ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে দেড় লক্ষ শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা থেকে

মোঃ মোশাররফ হোসেন মনিরঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ৩০৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয় শিক্ষা থেকে। সরকার সবকয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (প্রজেক্টরভিক্তিক) মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে সকল বিষয়ে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। কিন্তু নতুন এ তথ্য প্রযুক্তির আওতায় ক্লাশ গ্রহণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও পাচ্ছেনা এই শিক্ষা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বিদুৎ, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রজেক্টর সংকটসহ প্রতিষ্ঠান গুলোর উদাসিনতার করনেই মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও আইসিটি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার মূল কারন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

উপজেলা শিক্ষা ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলায় ৩০৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে, ২০৪টি প্রাথমিক, ১১টি কলেজ, ৫৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে ১শ’৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদুৎ সংযোগ থাকলেও বাকি ১৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই বিদুৎ। বিদুৎ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রজেক্টর সর্বরাহ করা হলেও কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল বিষয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরভিক্তিক আইসিটি ক্লস হচ্ছে না বলে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা অভিযোগ। এতে করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও আইসিটি শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ করে জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি হাতে কলমে শিক্ষার বিষয়। তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণী কক্ষ কম থাকায় প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করে শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ের উপরে ভাল দখল নিতে না পেরে একটি নিদিষ্ট্য সময়ে কিছু সুবিধার বিনিময়ে আমাদেরকে শিক্ষকের বাসায় সময় দিতে হচ্ছে। যা দরিদ্র ছাত্ররা এই সুবিধা নিতে পারছে না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এএনএম মাহবুব আলম জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বছর থেকে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে সরকার। ২০৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১টি স্কুলে ল্যাপটপ, ২৪টিতে প্রজেক্টর ও ৬৯ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষক, শ্রেনী কক্ষ সংকট ও একশত স্কুলে বিদ্যৎ না থাকায় শত ভাগ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যাচ্ছেনা। আগামী বৎসরের মধ্যে প্রতিটি ক্লাশ মাল্টিমিডিয়ার আওতায় আনার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লস সম্পর্কে আমরা জরালো ভূমিকা রাখছি। একশত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত ৭২টি প্রতিষ্ঠানে ৭২টি প্রজেক্টর বিতরন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৪ জন শিক্ষককে এ বিষয়ে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। প্রজেক্টর, কম্পিউটার ও প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষক সংকটের কারনে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। আইসিটি শিক্ষা বিষয়ে তিনি জানান, মাত্র ২২টি প্রতিষ্ঠানে আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক রয়েছে। শিক্ষক সংকট হওয়ার কারনেই শিক্ষার্থীদের আইসিটি শিক্ষায় সর্মস্যা হচ্ছে। আশা করি অচিরেই এ সংকট কেটে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের বলেন, এ উপজেলায় নতুন এসেছি সব বিষয়ে আমি আবহিত নই। প্রাথমি ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযো করে উদ্যেগ নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ ও শিক্ষকদের নিজস্ব উদ্যোগে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর ব্যবস্থা গ্রহন করেতে পারেন। যদি তানিয়ে কোন প্রশ্নের তৈরী না হয়। তাহলে আগামী বছরের মধ্যে প্রতিটি ক্লাশ মাল্টিমিডিয়ার আওতায় এনে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে দেড় লক্ষ শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা থেকে

আপডেট সময় ০৪:৩২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ নভেম্বর ২০১৬
মোঃ মোশাররফ হোসেন মনিরঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ৩০৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয় শিক্ষা থেকে। সরকার সবকয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (প্রজেক্টরভিক্তিক) মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে সকল বিষয়ে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। কিন্তু নতুন এ তথ্য প্রযুক্তির আওতায় ক্লাশ গ্রহণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও পাচ্ছেনা এই শিক্ষা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বিদুৎ, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রজেক্টর সংকটসহ প্রতিষ্ঠান গুলোর উদাসিনতার করনেই মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও আইসিটি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার মূল কারন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

উপজেলা শিক্ষা ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলায় ৩০৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে, ২০৪টি প্রাথমিক, ১১টি কলেজ, ৫৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে ১শ’৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদুৎ সংযোগ থাকলেও বাকি ১৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই বিদুৎ। বিদুৎ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রজেক্টর সর্বরাহ করা হলেও কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল বিষয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরভিক্তিক আইসিটি ক্লস হচ্ছে না বলে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা অভিযোগ। এতে করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও আইসিটি শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ করে জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি হাতে কলমে শিক্ষার বিষয়। তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণী কক্ষ কম থাকায় প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করে শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ের উপরে ভাল দখল নিতে না পেরে একটি নিদিষ্ট্য সময়ে কিছু সুবিধার বিনিময়ে আমাদেরকে শিক্ষকের বাসায় সময় দিতে হচ্ছে। যা দরিদ্র ছাত্ররা এই সুবিধা নিতে পারছে না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এএনএম মাহবুব আলম জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বছর থেকে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে সরকার। ২০৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১টি স্কুলে ল্যাপটপ, ২৪টিতে প্রজেক্টর ও ৬৯ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষক, শ্রেনী কক্ষ সংকট ও একশত স্কুলে বিদ্যৎ না থাকায় শত ভাগ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যাচ্ছেনা। আগামী বৎসরের মধ্যে প্রতিটি ক্লাশ মাল্টিমিডিয়ার আওতায় আনার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লস সম্পর্কে আমরা জরালো ভূমিকা রাখছি। একশত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত ৭২টি প্রতিষ্ঠানে ৭২টি প্রজেক্টর বিতরন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৪ জন শিক্ষককে এ বিষয়ে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। প্রজেক্টর, কম্পিউটার ও প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষক সংকটের কারনে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। আইসিটি শিক্ষা বিষয়ে তিনি জানান, মাত্র ২২টি প্রতিষ্ঠানে আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক রয়েছে। শিক্ষক সংকট হওয়ার কারনেই শিক্ষার্থীদের আইসিটি শিক্ষায় সর্মস্যা হচ্ছে। আশা করি অচিরেই এ সংকট কেটে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের বলেন, এ উপজেলায় নতুন এসেছি সব বিষয়ে আমি আবহিত নই। প্রাথমি ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযো করে উদ্যেগ নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ ও শিক্ষকদের নিজস্ব উদ্যোগে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর ব্যবস্থা গ্রহন করেতে পারেন। যদি তানিয়ে কোন প্রশ্নের তৈরী না হয়। তাহলে আগামী বছরের মধ্যে প্রতিটি ক্লাশ মাল্টিমিডিয়ার আওতায় এনে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।