ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে ২০০ বছরের পুরনো দিঘী লাগামহীন ময়লা ফেলায় নর্দমায় পরিণত

মাহবুব আলম আরিফঃ

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় লাগামহীন ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নর্দমায় পরিণত হয়েছে জামিয়া ইসলামিয়া মুজাফ্ফারুল উলূম মাদ্রাসার ২০০ বছরের পুরনো দিঘীটি।
এসব ময়লা-আবর্জনা একদিকে দূষিত করছে পরিবেশ, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে ক্রমেই হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে মসজিদে আসা মুছুল্লি ও মাদ্রাসায় পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের জনজীবন।
এটি উপজেলা সদরের পাশেই বড় মাদ্রাসার দিঘী নামে পরিচিত। প্রায় ২০০ বছর আগে দারোগা আমিন উদ্দিন নামের এক লোক দুই একর জমির উপরে এই দিঘীটি খনন করেন। তার পশ্চিম পাশেই রয়েছে একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ আর বাকি তিন পাশে রয়েছে বাসা-বাড়ী ও মুরাদনগর সদরের বাজার। ততকালীন সময়ে এই মাদ্রাসা ও মসজিদটিকে কেন্দ্র করেই দিঘীটি খনন করা হয়েছিলো।

এ অবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটার আগেই এই দিঘীকে দূষণমুক্ত করার তাগিদ দিচ্ছেন মসজিদে আসা মুসুল্লিরা ও এলাকার লোকজন। দিনরাত সমান তালে ময়লা-আবর্জনা পরছে দিঘীটিতে। অসহায় দিঘী বছরের পর বছর নীরবে এই বিষাক্ত ময়লা-আবর্জনা বুকে ধারণ করে ক্রমেই বিপন্ন করে তুলছে নিজের অস্তিত্বকেই।
প্রতিদিন প্রায় ১’শ পরিবার ও বাজারের একাংশ দোকানদারের সকল ময়লা-আবর্জনা দিঘীটির পানির সাথে যোগ হয়ে ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে দূষণ।

অতিদুষণে বহু আগেই বদলে গেছে পানির রঙ, শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা। এই বিষাক্ত পানি মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণির জীবন ধারণের জন্য যেমন অন্তরায়, তেমনি ব্যবহারেরও অনুপযোগী। তবু প্রয়োজনের তাগিদে অজু ও গোসলের কাজে এই নোংরা পানি ব্যবহার করছে মসজিদে আসা মুসুল্লি ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা।

স্থানীয় কিছু লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিঘীর পানিতে এত পরিমানে পলিথিন ও ময়লা পরেছে যে নিচের মাটির সাথে পানির কোন সম্পর্ক নেই। আরো বলেন মসজিদ কমিটির লোকজন কিছুদিন আগে এইসব পলিথিন পানি থেকে উঠিয়ে পূর্বপাশে রাখলেও তা আবার বৃষ্টির পানিতে দিঘীর পানির সাথে মিলে মিশে একাকার। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই, কারণ আমরা নামাজ পরতে গেলে ভালো করে অজু করতে পারিনা পানি এতো ময়লা হাতে নিলেই বমি আসার উপক্রম হয়।
মসজিদের খতিব মুফতি আমজাদ হোসাইন বলেন, এই দিঘীর পানি মসজিদে আসা মুসুল্লিদের অজু, মাদ্রাসার ছাত্রদের গোসল ও রান্নার কাজে আমাদের খুব প্রয়োজন। কিন্তু পানি এতো দূষিত হয়েছে এখানে মুসুল্লিরা অজুই করতে চায় না। বিদ্যৎ না থাকলে বাধ্য হয়ে এখানে অজু গোসল করতে হয়। এখানে কিছু মিষ্টি দোকানের ময়লা-আবর্জনাও ফেলানো হয়। আমরা তাদের অনেক বলেছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। প্রশাসনের সহযোগীতায় এই দূষণ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নায়েব আলী বলেন, আমরা বার বার আশ-পাশের বাড়ী ঘরের লোকজনদের কে নিষেধ করা সত্যেও তারা প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলছে।

বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার আমাদের রেখে দেওয়া নিদ্রিষ্ট ড্রাম রয়েছে। দোকানীরা সেখানেই ফেলে দিঘীর পানিতে কেউ ময়লা ফেলেনা। যদি কেউ দিঘীর পানিতে ময়লা ফেলে তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে ২০০ বছরের পুরনো দিঘী লাগামহীন ময়লা ফেলায় নর্দমায় পরিণত

