ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে নির্বাচনের রেশ কাটেনি এখনও ৮ বাড়িতে হামলা, আহত ২০

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

ইউপি নির্বাচনে মেম্বার সমর্থনকে কেন্দ্র করে তিন দফায় হামলা হয়েছে। হামলায় ৮টি বাড়ি ভাংচুর ও ২০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এক পক্ষের আট পরিবারের সদস্যরা গ্রামে প্রবেশ করতে পারছেনা। কোন পক্ষের একজন আসামীও পুলিশ গ্রেফতার করছেনা বলে এলাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত এ আতঙ্কিত চিত্র বিরাজ করছে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউপির রামপুর গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের ইউপি নির্বাচনে রামপুর গ্রামের মেম্বার মুনজুরকে গ্রামের একপক্ষ সমর্থন না করে সুজন নামের এক প্রার্থীকে সমর্থন করে তারা। মামলার জটিলতার কারণে এই ইউপির নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। যার ফলে মুনজর মেম্বার ফুরফুরা মেজাজে ইউপির কর্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে মুনজর মেম্বারের সমর্থকরা সুজন সমর্থকদের হয়রানী করার পায়তারা শুরু করেন। তারই ফলশ্রুতি হিসাবে গত মাসে সুজন সমর্থকদের মিথ্যা মামলা দেন মুনজর সমর্থকরা। পরে সুজন সমর্থকরা জামিনে আসেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে সুজন সমর্থকের হোসেন মিয়া (৬৫) বাজার থেকে দুধ বিক্রি করে ফেরার পথে মুনজর সমর্থকের মোবারক ও অপু দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। ঘটনা স্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বৃদ্ধা হোসেন। এঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও ইট পাক্কেল ছুঁড়া ছুঁড়ি হলে উভয় পক্ষের কম পক্ষে ২০ জন আহত হয়। পরে মুনজর পক্ষের অপুর বাবা শাজাহানকে প্রধান আসামী করে জসিম উদ্দিন বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। পরক্ষনেই দোকান পাট ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ এনে মুনজর পক্ষ সুজন পক্ষের লোকজনের ভিরুদ্ধে মামলা দেয় থানায় এবং একই গ্রামের সুজন পক্ষের জসিম, ওমর, তৌফিক,কালু মিয়া, রব্বান মিয়া, ছাদ্দম, বাবুল ও খবির মিয়ার বাড়িতে হামলা দিলে প্রান ভয়ে ওই ৮ পরিবারের লোক জন পালিয়ে যায়। ঘটনা স্থলে পুলিশ গিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গতকাল রবিবার এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত ওই আট পরিবারের লোকজন গ্রামে প্রবেশ করতে পারেনি।

সুজন সমর্থকের জসিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয় মেম্বার মুনজরের ইন্দনে শাজাহান ও মোছলেম মিয়া আমাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করতে না পেরে। দলবলে  দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়ি ঘরে হামলা দেয়। তাদের মামলায় আমরা ১৫ জন আহত হই এবং আমাদের ১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। আমরা এখন গ্রামে যেতে পারছি না। পুলিশ তাদের কাউকে গ্রাফতার করছে না এবং আমাদেরকে গ্রামে যেতে সহযোগিতা করছেনা। এতে করে আমরা বাড়ি ঘর ছেড়ে মানবেতর ও আতঙ্কের মধ্যে জীবন যাপন করছি।

হামলার শিকার ফারুক মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে ফাহিম অন্যের বাড়িতে থেকে পিএসসি পরিক্ষা দিচ্ছে। আতঙ্কের কারণে বাড়ি যেতে পারছিনা।

মুনজর সমর্থকের শাজাহান বলেন, জসিম একদল লোক নিয়ে আমারদের কয়েক জনের বাড়িতে হামলা চালালে আমাদের লোকজন তাদেরকে ভয়ভিতি দেখিয়েছে মাত্র, তাছাড়া আর কিছু নয়। বাড়ি ঘর ভাংচুরের ছবি তোলতে দিচ্ছেন না কেন? এমন প্রশ্নে শাজাহান বলেন, অন্য একজন এসে ছবি তোলেছে তাই আপনি আর তোলার দরকার নেই।

থানার উপ-পরিদর্শক জীবন হাজারী বলেন, ‘আমি ঘটনা স্থলে গিয়েছি, কেউকে গ্রেফতার করতে পারিনি। তবে মুনজর মেম্বারকে ঘটনাস্থলে না পেয়ে ফোনে বলেছি আমার সাথে দেখা করার জন্য এবং ঘটনা সামনের দিকে এগোলে তার দায় সে এরাতে পারবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছি তাকে।

স্থানীয় মেম্বার মুনজরের মুঠো ফোনে একাদিক বার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করাতে তার সাথে এই বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয় নি।

মুরাদনগর থানার ওসি মিজানুর রহমানের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে দিনি বলেন, আমি ছুটিতে চিলাম। খবর নিয়ে বিষয়টি দেখব।

