ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে আবারো খন্ডকালিন শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্চিত

মো: মোশাররফ হোসেন মনির/মাহবুব আলম আরিফঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় ঘোড়াশাল আবদুল করিম বিদ্যালয়ে তালা দেওয়া ও প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত হওয়ার সাত মাস পর আবারো খন্ডকালিন শিক্ষক ও এলাকার প্রভাবশালীর হাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলার পায়ব হাজী আব্দুল গণী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ভল্লবদী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ও বিদ্যালয়ের খন্ডকালিন শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় তার বিষয় (ইংরেজী) ভিত্তিক খাতা না দেখে নাম্বার দেওয়ার অভিযোগ পায় প্রধান শিক্ষক মো: আনোয়ার হোসেন। দশম শ্রেনীর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পরীক্ষার ইংরেজী খাতা ঐ খন্ডকালিন শিক্ষককে না দিয়ে অন্য শিক্ষকে দেওয়া হয়। এতে খন্ডকালিন শিক্ষক সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে পায়ব গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে জামাল হোসেনকে নিয়ে ইংরেজী খাতা সাইফুলকে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতে প্রধান শিক্ষক রাজি না হওয়ায় তাকে লাঞ্চিত করে। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছেটে এসে প্রধান শিক্ষককে রক্ষা করে। জামালকে তারা করলে সে পালিয়ে যায় এবং খন্ডকালিন শিক্ষক সাইফুলকে অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে মুরাদনগর থানার এসআই মোমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য ফারুক ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরষদের কিছু সদস্য উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেনে আনে।

ঘটনার সময় উপস্থিত বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরষদ কমিটির সদস্য মফিজ উদ্দিন বলেন, আমার সামনেই সহকারি শিক্ষক সাইফুল ও বহিরাগত জামালের সাথে খাতার বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্লাস্টিাকের চেয়ার দিয়ে প্রধান শিক্ষককে আগাত করে।

অভিযুক্ত খন্ডকালিন শিক্ষক সাইফুল প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, খাতা না দেখে নাম্বার বিষয়টি আমাকে অবহিত না করেই প্রধান শিক্ষক অন্য শিক্ষককে খাতা প্রধান করে।

পায়ব হাজী আব্দুল গণী উচ্চ বিদ্যালয়র প্রধান শিক্ষক মো: আনোয়ার হোসেন লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ঐ খন্ডকালিন শিক্ষক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগও রয়েছে। এতে আমি তাকে মৌখিক ভাবে জানিয়ে সংশোদন হওয়ার কথা বলি। কিন্তু সে আমার কথা না শুনে বাহিরের লোক এনে আমাকে লাঞ্চিত করে।

জাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরষদের নব-গঠিত সভাপতি সফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী শুক্রবার এ বিষয়টি নিয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি, ইউপি সদস্য, পরিচালানা কমিটি ও থানার লোকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে একটি সভা ডাকা হয়েছে। ঐ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষযে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ আমি পাইনি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

মুরাদনগর ভয়াবহ আগুন কয়ক কাটি টাকার ক্ষতি 

মুরাদনগরে আবারো খন্ডকালিন শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্চিত

আপডেট সময় ১২:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭
মো: মোশাররফ হোসেন মনির/মাহবুব আলম আরিফঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় ঘোড়াশাল আবদুল করিম বিদ্যালয়ে তালা দেওয়া ও প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত হওয়ার সাত মাস পর আবারো খন্ডকালিন শিক্ষক ও এলাকার প্রভাবশালীর হাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলার পায়ব হাজী আব্দুল গণী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ভল্লবদী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ও বিদ্যালয়ের খন্ডকালিন শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় তার বিষয় (ইংরেজী) ভিত্তিক খাতা না দেখে নাম্বার দেওয়ার অভিযোগ পায় প্রধান শিক্ষক মো: আনোয়ার হোসেন। দশম শ্রেনীর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পরীক্ষার ইংরেজী খাতা ঐ খন্ডকালিন শিক্ষককে না দিয়ে অন্য শিক্ষকে দেওয়া হয়। এতে খন্ডকালিন শিক্ষক সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে পায়ব গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে জামাল হোসেনকে নিয়ে ইংরেজী খাতা সাইফুলকে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতে প্রধান শিক্ষক রাজি না হওয়ায় তাকে লাঞ্চিত করে। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছেটে এসে প্রধান শিক্ষককে রক্ষা করে। জামালকে তারা করলে সে পালিয়ে যায় এবং খন্ডকালিন শিক্ষক সাইফুলকে অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে মুরাদনগর থানার এসআই মোমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য ফারুক ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরষদের কিছু সদস্য উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেনে আনে।

ঘটনার সময় উপস্থিত বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরষদ কমিটির সদস্য মফিজ উদ্দিন বলেন, আমার সামনেই সহকারি শিক্ষক সাইফুল ও বহিরাগত জামালের সাথে খাতার বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্লাস্টিাকের চেয়ার দিয়ে প্রধান শিক্ষককে আগাত করে।

অভিযুক্ত খন্ডকালিন শিক্ষক সাইফুল প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, খাতা না দেখে নাম্বার বিষয়টি আমাকে অবহিত না করেই প্রধান শিক্ষক অন্য শিক্ষককে খাতা প্রধান করে।

পায়ব হাজী আব্দুল গণী উচ্চ বিদ্যালয়র প্রধান শিক্ষক মো: আনোয়ার হোসেন লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ঐ খন্ডকালিন শিক্ষক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগও রয়েছে। এতে আমি তাকে মৌখিক ভাবে জানিয়ে সংশোদন হওয়ার কথা বলি। কিন্তু সে আমার কথা না শুনে বাহিরের লোক এনে আমাকে লাঞ্চিত করে।

জাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরষদের নব-গঠিত সভাপতি সফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী শুক্রবার এ বিষয়টি নিয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি, ইউপি সদস্য, পরিচালানা কমিটি ও থানার লোকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে একটি সভা ডাকা হয়েছে। ঐ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষযে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ আমি পাইনি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।