আপডেট সময় ০৯:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ জুন ২০১৮
মাহবুব আলম আরিফঃ

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় লাগামহীন ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নর্দমায় পরিণত হয়েছে জামিয়া ইসলামিয়া মুজাফ্ফারুল উলূম মাদ্রাসার ২০০ বছরের পুরনো দিঘীটি।
এসব ময়লা-আবর্জনা একদিকে দূষিত করছে পরিবেশ, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে ক্রমেই হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে মসজিদে আসা মুছুল্লি ও মাদ্রাসায় পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের জনজীবন।
এটি উপজেলা সদরের পাশেই বড় মাদ্রাসার দিঘী নামে পরিচিত। প্রায় ২০০ বছর আগে দারোগা আমিন উদ্দিন নামের এক লোক দুই একর জমির উপরে এই দিঘীটি খনন করেন। তার পশ্চিম পাশেই রয়েছে একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ আর বাকি তিন পাশে রয়েছে বাসা-বাড়ী ও মুরাদনগর সদরের বাজার। ততকালীন সময়ে এই মাদ্রাসা ও মসজিদটিকে কেন্দ্র করেই দিঘীটি খনন করা হয়েছিলো।

এ অবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটার আগেই এই দিঘীকে দূষণমুক্ত করার তাগিদ দিচ্ছেন মসজিদে আসা মুসুল্লিরা ও এলাকার লোকজন। দিনরাত সমান তালে ময়লা-আবর্জনা পরছে দিঘীটিতে। অসহায় দিঘী বছরের পর বছর নীরবে এই বিষাক্ত ময়লা-আবর্জনা বুকে ধারণ করে ক্রমেই বিপন্ন করে তুলছে নিজের অস্তিত্বকেই।
প্রতিদিন প্রায় ১’শ পরিবার ও বাজারের একাংশ দোকানদারের সকল ময়লা-আবর্জনা দিঘীটির পানির সাথে যোগ হয়ে ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে দূষণ।

অতিদুষণে বহু আগেই বদলে গেছে পানির রঙ, শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা। এই বিষাক্ত পানি মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণির জীবন ধারণের জন্য যেমন অন্তরায়, তেমনি ব্যবহারেরও অনুপযোগী। তবু প্রয়োজনের তাগিদে অজু ও গোসলের কাজে এই নোংরা পানি ব্যবহার করছে মসজিদে আসা মুসুল্লি ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা।

স্থানীয় কিছু লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিঘীর পানিতে এত পরিমানে পলিথিন ও ময়লা পরেছে যে নিচের মাটির সাথে পানির কোন সম্পর্ক নেই। আরো বলেন মসজিদ কমিটির লোকজন কিছুদিন আগে এইসব পলিথিন পানি থেকে উঠিয়ে পূর্বপাশে রাখলেও তা আবার বৃষ্টির পানিতে দিঘীর পানির সাথে মিলে মিশে একাকার। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই, কারণ আমরা নামাজ পরতে গেলে ভালো করে অজু করতে পারিনা পানি এতো ময়লা হাতে নিলেই বমি আসার উপক্রম হয়।
মসজিদের খতিব মুফতি আমজাদ হোসাইন বলেন, এই দিঘীর পানি মসজিদে আসা মুসুল্লিদের অজু, মাদ্রাসার ছাত্রদের গোসল ও রান্নার কাজে আমাদের খুব প্রয়োজন। কিন্তু পানি এতো দূষিত হয়েছে এখানে মুসুল্লিরা অজুই করতে চায় না। বিদ্যৎ না থাকলে বাধ্য হয়ে এখানে অজু গোসল করতে হয়। এখানে কিছু মিষ্টি দোকানের ময়লা-আবর্জনাও ফেলানো হয়। আমরা তাদের অনেক বলেছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। প্রশাসনের সহযোগীতায় এই দূষণ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নায়েব আলী বলেন, আমরা বার বার আশ-পাশের বাড়ী ঘরের লোকজনদের কে নিষেধ করা সত্যেও তারা প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলছে।

বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার আমাদের রেখে দেওয়া নিদ্রিষ্ট ড্রাম রয়েছে। দোকানীরা সেখানেই ফেলে দিঘীর পানিতে কেউ ময়লা ফেলেনা। যদি কেউ দিঘীর পানিতে ময়লা ফেলে তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।