ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

মো: হাবিবুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় যৌতুক দিতে না পারায় সুমি আক্তার(২২) নামে এক গৃহবধুকে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করার অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে সুমির বড় ভাই আলমাজ মিয়া বাদি হয়ে স্বামীসহ অজ্ঞাতনামা ৩ জনকে আসামী করে মুরাদনগর একটি হত্যার মামলা দায়ের করে। এবং পুলিশ স্বামী আনিসুর রহমানকে (২৮) সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করে।

মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের রায়তলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক স্বামী ওই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

জানা যায়, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের আব্দুল মালেক মোল্লার মেয়ে সুমি আক্তার ঢাকার শ্যামলীতে একটি প্রাইভেট হসপিটালে নার্সের চাকরী করতো। ওই হসপিটালের পাশেই একটি মুদি দোকানে কর্মচারী ছিলেন আনিসুর রহমান। এ সুযোগে উভয়ের মধ্যে প্রথমে প্রেম এবং প্রায় ৮ মাস পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুমি আক্তারকে বাড়িতে না এনে কসবা উপজেলার কুটি চৌমুহনী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া করে রাখতো আনিসুর রহমান। সে ওই এলাকায় রাজমিস্ত্রীর জোগালির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এরই মধ্যে সুমি আক্তার অন্ত:সত্বা হয়ে গেলে ব্যবসা-বানিজ্য করতে তার বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ দিচ্ছিল স্বামী আনিসুর রহমান। টাকা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় সুমি আক্তারকে বাসায় ফেলে দিয়ে আনিস অজানার উদ্দেশ্যে চলে যায়। রোববার রায়তলা গ্রামে এসে সুমি জানতে পারে যে, আনিসুর রহমানের আগেও একজন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে সুমি আক্তার দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ওইদিন বিকেলেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। সন্ধ্যায় তাকে প্রচন্ড মারধরসহ পেটের বাচ্চা নষ্ট করার পেটে আঘাত করে। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে আড়ালিয়া রাস্তার মাথায় গাইটুলি নামক স্থানে কে-বা কারা গুরতর আহত অবস্থায় সুমি আক্তারকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে সাড়ে ৯টায় এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় সুমি আক্তারকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থাই রাত অনুমান সাড়ে ১০টায় সুমি আক্তরের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে সুমি আক্তারের পরিবারের লোকজন মুরাদনগর থানায় এসে লাশ সনাক্ত করে। পরে নিহত সুমি আক্তারের ভাই আলমাজ মিয়া বাদী হয়ে ঘাতক ভগ্নিপতি আনিসুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রুজু করে। উক্ত মামলার সূত্র ধরে পালিয়ে যাওয়ার সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় বাখরনগর পশ্চিমপাড়া থেকে ঘাতক আনিসুর রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

মুরাদনগর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই এসআই দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সরকারি হাসপাতালে পাঠাই। সূরতহালপূর্বক সে ময়না তদন্তের জন্য লাশ কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। ওইখান থেকেই স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হলে তারা মাদারীপুর নিয়ে যায়। তবে নিহতের শরীরে আঘাতের কোন চি‎হ্ন পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে তাকে কি ভাবে হত্যা করা হয়েছে। ধৃত ঘাতক আনিসুর রহমানকে (মঙ্গলবার) আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লার কেন্দ্রিয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুমি আক্তার হত্যার প্রকৃত রহস্যউদঘাটনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

মুরাদনগরে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

আপডেট সময় ০১:৪০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭
মো: হাবিবুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় যৌতুক দিতে না পারায় সুমি আক্তার(২২) নামে এক গৃহবধুকে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করার অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে সুমির বড় ভাই আলমাজ মিয়া বাদি হয়ে স্বামীসহ অজ্ঞাতনামা ৩ জনকে আসামী করে মুরাদনগর একটি হত্যার মামলা দায়ের করে। এবং পুলিশ স্বামী আনিসুর রহমানকে (২৮) সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করে।

মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের রায়তলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক স্বামী ওই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

জানা যায়, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের আব্দুল মালেক মোল্লার মেয়ে সুমি আক্তার ঢাকার শ্যামলীতে একটি প্রাইভেট হসপিটালে নার্সের চাকরী করতো। ওই হসপিটালের পাশেই একটি মুদি দোকানে কর্মচারী ছিলেন আনিসুর রহমান। এ সুযোগে উভয়ের মধ্যে প্রথমে প্রেম এবং প্রায় ৮ মাস পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুমি আক্তারকে বাড়িতে না এনে কসবা উপজেলার কুটি চৌমুহনী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া করে রাখতো আনিসুর রহমান। সে ওই এলাকায় রাজমিস্ত্রীর জোগালির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এরই মধ্যে সুমি আক্তার অন্ত:সত্বা হয়ে গেলে ব্যবসা-বানিজ্য করতে তার বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ দিচ্ছিল স্বামী আনিসুর রহমান। টাকা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় সুমি আক্তারকে বাসায় ফেলে দিয়ে আনিস অজানার উদ্দেশ্যে চলে যায়। রোববার রায়তলা গ্রামে এসে সুমি জানতে পারে যে, আনিসুর রহমানের আগেও একজন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে সুমি আক্তার দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ওইদিন বিকেলেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। সন্ধ্যায় তাকে প্রচন্ড মারধরসহ পেটের বাচ্চা নষ্ট করার পেটে আঘাত করে। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে আড়ালিয়া রাস্তার মাথায় গাইটুলি নামক স্থানে কে-বা কারা গুরতর আহত অবস্থায় সুমি আক্তারকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে সাড়ে ৯টায় এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় সুমি আক্তারকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থাই রাত অনুমান সাড়ে ১০টায় সুমি আক্তরের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে সুমি আক্তারের পরিবারের লোকজন মুরাদনগর থানায় এসে লাশ সনাক্ত করে। পরে নিহত সুমি আক্তারের ভাই আলমাজ মিয়া বাদী হয়ে ঘাতক ভগ্নিপতি আনিসুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রুজু করে। উক্ত মামলার সূত্র ধরে পালিয়ে যাওয়ার সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় বাখরনগর পশ্চিমপাড়া থেকে ঘাতক আনিসুর রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

মুরাদনগর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই এসআই দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সরকারি হাসপাতালে পাঠাই। সূরতহালপূর্বক সে ময়না তদন্তের জন্য লাশ কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। ওইখান থেকেই স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হলে তারা মাদারীপুর নিয়ে যায়। তবে নিহতের শরীরে আঘাতের কোন চি‎হ্ন পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে তাকে কি ভাবে হত্যা করা হয়েছে। ধৃত ঘাতক আনিসুর রহমানকে (মঙ্গলবার) আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লার কেন্দ্রিয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুমি আক্তার হত্যার প্রকৃত রহস্যউদঘাটনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।