ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে অযত্ন অবহেলায় শহীদদের কবর :সংরক্ষণে নেই কোন উদ্যোগ

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, মো: নাজিম উদ্দিনঃ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১সালে বাংলাদেশের নর-নারীরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেন। মুক্তিযুদ্ধে ৩০লক্ষ প্রাণ ঝড়ে যায়। বাঙ্গালী জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সাথে সম্মানিত করলেও কুমিল্লার মুরাদনগরে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের কবর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অযত্ন ও অবহেলায়। শহীদের সমাধি সংরক্ষনে কোন প্রকার উদ্যোগ না থাকায় প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কবর।

স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে একদিনের জন্যও শহীদদের কবর পরিষ্কার করে পুষ্পার্পণ করা হয় না। শহীদদের পরিবার ও স্থানীয়দের গণদাবী উপজেলার শহীদদের কবর সংরক্ষণ, চাপিতলা ও রামচন্দ্রপুরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ, যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসহ পূণর্বাসন করা হউক।
কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলা সদরের ডিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে, কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের খামারগ্রামে, শ্রীরামপুর কদমতলী, চাপিতলা,সিদ্ধেশ্বরি ও রামচন্দ্রপুরে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কবর অবহেলা অযত্নে রয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহীদদের কবরস্থান এলাকায় ঝোঁপঝাড়ে ভরা। অযত্ন আর অবহেলায় কোথাও কোথাও কোন শহীদের কবর হারিয়ে গেছে। কোন কোথাও কিছু কবর বিভিনসামাজিক সংগঠন  বিভিন্ন সময় পাকা করে দেয়। সে সময় এ গুলো পরিষ্কার করা হয়। এরপর আার কোন সময় পরিষ্কার করা হয়নি। ঝোঁপঝাড়ের কারনে

এইসব স্থান গুলোতে বিষাক্ত সাপের ভয় রয়েছে। ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামস্থ মুরাদনগর থানা জন কল্যান সমিতি কিছু কবরস্থান পাকা করে স্মৃতি ফলক নির্মান করে। এর পূর্বে বা পরে সরকারি বেসরকারি ভাবে আর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৩১ অক্টোবর (৩ কার্তিক, ১০ রমজান) সকাল ৭টায় রাজা চাপিতলাস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে হানা দিতে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনম্যান্ট (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সেনা ছাউনি) থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত এক ব্যাটালিয়নের পাক সেনাদল কোম্পানীগঞ্জ বাজার হয়ে নবীনগর রোডে বিশাল গাড়ি বহর নিয়ে চাপিতলা পৌঁছার পর মুক্তিযোদ্ধারা কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল গুলি বিনিময় হয়। এতে চাপিতলা, খামারগ্রাম, বাঙ্গরা, শ্রীরামপুর কদমতলিসহ আস পাশের গ্রামের ২০ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ অর্ধশত নারী-পুরুষ আহত, ২১ নারীর শ্লীলতাহানী ২০৬টি বাড়ী ও অর্ধশতাধিক গবাদি পশু জ্বালিয়ে দেয়াসহ ব্যাপক লুন্ঠন করা হয়।

অপর দিকে ১৯৭১ সালের ২৪ মে এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী রাজাকারদের সহযোগিতায় উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজার সংলগ্ন হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম বাখরাবাদে নৃশংস গণহত্যা চালিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক হিন্দু নারী পুরুষ পাক হানাদার বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা শেষে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে লুটপাট করে। পাক হানাদার বাহিনী হত্যাযজ্ঞের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ২১ জন ব্যক্তিকে পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার ক্যাম্পে ধরে নিয়ে পরদিন ১৮ জনকে এক সাথে গুলি চালিয়ে হত্যা করে।
স্বাধীনতাযুদ্ধে পিতা-মাতা হারা চাপিতলা গ্রামের হাবিবুর রহমান জাফর জানান, ৭১ সালের ৩১ অক্টোবর পাক হানাদাররা তার পিতা-মাতাকে হত্যাসহ বাড়ীঘর লুট-পাট ও অগ্নিসংযোগে সর্বশান্ত করে দেয়। শহীদ পরিবারের একজন সদস্য হওয়া সত্বেও স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও কেউ তার খোঁজ নেয়নি। বাধ্য হয়ে জীবিকা নির্বাহে ঢাকায় সংবাদপত্রের হকারী করে আসছেন। তার দাবী কেউ তার খোজ না নিলেও শহীদদের কবরগুলো যেন সরকারি ভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

মুুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুন অর রশিদ জানান, শহীদদের স্মরণে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কার্যালয় থেকে রাজা চাপিতলা ও রামচন্দ্রপুরে স্মৃতিসৌধ নির্মান ও কবর সংরক্ষনে কোন প্রদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুনেছি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  শহীদদের স্মরণে চাপিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে স্মৃতিসৌধ হওয়ার কথা ছিল তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগর বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতির ইন্তেকাল

