ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

মো. হাবিবুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা গ্রামে দুই শত নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে ২৫/৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজসে ওই গ্রামের ইউপি সদস্য অহিদ মিয়া ও বিদ্যুৎ সালাউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিয়ে ভূক্তভোগী গ্রাহকদের মাঝে তোলপাড় চলছে। গ্রাহকগণ তাদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার লক্ষে বিশেষ বরাদ্ধের (মাস্টারপ্লান) আওতায় কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীনে পরমতলা গ্রামে দুই শত গ্রাহককে বিদ্যুতায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সরেজমিন পরিদর্শনকালে বিদ্যুতের গ্রাহক রমিজ উদ্দিন খান, মোসলেহ উদ্দিন ভুইয়া, শহিদুল হক, সফিকুল ইসলাম মুন্সী, নুরুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম ভুইয়া, নাজমা বেগম, মরিয়ম বিবি, কাজী আলাউদ্দিন, গোলাম হায়দার সুমন, হুমাযুন কবীর, আনিস মিয়া, আমির হোসেন ও তারেক বিল্লাহ অভিযোগ করে জানান, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় ইউপি সদস্য অহিদ মিয়া ও বিদ্যুৎ সালাউদ্দিন খান সর্বন্মি ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে। সরকারি ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে এ ভাবে দই শত গ্রাহকদের কাছ থেকে ওই চক্রটি প্রায় ২৫/৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। চক্রটি স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার স্বার্থে অনেকে প্রতিবাদ করাতো দূরের কথা ভয়েও মুখ খুলছে না। বিষয়টির ব্যাপারে আব্দুল আউয়াল মীর নামে এক যুবক প্রতিবাদ করলে চক্রটি তার উপর চরম ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠে। একাধিকবার হামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অপচেষ্টাসহ তাকে বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল ও অপদাস্ত করছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টির ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য অহিদ মিয়া জানান, আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে খরচ বাবদ ৩/৪ হাজার টাকা করে নিয়েছি। আবার কিছু মিটার বিনামূল্যেও সংযোগ দিয়েছি। একটি মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাকান্ড ছড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। অপর অভিযুক্ত বিদ্যুৎ সালাউদ্দিন খান জানান, আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। বিদ্যুৎ দ্রুত পাওয়ার স্বার্থে অহিদ মেম্বারকে সহযোগিতা করেছি। তবে মাস্টার প্লানে লাইন হলেও অফিসে অনেক খরচ দিতে হয় বলে তিনি স্বীকার করেন।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান জানান, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য মিটার বাবদ ৬৫০ টাকা ছাড়া অফিসে বাড়তি কোন টাকার দরকার লাগে না। অফিসের কেউ বাড়তি টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:৫৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০১৭
মো. হাবিবুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা গ্রামে দুই শত নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে ২৫/৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজসে ওই গ্রামের ইউপি সদস্য অহিদ মিয়া ও বিদ্যুৎ সালাউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিয়ে ভূক্তভোগী গ্রাহকদের মাঝে তোলপাড় চলছে। গ্রাহকগণ তাদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার লক্ষে বিশেষ বরাদ্ধের (মাস্টারপ্লান) আওতায় কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীনে পরমতলা গ্রামে দুই শত গ্রাহককে বিদ্যুতায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সরেজমিন পরিদর্শনকালে বিদ্যুতের গ্রাহক রমিজ উদ্দিন খান, মোসলেহ উদ্দিন ভুইয়া, শহিদুল হক, সফিকুল ইসলাম মুন্সী, নুরুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম ভুইয়া, নাজমা বেগম, মরিয়ম বিবি, কাজী আলাউদ্দিন, গোলাম হায়দার সুমন, হুমাযুন কবীর, আনিস মিয়া, আমির হোসেন ও তারেক বিল্লাহ অভিযোগ করে জানান, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় ইউপি সদস্য অহিদ মিয়া ও বিদ্যুৎ সালাউদ্দিন খান সর্বন্মি ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে। সরকারি ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে এ ভাবে দই শত গ্রাহকদের কাছ থেকে ওই চক্রটি প্রায় ২৫/৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। চক্রটি স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার স্বার্থে অনেকে প্রতিবাদ করাতো দূরের কথা ভয়েও মুখ খুলছে না। বিষয়টির ব্যাপারে আব্দুল আউয়াল মীর নামে এক যুবক প্রতিবাদ করলে চক্রটি তার উপর চরম ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠে। একাধিকবার হামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অপচেষ্টাসহ তাকে বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল ও অপদাস্ত করছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টির ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য অহিদ মিয়া জানান, আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে খরচ বাবদ ৩/৪ হাজার টাকা করে নিয়েছি। আবার কিছু মিটার বিনামূল্যেও সংযোগ দিয়েছি। একটি মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাকান্ড ছড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। অপর অভিযুক্ত বিদ্যুৎ সালাউদ্দিন খান জানান, আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। বিদ্যুৎ দ্রুত পাওয়ার স্বার্থে অহিদ মেম্বারকে সহযোগিতা করেছি। তবে মাস্টার প্লানে লাইন হলেও অফিসে অনেক খরচ দিতে হয় বলে তিনি স্বীকার করেন।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান জানান, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য মিটার বাবদ ৬৫০ টাকা ছাড়া অফিসে বাড়তি কোন টাকার দরকার লাগে না। অফিসের কেউ বাড়তি টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।