ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে ৭৫ বছর ধরে শিক্ষা ও মনুষ্যত্বের বীজ রোপন কারি প্রাথমিক স্কুলটি নানা সঙ্কটে

মো: মোশাররফ হোসেন মনিরঃ

কথায় বলে, ‘ধ্যানের চর্চা হয় গুহায়, ধর্মের চর্চা হয় মসজিদ-মন্দিরে, নীতির চর্চা হয় পরিবারে, বিদ্যার চর্চা হয় বিদ্যালয়ে’। বিদ্যা চর্চার এমনি একটি বিদ্যাপিঠ ৭৫ বছর ধরে যে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আজও শিক্ষার আলো ও মনুষ্যত্বের বীজ রোপন করে আসছে। সেটি হলো কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গুঞ্জর গ্রামে মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত গুঞ্জর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়টি অবকাঠামো ও পরিবেশের দিক থেকে ভাল অবস্থা থাকলেও শ্রেনী কক্ষ, শিক্ষক, টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় দিন কাঠাচ্ছে ৭৫ বছরের পুরাতন স্কুলটি। শ্রেনী কক্ষ ও শিক্ষক সংকটটি স্কুলটির প্রধান সমস্যা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের লোখাপড়ার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে এ এলাকায় শিক্ষার হার দিন দিন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যা মোট জনসংখ্যার শতভাগ শিক্ষার আওতায় আনার পথে অন্তরায়।

জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৩১ সালে ৬১ শতাংশ জমির উপর স্থাপিত হয় এবং ২০১৪ সালে ৬ ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদানের কার্যক্রম চালু হয়। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। বর্তমানে দু’তলা একটি ও একতলা ২টি ভবন থাকায় ১টি অফিস রোমসহ শ্রেনী কক্ষ গুলোতে গাধা-গাধি ভাবে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার কাযক্রম। যাতে করে গড়ম কালে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থী ও শ্রেনী অনুসারে ১৮ জন  শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছে মাত্র ১০ জন। এছাড়া অংক, ইংরেজী বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ের কোন শিক্ষক না থাকায় মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লোখাপড়া। সরকার সবকয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (প্রজেক্টরভিক্তিক) মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে সকল বিষয়ে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করলেও স্কুলটিতে কোন প্রকার ল্যাপটব ও প্রজেক্টও না পাওয়ায় ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল শিক্ষা (মাল্টিমিডিয়া) শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ২০১৩ সালে উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় অর্জন ও গত ৬/৭ বছর থেকে বিভিন্ন পরীক্ষায় শত ভাগ পাশ করে আসলেও বিদ্যালয়টির প্রতি কতৃপক্ষের সু-নজর পরছেনা বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ করে জানায়, শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণী কক্ষ কম ও বিষয় বিত্তিক শিক্ষক না থাকায় প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করে শিক্ষার্থীরা।

গুঞ্জর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,  স্কুল লেভেল ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের বাহিরে প্রতি বছর সরকারি ভাবে আসা কোন অনুধান বা বিভিন্ন প্রকার উপকরন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ বিদ্যালয়টি। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি বেশ কয়েকবার কতৃপক্ষকে জানানোর পরও কোন প্রতিকার পাওয়া য্য়ানি। এছাড়া শ্রেনী সংকটটি আমাদের বড় সংকট।

এ বিষয়ে মুরাদনগর শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান, শিক্ষক ও শ্রেনীকক্ষ সংকটের বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করে প্রযোজনী উদেগ্য নেওয়া হবে। যখন কোন অনুধান ও বিভিন্ন উপকরন আসে তখন কোথায় কোথায় বন্টন করা হবে তার তালিকা হয়ে আসে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

মুরাদনগরে ৭৫ বছর ধরে শিক্ষা ও মনুষ্যত্বের বীজ রোপন কারি প্রাথমিক স্কুলটি নানা সঙ্কটে

আপডেট সময় ০২:৩২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মার্চ ২০১৭
মো: মোশাররফ হোসেন মনিরঃ

কথায় বলে, ‘ধ্যানের চর্চা হয় গুহায়, ধর্মের চর্চা হয় মসজিদ-মন্দিরে, নীতির চর্চা হয় পরিবারে, বিদ্যার চর্চা হয় বিদ্যালয়ে’। বিদ্যা চর্চার এমনি একটি বিদ্যাপিঠ ৭৫ বছর ধরে যে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আজও শিক্ষার আলো ও মনুষ্যত্বের বীজ রোপন করে আসছে। সেটি হলো কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গুঞ্জর গ্রামে মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত গুঞ্জর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়টি অবকাঠামো ও পরিবেশের দিক থেকে ভাল অবস্থা থাকলেও শ্রেনী কক্ষ, শিক্ষক, টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় দিন কাঠাচ্ছে ৭৫ বছরের পুরাতন স্কুলটি। শ্রেনী কক্ষ ও শিক্ষক সংকটটি স্কুলটির প্রধান সমস্যা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের লোখাপড়ার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে এ এলাকায় শিক্ষার হার দিন দিন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যা মোট জনসংখ্যার শতভাগ শিক্ষার আওতায় আনার পথে অন্তরায়।

জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৩১ সালে ৬১ শতাংশ জমির উপর স্থাপিত হয় এবং ২০১৪ সালে ৬ ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদানের কার্যক্রম চালু হয়। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। বর্তমানে দু’তলা একটি ও একতলা ২টি ভবন থাকায় ১টি অফিস রোমসহ শ্রেনী কক্ষ গুলোতে গাধা-গাধি ভাবে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার কাযক্রম। যাতে করে গড়ম কালে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থী ও শ্রেনী অনুসারে ১৮ জন  শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছে মাত্র ১০ জন। এছাড়া অংক, ইংরেজী বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ের কোন শিক্ষক না থাকায় মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লোখাপড়া। সরকার সবকয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (প্রজেক্টরভিক্তিক) মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে সকল বিষয়ে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করলেও স্কুলটিতে কোন প্রকার ল্যাপটব ও প্রজেক্টও না পাওয়ায় ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল শিক্ষা (মাল্টিমিডিয়া) শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ২০১৩ সালে উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় অর্জন ও গত ৬/৭ বছর থেকে বিভিন্ন পরীক্ষায় শত ভাগ পাশ করে আসলেও বিদ্যালয়টির প্রতি কতৃপক্ষের সু-নজর পরছেনা বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ করে জানায়, শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণী কক্ষ কম ও বিষয় বিত্তিক শিক্ষক না থাকায় প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করে শিক্ষার্থীরা।

গুঞ্জর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,  স্কুল লেভেল ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের বাহিরে প্রতি বছর সরকারি ভাবে আসা কোন অনুধান বা বিভিন্ন প্রকার উপকরন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ বিদ্যালয়টি। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি বেশ কয়েকবার কতৃপক্ষকে জানানোর পরও কোন প্রতিকার পাওয়া য্য়ানি। এছাড়া শ্রেনী সংকটটি আমাদের বড় সংকট।

এ বিষয়ে মুরাদনগর শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান, শিক্ষক ও শ্রেনীকক্ষ সংকটের বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করে প্রযোজনী উদেগ্য নেওয়া হবে। যখন কোন অনুধান ও বিভিন্ন উপকরন আসে তখন কোথায় কোথায় বন্টন করা হবে তার তালিকা হয়ে আসে।