ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগর রামচন্দ্রপুর বাজারে চলছে অবৈধ দখলের প্রতিযোগিতা

মো: মোশাররফ হোসেন মনিরঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার শত বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুরর বাজারে সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। জেলার একমাত্র নৌ-বন্দর সমৃদ্ধ এ বাজাওে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রীতিমত দখলের উৎসবে মেতে উঠেছেন। রামচন্দ্রপুর এলাকার ভূমি দখলের একটি সিন্ডিকেট দেশের প্রাচীনতম এ বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় নামলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা স্থানী প্রশাসন। এতে শত বছরের পুরাতন এ বাজারের অস্তিত্ব প্রায় বিলিন হওয়া পথে। দখলদার সিন্ডিকেটে ক্ষমতার ভয়ে মুখ না খুললেও বিষয়টি নিয়ে ওই বাজারের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, জেলার নৌ বন্দর সমৃদ্ধ রামচন্দ্রপুর বাজারটি এক সময় কুমিল্লা জেলার একমাত্র পাইকারী বাজার হিসেবে পরিচিত ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন আমল থেকে দেশ বিদেশের ব্যবসায়িরা তিতাস নদী সংলগ্ন এ বাজারে জাহাজ যোগে পণ্য নিয়ে এসে ব্যবসা পরিচালনা করতো। এখনও নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, সদরঘাট, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, আশুগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে কার্গো জাহাজ-স্টিমার ও লঞ্চ দিয়ে এ বাজারের ব্যবসায়ীরা পন্য আনা নেয়া করে থাকেন। তবে কালের সাক্ষী এ বাজারের মুল্যবান জায়গা গুলো পর্যায়ক্রমে বেদখল করে নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। বেশ কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন কৌশলে বাজারের কোটি কোটি টাকার মুল্যবান বেশ কিছু জায়গা তারা দখলে নিয়ে গেছে। বাজারের আশপাশের খাল ভরাটসহ অলিগলিসহ সব জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে সিন্ডিকেটটি এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ বাজারের ১০৩৫ দাগে চাউল বাজারের বিশাল জায়গা প্রতিবর্গ ফুট মাত্র ১৩ টাকা দরে বাৎসরিক মুল্য ধরে একসনা লিজ নিয়ে সিন্ডিকেটটি এখন চাউল বাজারের অস্তিত্ব মুছে ফেলেছে। যার ফলে এ বাজারের চাউল ব্যবসায়িরা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া নামে মাত্র মুল্যে এ চাউল বাজার লিজ দিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়িদের মাঝে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আ’লীগের শীর্ষ এক প্রভাবশালী নেতার ক্ষমতাকে পুঁজি করে দলীয় একটি সিন্ডিকেট প্রকাশ্যেই এ দখল কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রাচীনতম এ বাজারটি এভাবেই দখল হয়ে যাওয়ায় এলাকায় ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সরকারি দলের লোকজন হওয়ায় এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে ওই বাজারের মাছ বাজার অংশের আরও কিছু সম্পত্তিও একই কায়দায় দখলের উদ্দেশ্যে ইট বালু সিমেন্ট এনে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দখল আগ্রাসনের মুখে দেশের প্রচীনতম এ বাজারটির অস্তিত্ব রক্ষায় এখনই সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।
ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ১০৩৫ দাগে ৩ শতাংশ জায়গা একসনা লিজ (বন্দোবস্ত) প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বাজারের আরো বেশ কিছু জায়গা দখল করছে একটি সিন্ডিকেট, তাদের বৈধ কোন লিজ কিংবা কাগজপত্র নেই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোছাৎম্মদ রাশেদা আক্তার বলেন, রামচন্দ্রপুর বাজারের বিভিন্ন অংশ বেদখলের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। ঘটনার সস্থলে সারবেয়ার পাঠানো হয়েছে। সেই রির্পোট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