মুরাদনগরে অযত্ন অবহেলায় শহীদদের কবর :সংরক্ষণে নেই কোন উদ্যোগ

আপডেট সময় ০২:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৬
মো: মোশাররফ হোসেন মনির, মো: নাজিম উদ্দিনঃ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১সালে বাংলাদেশের নর-নারীরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেন। মুক্তিযুদ্ধে ৩০লক্ষ প্রাণ ঝড়ে যায়। বাঙ্গালী জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সাথে সম্মানিত করলেও কুমিল্লার মুরাদনগরে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের কবর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অযত্ন ও অবহেলায়। শহীদের সমাধি সংরক্ষনে কোন প্রকার উদ্যোগ না থাকায় প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কবর।

স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে একদিনের জন্যও শহীদদের কবর পরিষ্কার করে পুষ্পার্পণ করা হয় না। শহীদদের পরিবার ও স্থানীয়দের গণদাবী উপজেলার শহীদদের কবর সংরক্ষণ, চাপিতলা ও রামচন্দ্রপুরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ, যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসহ পূণর্বাসন করা হউক।
কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলা সদরের ডিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে, কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের খামারগ্রামে, শ্রীরামপুর কদমতলী, চাপিতলা,সিদ্ধেশ্বরি ও রামচন্দ্রপুরে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কবর অবহেলা অযত্নে রয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহীদদের কবরস্থান এলাকায় ঝোঁপঝাড়ে ভরা। অযত্ন আর অবহেলায় কোথাও কোথাও কোন শহীদের কবর হারিয়ে গেছে। কোন কোথাও কিছু কবর বিভিনসামাজিক সংগঠন  বিভিন্ন সময় পাকা করে দেয়। সে সময় এ গুলো পরিষ্কার করা হয়। এরপর আার কোন সময় পরিষ্কার করা হয়নি। ঝোঁপঝাড়ের কারনে

এইসব স্থান গুলোতে বিষাক্ত সাপের ভয় রয়েছে। ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামস্থ মুরাদনগর থানা জন কল্যান সমিতি কিছু কবরস্থান পাকা করে স্মৃতি ফলক নির্মান করে। এর পূর্বে বা পরে সরকারি বেসরকারি ভাবে আর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৩১ অক্টোবর (৩ কার্তিক, ১০ রমজান) সকাল ৭টায় রাজা চাপিতলাস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে হানা দিতে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনম্যান্ট (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সেনা ছাউনি) থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত এক ব্যাটালিয়নের পাক সেনাদল কোম্পানীগঞ্জ বাজার হয়ে নবীনগর রোডে বিশাল গাড়ি বহর নিয়ে চাপিতলা পৌঁছার পর মুক্তিযোদ্ধারা কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল গুলি বিনিময় হয়। এতে চাপিতলা, খামারগ্রাম, বাঙ্গরা, শ্রীরামপুর কদমতলিসহ আস পাশের গ্রামের ২০ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ অর্ধশত নারী-পুরুষ আহত, ২১ নারীর শ্লীলতাহানী ২০৬টি বাড়ী ও অর্ধশতাধিক গবাদি পশু জ্বালিয়ে দেয়াসহ ব্যাপক লুন্ঠন করা হয়।

অপর দিকে ১৯৭১ সালের ২৪ মে এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী রাজাকারদের সহযোগিতায় উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজার সংলগ্ন হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম বাখরাবাদে নৃশংস গণহত্যা চালিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক হিন্দু নারী পুরুষ পাক হানাদার বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা শেষে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে লুটপাট করে। পাক হানাদার বাহিনী হত্যাযজ্ঞের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ২১ জন ব্যক্তিকে পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার ক্যাম্পে ধরে নিয়ে পরদিন ১৮ জনকে এক সাথে গুলি চালিয়ে হত্যা করে।
স্বাধীনতাযুদ্ধে পিতা-মাতা হারা চাপিতলা গ্রামের হাবিবুর রহমান জাফর জানান, ৭১ সালের ৩১ অক্টোবর পাক হানাদাররা তার পিতা-মাতাকে হত্যাসহ বাড়ীঘর লুট-পাট ও অগ্নিসংযোগে সর্বশান্ত করে দেয়। শহীদ পরিবারের একজন সদস্য হওয়া সত্বেও স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও কেউ তার খোঁজ নেয়নি। বাধ্য হয়ে জীবিকা নির্বাহে ঢাকায় সংবাদপত্রের হকারী করে আসছেন। তার দাবী কেউ তার খোজ না নিলেও শহীদদের কবরগুলো যেন সরকারি ভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

মুুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুন অর রশিদ জানান, শহীদদের স্মরণে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কার্যালয় থেকে রাজা চাপিতলা ও রামচন্দ্রপুরে স্মৃতিসৌধ নির্মান ও কবর সংরক্ষনে কোন প্রদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুনেছি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  শহীদদের স্মরণে চাপিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে স্মৃতিসৌধ হওয়ার কথা ছিল তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।