ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে নবীপুর-শ্রীকাইল সড়কের বেহাল দশা ২ লক্ষাধিক পথচারীর দূর্ভোগ চরমে

আবুল খায়ের, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়কের বেহাল দশা। বিগত ১০ বছরেরও বেশী সময় ধরে সংস্কারনা করায় জন বহুল এ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে অবিলম্বে আন্দোলনে নামার চিন্তা ভাবনা করছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

জনগুরত্বপূর্ণ এ সড়কের বেহাল দশায় চরম দূর্ভোগে পড়েছে ওই এলাকার শতাধিক গ্রামের প্রায় ২ লক্ষাধিক জন সাধারণ। এ দিকে সড়কটি সংস্কারের জন্য ৩ বছর আগেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার পাঠালেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ সময়মত সংস্কার পদক্ষেপ নেয়নি। তাই দিনে দিনে সড়কটি সংস্কার নয় নতুন করে পুন:নির্মানের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এতে সরকারের নির্মান ব্যায় ৪ গুনেরও বেশী লাগতে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন জেলার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়কটি ১০ বছরের বেশী সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এ সড়ক দিয়ে এক সময় সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করলেও দিনে দিনে সড়কটির অস্তিত্ব বিলিন হয়ে এখন আর রিক্সাও চলাচল করতে পারছে না। গাড়ি চলাচলের রাস্তা দিয়ে এখন পায়ে হেটে চলাই পথচারীদের একমাত্র ভরসা। সড়কটির পিচ এবং ইট সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ সব খানা-খন্দ ও গর্তের ফাঁদে পড়ে পথচারীরা প্রতিনিয়তই নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেক ছোট বড় যানবাহন অধিকাংশ সময় বিকল এবং দূর্ঘটনার কবলে পড়ায় যান চলাচল এখন একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্বাবধাণের অভাবে সড়কটি এখন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। সারা দেশে সড়ক উন্নয়নে বেশ প্রশংসনীয় ভুমিকা পালন করলেও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কেন এ ২ লাখ মানুষের আকুতি শোনেন না এমন প্রশ্ন এখন  এলাকাবাসীর। অবিলম্বে এ সড়কটির দিকে সড়ক মন্ত্রীর দৃস্টি চায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

এদিকে সড়কটি সংস্কারের জন্য গত ৩ বছর আগেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন সড়ক বিভাগ ও মন্ত্রনালয়ে ডিও লেটার পাঠালেও দিনে দিনে সড়কটির অবস্থা এমনই বেহাল হয়ে গেছে যা সংস্কার নয় এখন পুনরায় নতুন করে নির্মান করতে হবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বর্ষা মৌসমে সড়কের বড় বড় গর্ত গুলোতে পানি আটকে থেকে পর্যায়ক্রমে পাশের খালের সাথে মিলিত হয়ে যাচ্ছে।।

অপরদিকে নবীপুর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়কের এ বেহাল দশার কারণে আশপাশের প্রায় ১২টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছেনা। রিক্সা,সিএনজি ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব যানবাহনের উপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারছেনা। ঝুঁকির কারনে অনেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পায়ে হেটে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে। সড়কের বেহাল দশার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে দিন দিন উপস্থিতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খন্দকার, নবীপুর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়কটির বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে জানান, ওই সড়কে ৫টি কালভার্টসহ ৭২ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরী করে সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় হয়ে একনেকের বৈঠকে অনুমোদিত হলেই সংস্কার কাজ করা যাবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, সড়কটি সংস্কার কাজের তালিকায় রয়েছে। বরাদ্ধ পাওয়া গেলে সংস্কার কাজের দরপত্র আহবান করা হবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

মুরাদনগরে নবীপুর-শ্রীকাইল সড়কের বেহাল দশা ২ লক্ষাধিক পথচারীর দূর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় ১২:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০১৭
আবুল খায়ের, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়কের বেহাল দশা। বিগত ১০ বছরেরও বেশী সময় ধরে সংস্কারনা করায় জন বহুল এ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে অবিলম্বে আন্দোলনে নামার চিন্তা ভাবনা করছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

জনগুরত্বপূর্ণ এ সড়কের বেহাল দশায় চরম দূর্ভোগে পড়েছে ওই এলাকার শতাধিক গ্রামের প্রায় ২ লক্ষাধিক জন সাধারণ। এ দিকে সড়কটি সংস্কারের জন্য ৩ বছর আগেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার পাঠালেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ সময়মত সংস্কার পদক্ষেপ নেয়নি। তাই দিনে দিনে সড়কটি সংস্কার নয় নতুন করে পুন:নির্মানের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এতে সরকারের নির্মান ব্যায় ৪ গুনেরও বেশী লাগতে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন জেলার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়কটি ১০ বছরের বেশী সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এ সড়ক দিয়ে এক সময় সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করলেও দিনে দিনে সড়কটির অস্তিত্ব বিলিন হয়ে এখন আর রিক্সাও চলাচল করতে পারছে না। গাড়ি চলাচলের রাস্তা দিয়ে এখন পায়ে হেটে চলাই পথচারীদের একমাত্র ভরসা। সড়কটির পিচ এবং ইট সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ সব খানা-খন্দ ও গর্তের ফাঁদে পড়ে পথচারীরা প্রতিনিয়তই নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেক ছোট বড় যানবাহন অধিকাংশ সময় বিকল এবং দূর্ঘটনার কবলে পড়ায় যান চলাচল এখন একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্বাবধাণের অভাবে সড়কটি এখন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। সারা দেশে সড়ক উন্নয়নে বেশ প্রশংসনীয় ভুমিকা পালন করলেও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কেন এ ২ লাখ মানুষের আকুতি শোনেন না এমন প্রশ্ন এখন  এলাকাবাসীর। অবিলম্বে এ সড়কটির দিকে সড়ক মন্ত্রীর দৃস্টি চায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

এদিকে সড়কটি সংস্কারের জন্য গত ৩ বছর আগেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন সড়ক বিভাগ ও মন্ত্রনালয়ে ডিও লেটার পাঠালেও দিনে দিনে সড়কটির অবস্থা এমনই বেহাল হয়ে গেছে যা সংস্কার নয় এখন পুনরায় নতুন করে নির্মান করতে হবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বর্ষা মৌসমে সড়কের বড় বড় গর্ত গুলোতে পানি আটকে থেকে পর্যায়ক্রমে পাশের খালের সাথে মিলিত হয়ে যাচ্ছে।।

অপরদিকে নবীপুর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়কের এ বেহাল দশার কারণে আশপাশের প্রায় ১২টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছেনা। রিক্সা,সিএনজি ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব যানবাহনের উপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারছেনা। ঝুঁকির কারনে অনেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পায়ে হেটে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে। সড়কের বেহাল দশার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে দিন দিন উপস্থিতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খন্দকার, নবীপুর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়কটির বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে জানান, ওই সড়কে ৫টি কালভার্টসহ ৭২ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরী করে সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় হয়ে একনেকের বৈঠকে অনুমোদিত হলেই সংস্কার কাজ করা যাবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, সড়কটি সংস্কার কাজের তালিকায় রয়েছে। বরাদ্ধ পাওয়া গেলে সংস্কার কাজের দরপত্র আহবান করা হবে।