনজির সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটো রিকশার সংঘর্ষ হয়। তখন সিএনজিতে থাকা ৫ পরীক্ষার্থী আহত হয়। তবে শারমিন আক্তারের অবস্থা আশংকাজনক।

তাৎক্ষনিক মুরাদনগর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে কুমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে বুধবার বিকেলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করে। ওইদিন সন্ধ্যায় শারমিন আক্তারের খিচুনী দেখা দিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে আইসিইউতে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ঢামেক হাসপাতালে আইসিইউ সংকট থাকায় তাকে রাজধানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কিন্তুু গত তিনদিনেও জ্ঞান না ফিরায় তার মা সাহিদা আক্তার, আত্মীয়-স্বজনরা বিলাপ করে বার বার মূর্চা যাচ্ছে।

একমাত্র বোনের এ দৈন্যদশা দেখে ৪ ভাইসহ প্রতিবেশী এবং সহপাঠিরা অজানা আতংকে দিন কাটাচ্ছে।

মেয়েটির সাথে থাকা চাচাতো ভাই বাবুল মিয়া জানান, গত দু’বছর পূর্বে তার চাচা ইবরাহিম ভুইয়া ৫ ছেলে-মেয়ে রেখে মারা যায়। ওষুধপত্রসহ এখন শারমিন আক্তারের প্রতিদিন খরচ ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। যেখানে পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে এত ব্যয় বহুল চিকিৎসা কিভাবে দিবে, এ চিন্তায় পরিবারের সদস্যরা মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরতর আহত শারমিন আক্তারের পরিবারটি খুবই অসহায়। তাদের পক্ষে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা তার পরিবারের অসহায়ত্বের কথা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। স্যার জেলা প্রশাসক স্যারের সহযোগিতা চেয়েছেন। এছাড়াও তার চিকিৎসার ব্যয়-ভার মিটানোর জন্য উপজেলা শিক্ষক সমিতিসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিকট যথাসম্ভব সাহায্য চাওয়া হয়েছে।