ট্যাগস

মুরাদনগরে নির্বাচনের রেশ কাটেনি এখনও ৮ বাড়িতে হামলা, আহত ২০

আপডেট সময় ০৩:১৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ নভেম্বর ২০১৬
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

ইউপি নির্বাচনে মেম্বার সমর্থনকে কেন্দ্র করে তিন দফায় হামলা হয়েছে। হামলায় ৮টি বাড়ি ভাংচুর ও ২০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এক পক্ষের আট পরিবারের সদস্যরা গ্রামে প্রবেশ করতে পারছেনা। কোন পক্ষের একজন আসামীও পুলিশ গ্রেফতার করছেনা বলে এলাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত এ আতঙ্কিত চিত্র বিরাজ করছে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউপির রামপুর গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের ইউপি নির্বাচনে রামপুর গ্রামের মেম্বার মুনজুরকে গ্রামের একপক্ষ সমর্থন না করে সুজন নামের এক প্রার্থীকে সমর্থন করে তারা। মামলার জটিলতার কারণে এই ইউপির নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। যার ফলে মুনজর মেম্বার ফুরফুরা মেজাজে ইউপির কর্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে মুনজর মেম্বারের সমর্থকরা সুজন সমর্থকদের হয়রানী করার পায়তারা শুরু করেন। তারই ফলশ্রুতি হিসাবে গত মাসে সুজন সমর্থকদের মিথ্যা মামলা দেন মুনজর সমর্থকরা। পরে সুজন সমর্থকরা জামিনে আসেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে সুজন সমর্থকের হোসেন মিয়া (৬৫) বাজার থেকে দুধ বিক্রি করে ফেরার পথে মুনজর সমর্থকের মোবারক ও অপু দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। ঘটনা স্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বৃদ্ধা হোসেন। এঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও ইট পাক্কেল ছুঁড়া ছুঁড়ি হলে উভয় পক্ষের কম পক্ষে ২০ জন আহত হয়। পরে মুনজর পক্ষের অপুর বাবা শাজাহানকে প্রধান আসামী করে জসিম উদ্দিন বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। পরক্ষনেই দোকান পাট ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ এনে মুনজর পক্ষ সুজন পক্ষের লোকজনের ভিরুদ্ধে মামলা দেয় থানায় এবং একই গ্রামের সুজন পক্ষের জসিম, ওমর, তৌফিক,কালু মিয়া, রব্বান মিয়া, ছাদ্দম, বাবুল ও খবির মিয়ার বাড়িতে হামলা দিলে প্রান ভয়ে ওই ৮ পরিবারের লোক জন পালিয়ে যায়। ঘটনা স্থলে পুলিশ গিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গতকাল রবিবার এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত ওই আট পরিবারের লোকজন গ্রামে প্রবেশ করতে পারেনি।

সুজন সমর্থকের জসিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয় মেম্বার মুনজরের ইন্দনে শাজাহান ও মোছলেম মিয়া আমাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করতে না পেরে। দলবলে  দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়ি ঘরে হামলা দেয়। তাদের মামলায় আমরা ১৫ জন আহত হই এবং আমাদের ১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। আমরা এখন গ্রামে যেতে পারছি না। পুলিশ তাদের কাউকে গ্রাফতার করছে না এবং আমাদেরকে গ্রামে যেতে সহযোগিতা করছেনা। এতে করে আমরা বাড়ি ঘর ছেড়ে মানবেতর ও আতঙ্কের মধ্যে জীবন যাপন করছি।

হামলার শিকার ফারুক মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে ফাহিম অন্যের বাড়িতে থেকে পিএসসি পরিক্ষা দিচ্ছে। আতঙ্কের কারণে বাড়ি যেতে পারছিনা।

মুনজর সমর্থকের শাজাহান বলেন, জসিম একদল লোক নিয়ে আমারদের কয়েক জনের বাড়িতে হামলা চালালে আমাদের লোকজন তাদেরকে ভয়ভিতি দেখিয়েছে মাত্র, তাছাড়া আর কিছু নয়। বাড়ি ঘর ভাংচুরের ছবি তোলতে দিচ্ছেন না কেন? এমন প্রশ্নে শাজাহান বলেন, অন্য একজন এসে ছবি তোলেছে তাই আপনি আর তোলার দরকার নেই।

থানার উপ-পরিদর্শক জীবন হাজারী বলেন, ‘আমি ঘটনা স্থলে গিয়েছি, কেউকে গ্রেফতার করতে পারিনি। তবে মুনজর মেম্বারকে ঘটনাস্থলে না পেয়ে ফোনে বলেছি আমার সাথে দেখা করার জন্য এবং ঘটনা সামনের দিকে এগোলে তার দায় সে এরাতে পারবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছি তাকে।

স্থানীয় মেম্বার মুনজরের মুঠো ফোনে একাদিক বার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করাতে তার সাথে এই বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয় নি।

মুরাদনগর থানার ওসি মিজানুর রহমানের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে দিনি বলেন, আমি ছুটিতে চিলাম। খবর নিয়ে বিষয়টি দেখব।