ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায় আকাশে মেঘ দেখলেই

মো: মোশাররফ হোসেন মনিরঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক লক্ষ ১১ হাজার গ্রাহক নিয়মিত লোডশেডিংয়ে অভ্যস্থ হয়ে থাকলেও বৈশাখী হাওয়ায় দুর্ভোগের মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বৈশাখী হাওয়া ও আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা দিলেই বন্ধ করে দেওয়া হয় উপজেলার বিদ্যুৎ, যার প্রভাবে উপজেলাবাসী চরম দুর্ভোগসহ জনজীবন বির্যস্ত হয়ে পড়ছে।২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ১৬/১৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন থাকছে। ফলেণ বিপাকে পড়ছে রোগী, শিশু, অফিস, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণির মানুষ।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-১ এর মুরাদনরে কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিস ও বাঙ্গরার দৌলতপুর জোনাল অফিসের অধীনে মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়। এই এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে এক হাজার ৭ শত কিলোমিটার এবং গ্রাহক রয়েছে এক লক্ষ ১১ হাজার।

কোম্পানীগঞ্জে ৭টি, বাঙ্গরা সাব জোনালের ৬টি, ইলেটগঞ্জ ১টি, চান্দিনার ১টি ও হোমনার  ১টি ফিডারের মাধ্যমে ৩৫ জন লাইনম্যান দিয়ে দীর্ঘ এ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা চলছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যা পরতে হয় বিদ্যুৎ বিতরন কতৃপক্ষের। বিশেষ করে কালবৈশাখী ঝড়ের আশংকায় আকাশে মেঘ দেখা গেলেই বিদ্যুৎ বন্ধ  করে দেয়া হয়। পরে তা চালু করতে অনেক সময় লেগে যায়। এভাবে প্রতিদিনই মুরাদনগর উপজেলা জুড়ে ঝড় হওয়ায় বিভ্রাটে পড়ছে সাধারণ লোকজন।

বাঙ্গরার গ্রামের গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছর ঝড় বৃষ্টির মৌসুম এলেই আমাদের এই সমস্যা দেখা দেয়। যা চলে পুরো বর্ষাকাল জুড়েই। এবারও গত বৈশাখ মাস শুরু থেকেই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। দীর্ঘ দিনের এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

মুরাদনগর বাজারের ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান জানান, গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎতের সরবরাহ ভালো না থাকায় তিনি মোবাইল মেরামত করতে পারছেন না, এতে তার আয়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এখন এই এলাকার অনেক ব্যবসায়ীরা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরের সাহায্য নিচ্ছেন।

মুরাদনগর মাইক্রোপ্যাথ হসপিটালের ইনচার্জ মনির হোসেন জানান, গত কয়েকদিনের বিদ্যুৎতের এই অবস্থার জন্য তার ল্যাবের মেশিনের চরম ক্ষতি হয়েছে। অনেক জরুরি রোগীকেও ফেরত দিতে হচ্ছে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক হাবীবুর রহমান জানান, সতর্কতার জন্যই আগাম বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারো হাত নেই। ঝড়ে বিভিন্ন বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা চালু করতে সময় ব্যয় হয়ে যায়। এজন্য হয়ত কারো সমস্যা হতে পারে তবে কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের গাফিলতি নেই।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

মুরাদনগরে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায় আকাশে মেঘ দেখলেই

আপডেট সময় ০২:৩২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মে ২০১৮
মো: মোশাররফ হোসেন মনিরঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক লক্ষ ১১ হাজার গ্রাহক নিয়মিত লোডশেডিংয়ে অভ্যস্থ হয়ে থাকলেও বৈশাখী হাওয়ায় দুর্ভোগের মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বৈশাখী হাওয়া ও আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা দিলেই বন্ধ করে দেওয়া হয় উপজেলার বিদ্যুৎ, যার প্রভাবে উপজেলাবাসী চরম দুর্ভোগসহ জনজীবন বির্যস্ত হয়ে পড়ছে।২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ১৬/১৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন থাকছে। ফলেণ বিপাকে পড়ছে রোগী, শিশু, অফিস, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণির মানুষ।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-১ এর মুরাদনরে কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিস ও বাঙ্গরার দৌলতপুর জোনাল অফিসের অধীনে মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়। এই এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে এক হাজার ৭ শত কিলোমিটার এবং গ্রাহক রয়েছে এক লক্ষ ১১ হাজার।

কোম্পানীগঞ্জে ৭টি, বাঙ্গরা সাব জোনালের ৬টি, ইলেটগঞ্জ ১টি, চান্দিনার ১টি ও হোমনার  ১টি ফিডারের মাধ্যমে ৩৫ জন লাইনম্যান দিয়ে দীর্ঘ এ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা চলছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যা পরতে হয় বিদ্যুৎ বিতরন কতৃপক্ষের। বিশেষ করে কালবৈশাখী ঝড়ের আশংকায় আকাশে মেঘ দেখা গেলেই বিদ্যুৎ বন্ধ  করে দেয়া হয়। পরে তা চালু করতে অনেক সময় লেগে যায়। এভাবে প্রতিদিনই মুরাদনগর উপজেলা জুড়ে ঝড় হওয়ায় বিভ্রাটে পড়ছে সাধারণ লোকজন।

বাঙ্গরার গ্রামের গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছর ঝড় বৃষ্টির মৌসুম এলেই আমাদের এই সমস্যা দেখা দেয়। যা চলে পুরো বর্ষাকাল জুড়েই। এবারও গত বৈশাখ মাস শুরু থেকেই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। দীর্ঘ দিনের এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

মুরাদনগর বাজারের ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান জানান, গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎতের সরবরাহ ভালো না থাকায় তিনি মোবাইল মেরামত করতে পারছেন না, এতে তার আয়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এখন এই এলাকার অনেক ব্যবসায়ীরা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরের সাহায্য নিচ্ছেন।

মুরাদনগর মাইক্রোপ্যাথ হসপিটালের ইনচার্জ মনির হোসেন জানান, গত কয়েকদিনের বিদ্যুৎতের এই অবস্থার জন্য তার ল্যাবের মেশিনের চরম ক্ষতি হয়েছে। অনেক জরুরি রোগীকেও ফেরত দিতে হচ্ছে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক হাবীবুর রহমান জানান, সতর্কতার জন্যই আগাম বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারো হাত নেই। ঝড়ে বিভিন্ন বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা চালু করতে সময় ব্যয় হয়ে যায়। এজন্য হয়ত কারো সমস্যা হতে পারে তবে কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের গাফিলতি নেই।