ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে অপহরনকারীদের হামলায় নিহত ১

মাহবুব আলম আরিফঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় অপহরনকারী দলের হামলায় প্রাণ গেল অপহৃত শাহনাজের চাচা ইয়াসিন মুন্সী’র(৫৫)। এ ঘটনায় অপহরকারী দলের দুই সদস্যকে আটক করে পুলেশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

নিহত ইয়াসিন মুন্সী দেবিদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মৃত লতিফ মুন্সীর ছেলে।

অপহরন দলের আটককৃত সদস্যরা হলো, দেবিদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের হাসান খানের ছেলে ও হত্যাকারী মনির খান(৩৩) ও একই গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে ও অপহরন চক্রের মূল সদস্য কাউছার(৪০)।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টায় উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের নোয়াখলা গ্রামে সফিকুল ইসলামের বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের আনিছ মিয়ার মেয়ে শাহনাজ বেগমকে(২২) অপহরন কাউছার মিয়ার নেতৃত্বে একটি অপহরন চক্র। এর পর শাহনাজের পিতা আনিছ মিয়া গত ৩০আগষ্ট কুমিল্লা আদালতে কাউছারকে প্রধান আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরন মামলা দায়ের করলে আদালত দেবিদ্বার থানা পুলিশকে মামলাটি এজহারভূক্ত কওে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দ্দেশ প্রধান করে। দেবিদ্বার থানা পুলিশ ৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি এজহারভূক্ত করে। এবং ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দেবিদ্বার থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা থেকে শাহনাজকে উদ্ধার করে। শাহনাজকে উদ্ধারের পর অপহরনকারীদের কাছ থেকে নিজেদের প্রাণ বাচাতে আনিছ মিয়া পার্শবর্তী মুরাদনগর উপজেলা ধামঘর ইউনিয়নের নোয়াখলা গ্রামের তার ভগ্নিপতি সফিকুল ইসলামের বাড়ীতে আশ্রয় নেন। এদিকে আনিছ মিয়া তার মেয়েকে নিয়ে নোয়াখলা গ্রামে আছে জানতে পেরে অপহরন মামলার আসামী কাউছার মিয়া শ্রীপুর গ্রামের একাধিক নারী নির্যাতন মামলার আসামী মনির খানকে সাথে নিয়ে নোয়াখলা গ্রামে আসে এবং মামলাটি তুলে নেয়ার হুমকি দিতে থাকে এক পর্যায়ে আনিছ মিয়াকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। তারপর স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করে এবং ঘটনাটি এলাহাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামকে অবহিত করলে চেয়ারম্যান কাউছার ও মনিরকে দেবিদ্বার নিয়ে যাওয়ার জন্য শাহনাজের চাচা ইয়াসিন মুন্সীসহ কিছুলোক পাঠায়। কাউছার ও মনির খানকে দেবিদ্বার নিয়ে যেতে চাইলে মনির খান উপস্থিত ব্যাক্তিদের উপড় এলোপাথারি কিল ঘুষি মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় মনির খানের এলোপাথারি ঘুষির আঘাতে ইয়াছিন মুন্সী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ইয়াছিন মুন্সীকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে দেবিদ্বার থানায় পূর্বে থেকে মামলা রয়েছে। আটককৃতদের দেবিদ্বার থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। হত্যার বিষয়টির মামলার প্রস্তুতি চলছে।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন আসামী দুজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে অপহরনকারীদের হামলায় নিহত ১

আপডেট সময় ০৫:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭
মাহবুব আলম আরিফঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় অপহরনকারী দলের হামলায় প্রাণ গেল অপহৃত শাহনাজের চাচা ইয়াসিন মুন্সী’র(৫৫)। এ ঘটনায় অপহরকারী দলের দুই সদস্যকে আটক করে পুলেশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

নিহত ইয়াসিন মুন্সী দেবিদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মৃত লতিফ মুন্সীর ছেলে।

অপহরন দলের আটককৃত সদস্যরা হলো, দেবিদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের হাসান খানের ছেলে ও হত্যাকারী মনির খান(৩৩) ও একই গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে ও অপহরন চক্রের মূল সদস্য কাউছার(৪০)।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টায় উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের নোয়াখলা গ্রামে সফিকুল ইসলামের বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের আনিছ মিয়ার মেয়ে শাহনাজ বেগমকে(২২) অপহরন কাউছার মিয়ার নেতৃত্বে একটি অপহরন চক্র। এর পর শাহনাজের পিতা আনিছ মিয়া গত ৩০আগষ্ট কুমিল্লা আদালতে কাউছারকে প্রধান আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরন মামলা দায়ের করলে আদালত দেবিদ্বার থানা পুলিশকে মামলাটি এজহারভূক্ত কওে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দ্দেশ প্রধান করে। দেবিদ্বার থানা পুলিশ ৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি এজহারভূক্ত করে। এবং ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দেবিদ্বার থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা থেকে শাহনাজকে উদ্ধার করে। শাহনাজকে উদ্ধারের পর অপহরনকারীদের কাছ থেকে নিজেদের প্রাণ বাচাতে আনিছ মিয়া পার্শবর্তী মুরাদনগর উপজেলা ধামঘর ইউনিয়নের নোয়াখলা গ্রামের তার ভগ্নিপতি সফিকুল ইসলামের বাড়ীতে আশ্রয় নেন। এদিকে আনিছ মিয়া তার মেয়েকে নিয়ে নোয়াখলা গ্রামে আছে জানতে পেরে অপহরন মামলার আসামী কাউছার মিয়া শ্রীপুর গ্রামের একাধিক নারী নির্যাতন মামলার আসামী মনির খানকে সাথে নিয়ে নোয়াখলা গ্রামে আসে এবং মামলাটি তুলে নেয়ার হুমকি দিতে থাকে এক পর্যায়ে আনিছ মিয়াকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। তারপর স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করে এবং ঘটনাটি এলাহাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামকে অবহিত করলে চেয়ারম্যান কাউছার ও মনিরকে দেবিদ্বার নিয়ে যাওয়ার জন্য শাহনাজের চাচা ইয়াসিন মুন্সীসহ কিছুলোক পাঠায়। কাউছার ও মনির খানকে দেবিদ্বার নিয়ে যেতে চাইলে মনির খান উপস্থিত ব্যাক্তিদের উপড় এলোপাথারি কিল ঘুষি মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় মনির খানের এলোপাথারি ঘুষির আঘাতে ইয়াছিন মুন্সী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ইয়াছিন মুন্সীকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে দেবিদ্বার থানায় পূর্বে থেকে মামলা রয়েছে। আটককৃতদের দেবিদ্বার থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। হত্যার বিষয়টির মামলার প্রস্তুতি চলছে।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন আসামী দুজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।