মুরাদনগর রামচন্দ্রপুর বাজারে চলছে অবৈধ দখলের প্রতিযোগিতা

আপডেট সময় ০৯:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৬
মো: মোশাররফ হোসেন মনিরঃ

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার শত বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুরর বাজারে সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। জেলার একমাত্র নৌ-বন্দর সমৃদ্ধ এ বাজাওে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রীতিমত দখলের উৎসবে মেতে উঠেছেন। রামচন্দ্রপুর এলাকার ভূমি দখলের একটি সিন্ডিকেট দেশের প্রাচীনতম এ বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় নামলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা স্থানী প্রশাসন। এতে শত বছরের পুরাতন এ বাজারের অস্তিত্ব প্রায় বিলিন হওয়া পথে। দখলদার সিন্ডিকেটে ক্ষমতার ভয়ে মুখ না খুললেও বিষয়টি নিয়ে ওই বাজারের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, জেলার নৌ বন্দর সমৃদ্ধ রামচন্দ্রপুর বাজারটি এক সময় কুমিল্লা জেলার একমাত্র পাইকারী বাজার হিসেবে পরিচিত ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন আমল থেকে দেশ বিদেশের ব্যবসায়িরা তিতাস নদী সংলগ্ন এ বাজারে জাহাজ যোগে পণ্য নিয়ে এসে ব্যবসা পরিচালনা করতো। এখনও নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, সদরঘাট, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, আশুগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে কার্গো জাহাজ-স্টিমার ও লঞ্চ দিয়ে এ বাজারের ব্যবসায়ীরা পন্য আনা নেয়া করে থাকেন। তবে কালের সাক্ষী এ বাজারের মুল্যবান জায়গা গুলো পর্যায়ক্রমে বেদখল করে নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। বেশ কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন কৌশলে বাজারের কোটি কোটি টাকার মুল্যবান বেশ কিছু জায়গা তারা দখলে নিয়ে গেছে। বাজারের আশপাশের খাল ভরাটসহ অলিগলিসহ সব জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে সিন্ডিকেটটি এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ বাজারের ১০৩৫ দাগে চাউল বাজারের বিশাল জায়গা প্রতিবর্গ ফুট মাত্র ১৩ টাকা দরে বাৎসরিক মুল্য ধরে একসনা লিজ নিয়ে সিন্ডিকেটটি এখন চাউল বাজারের অস্তিত্ব মুছে ফেলেছে। যার ফলে এ বাজারের চাউল ব্যবসায়িরা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া নামে মাত্র মুল্যে এ চাউল বাজার লিজ দিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়িদের মাঝে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আ’লীগের শীর্ষ এক প্রভাবশালী নেতার ক্ষমতাকে পুঁজি করে দলীয় একটি সিন্ডিকেট প্রকাশ্যেই এ দখল কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রাচীনতম এ বাজারটি এভাবেই দখল হয়ে যাওয়ায় এলাকায় ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সরকারি দলের লোকজন হওয়ায় এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে ওই বাজারের মাছ বাজার অংশের আরও কিছু সম্পত্তিও একই কায়দায় দখলের উদ্দেশ্যে ইট বালু সিমেন্ট এনে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দখল আগ্রাসনের মুখে দেশের প্রচীনতম এ বাজারটির অস্তিত্ব রক্ষায় এখনই সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।
ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ১০৩৫ দাগে ৩ শতাংশ জায়গা একসনা লিজ (বন্দোবস্ত) প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বাজারের আরো বেশ কিছু জায়গা দখল করছে একটি সিন্ডিকেট, তাদের বৈধ কোন লিজ কিংবা কাগজপত্র নেই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোছাৎম্মদ রাশেদা আক্তার বলেন, রামচন্দ্রপুর বাজারের বিভিন্ন অংশ বেদখলের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। ঘটনার সস্থলে সারবেয়ার পাঠানো হয়েছে। সেই রির্পোট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।