ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে অবাধে কাটা হচ্ছে কৃষি জমির মাটি, নষ্ট হচ্ছে ফসলের জমি

মো: মোশাররফ হোসেন মনিরঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় কৃষি জমি থেকে অবাধে কাটা হচ্ছে মাটি, নষ্ট হচ্ছে ফসলের জমি। উপজেলার প্রায় ৫৪টি ইট ভাটার মালিক ফসলি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করছে। এর মধ্যে নবীপুর পূরর্ব ইউনিয়নের বখরনগর মৌজায় ১৭টি ইট ভাটা থাকায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পরছে সেই ইউনিয়নে। কৃষি জমি থেকে মাটি খননের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে কৃষি জমি। ঠিক তেমনি নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বর শক্তি আর জীববৈচিত্র।

 

বর্ষাকালে উম্মুক্ত ধানী জমিগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গেলেও সেখানে আমন ও উঁচু জমিতে ইরি-বোরো ধান হয় বছর জুড়ে। নিন্মাঞ্চলের জলরাশিতে পাওয়া যেতো দেশি প্রজাতির নানা রকমের সুস্বাদু মাছ। কিন্তু ইট ভাটার মালিকদের ফসলী জমি থেকে স্কেবেটার মেশিন ও ডেজার চালিত ইঞ্জিন দিয়ে মাটি কাটার কারণে পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে নদী-নালা খাল-বিল বাদে প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার ২৮ হেক্টর ফসলী জমি রয়েছে। শ্রেণী ভেদে প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোনো না কোনো ধরণের ফসল চাষ করে কৃষকরা। এক শ্রেণীর কৃষকরা ভাটা মালিকদের লোভে পড়ে প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) মাটি পাঁচ শ থেকে ছয় শ  টাকায় বিক্রয় করছেন। যে কারণে ওইসব জমিতে না হচ্ছে ধান না হচ্ছে মাছের চাষ। জমি গুলো দেখে মনে হচ্ছে এ যেন উম্মুক্ত জলাশয়। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নির্বিচারে আবাদি কৃষি জমি থেকে মাটি খনন করায় দিনদিন কমে যাচ্ছে ফসলী জমি। অন্য দিকে উর্বর শক্তি কমে গিয়ে ফসল উৎপাদনে হ্রাস পাচ্ছে।

প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক্টর মাটি কেটে ভাটায় পৌঁছে দেয়ার কাজে ব্যস্ত। বিশেষ করে উপজেলার মুরাদনগর, চৌধুরীকান্দি, নয়াকান্দি, দিলালপুর, গুঞ্জুর, হিরাকান্দ, কোম্পানীগঞ্জ, ধামঘর, ভূবনঘর, দক্ষিন ত্রিশ, উত্তর ত্রিশ, ঘোড়ারশালসহ প্রায় অর্ধশতাদিক স্থানে কৃষি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে ইট ভাটার মালিকরা ইট তৈরি কাজে ব্যবহার করছে। এর মাত্রা আগামীতে বাড়তে থাকলে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগের আশঙ্কা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র সৌম জানান, কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে গর্ত করার কারণে ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। মাটির উর্বর শক্তি কমে যাওয়ার কারণে এই জমিতে আর তেমন ফলন হয় না। এক পর্যায়ে এই জমিগুলোতে ফসল কম হওয়ার কারণে চাষিদেরও আগ্রহ কমে যায়।  এই ধরনের কর্মকান্ডে বন্ধ করতে না পারলে আগামীতে উৎপাদনে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

মুরাদনগর ভয়াবহ আগুন কয়ক কাটি টাকার ক্ষতি 

মুরাদনগরে অবাধে কাটা হচ্ছে কৃষি জমির মাটি, নষ্ট হচ্ছে ফসলের জমি

আপডেট সময় ০২:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৭
মো: মোশাররফ হোসেন মনিরঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় কৃষি জমি থেকে অবাধে কাটা হচ্ছে মাটি, নষ্ট হচ্ছে ফসলের জমি। উপজেলার প্রায় ৫৪টি ইট ভাটার মালিক ফসলি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করছে। এর মধ্যে নবীপুর পূরর্ব ইউনিয়নের বখরনগর মৌজায় ১৭টি ইট ভাটা থাকায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পরছে সেই ইউনিয়নে। কৃষি জমি থেকে মাটি খননের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে কৃষি জমি। ঠিক তেমনি নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বর শক্তি আর জীববৈচিত্র।

 

বর্ষাকালে উম্মুক্ত ধানী জমিগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গেলেও সেখানে আমন ও উঁচু জমিতে ইরি-বোরো ধান হয় বছর জুড়ে। নিন্মাঞ্চলের জলরাশিতে পাওয়া যেতো দেশি প্রজাতির নানা রকমের সুস্বাদু মাছ। কিন্তু ইট ভাটার মালিকদের ফসলী জমি থেকে স্কেবেটার মেশিন ও ডেজার চালিত ইঞ্জিন দিয়ে মাটি কাটার কারণে পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে নদী-নালা খাল-বিল বাদে প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার ২৮ হেক্টর ফসলী জমি রয়েছে। শ্রেণী ভেদে প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোনো না কোনো ধরণের ফসল চাষ করে কৃষকরা। এক শ্রেণীর কৃষকরা ভাটা মালিকদের লোভে পড়ে প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) মাটি পাঁচ শ থেকে ছয় শ  টাকায় বিক্রয় করছেন। যে কারণে ওইসব জমিতে না হচ্ছে ধান না হচ্ছে মাছের চাষ। জমি গুলো দেখে মনে হচ্ছে এ যেন উম্মুক্ত জলাশয়। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নির্বিচারে আবাদি কৃষি জমি থেকে মাটি খনন করায় দিনদিন কমে যাচ্ছে ফসলী জমি। অন্য দিকে উর্বর শক্তি কমে গিয়ে ফসল উৎপাদনে হ্রাস পাচ্ছে।

প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক্টর মাটি কেটে ভাটায় পৌঁছে দেয়ার কাজে ব্যস্ত। বিশেষ করে উপজেলার মুরাদনগর, চৌধুরীকান্দি, নয়াকান্দি, দিলালপুর, গুঞ্জুর, হিরাকান্দ, কোম্পানীগঞ্জ, ধামঘর, ভূবনঘর, দক্ষিন ত্রিশ, উত্তর ত্রিশ, ঘোড়ারশালসহ প্রায় অর্ধশতাদিক স্থানে কৃষি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে ইট ভাটার মালিকরা ইট তৈরি কাজে ব্যবহার করছে। এর মাত্রা আগামীতে বাড়তে থাকলে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগের আশঙ্কা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র সৌম জানান, কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে গর্ত করার কারণে ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। মাটির উর্বর শক্তি কমে যাওয়ার কারণে এই জমিতে আর তেমন ফলন হয় না। এক পর্যায়ে এই জমিগুলোতে ফসল কম হওয়ার কারণে চাষিদেরও আগ্রহ কমে যায়।  এই ধরনের কর্মকান্ডে বন্ধ করতে না পারলে আগামীতে উৎপাদনে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে।