ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মেঘনায় রাস্তা কেটে সাঁকো!

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বালু ব্যবসায়ীদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায়। গোবিন্দপুর ও ভাওরখোলা দুটি ইউপির সংযোগস্থলে সেতুর সম্মুখে রাস্তা কেটে বাঁশের সাঁকো দিয়েছে বালু ব্যবসায়ীরা। এ কারণে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীসহ এলাকার হাজারো মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এছাড়াও প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সূত্র বলছে, সেতুতে উঠার রাস্তা ভালোই ছিল। কিন্তু রাস্তার কারণে বালুবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো ওপারে যেতে পারছিল না। তাই রাস্তা কেটে বালুবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। কাটা রাস্তার স্থানে দেয়া হয়েছে বাঁশের সাঁকো। যাতে যখন বালুভর্তি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আসবে তখন সাঁকো খুলে নৌকা পার করে দেয়া যায়। কাঁঠালিয়া আলিপুর নদী হয়ে মহেশখালী রামগড়ে প্রবাহিত খিরাচক খালে অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির এক পাশে রাস্তা কেটে করা হয় এই বাঁশের সাঁকো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউপির খিরাচক খালের ওপর সেতুটি ভাঙা পিলার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। সেতুর সঙ্গে লাগানো রয়েছে লম্বা বাঁশের সাঁকো।

স্থানীয়রা জানান, এ পথ দিয়ে গোবিন্দপুর ইউপির মির্জানগর, মহেশখালী, করিমাবাদ, আলিপুর, হিজলতলী ভাওরখোলা ইউপির খিরাচক, দড়িকান্দি, ওমরাকান্দা, নোয়াগাঁওসহ ১৫টি গ্রামের শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষের যাতায়াত। পথচারীদের পারাপারে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়ায় দুর্ভোগের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সময় মতো উপস্থিত হতে পারে না। বই-খাতা নিয়ে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে অনেক বার।

সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় পথচারীদের সাঁকোতে ঝুলে থেকে অন্যদের যাতায়াতে সুবিধা করে দিতে দেখা গেছে। বৃদ্ধ, নারী, অসুস্থ রোগীদের চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই।

অর্ধেক বাঁশের সাঁকো অর্ধেক সেতুর অভিনব দৃশ্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, এলাকার প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের বালুবাহী বাল্কহেড আনা-নেয়ার সুবিধা করতে গিয়ে রাস্তা কেটে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়।

গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন মুন্সি তপন জানান, খিরাচক সেতুটির সঙ্গে লাগানো রাস্তা ছিল। স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী জামাল মেম্বার ও তার সহযোগীদের বালুবাহী বাল্কহেড আনা-নেয়ার সুবিধার জন্য রাস্তা কেটে সাঁকো বানানো হয়েছে তিন বছর আগে। বালুভর্তি বাল্কহেড পাকা ব্রিজের নিচ দিয়ে যেতে পারলেও আনলোড অবস্থায় ব্রিজের নিচ দিয়ে পার হতে পারত না। তাই ভালো রাস্তা কেটে বাল্কহেড যাতায়াতের সুবিধা করে জনগণের দুর্ভোগ তৈরি করে তারা।

এ ব্যাপারে গোবিন্দপুর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল মেম্বার জানান, আমি বালুর ব্যবসা করি তবে রাস্তা কাটিনি। প্রথমে আমিই ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তটি করে দিয়েছিলাম। বর্তমানে কে বা কারা রাস্তা কেটেছে তা আমি জানি না।

মেঘনা ইউএনও আফরোজা পারভীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

মেঘনায় রাস্তা কেটে সাঁকো!

আপডেট সময় ০৩:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বালু ব্যবসায়ীদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায়। গোবিন্দপুর ও ভাওরখোলা দুটি ইউপির সংযোগস্থলে সেতুর সম্মুখে রাস্তা কেটে বাঁশের সাঁকো দিয়েছে বালু ব্যবসায়ীরা। এ কারণে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীসহ এলাকার হাজারো মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এছাড়াও প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সূত্র বলছে, সেতুতে উঠার রাস্তা ভালোই ছিল। কিন্তু রাস্তার কারণে বালুবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো ওপারে যেতে পারছিল না। তাই রাস্তা কেটে বালুবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। কাটা রাস্তার স্থানে দেয়া হয়েছে বাঁশের সাঁকো। যাতে যখন বালুভর্তি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আসবে তখন সাঁকো খুলে নৌকা পার করে দেয়া যায়। কাঁঠালিয়া আলিপুর নদী হয়ে মহেশখালী রামগড়ে প্রবাহিত খিরাচক খালে অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির এক পাশে রাস্তা কেটে করা হয় এই বাঁশের সাঁকো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউপির খিরাচক খালের ওপর সেতুটি ভাঙা পিলার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। সেতুর সঙ্গে লাগানো রয়েছে লম্বা বাঁশের সাঁকো।

স্থানীয়রা জানান, এ পথ দিয়ে গোবিন্দপুর ইউপির মির্জানগর, মহেশখালী, করিমাবাদ, আলিপুর, হিজলতলী ভাওরখোলা ইউপির খিরাচক, দড়িকান্দি, ওমরাকান্দা, নোয়াগাঁওসহ ১৫টি গ্রামের শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষের যাতায়াত। পথচারীদের পারাপারে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়ায় দুর্ভোগের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সময় মতো উপস্থিত হতে পারে না। বই-খাতা নিয়ে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে অনেক বার।

সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় পথচারীদের সাঁকোতে ঝুলে থেকে অন্যদের যাতায়াতে সুবিধা করে দিতে দেখা গেছে। বৃদ্ধ, নারী, অসুস্থ রোগীদের চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই।

অর্ধেক বাঁশের সাঁকো অর্ধেক সেতুর অভিনব দৃশ্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, এলাকার প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের বালুবাহী বাল্কহেড আনা-নেয়ার সুবিধা করতে গিয়ে রাস্তা কেটে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়।

গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন মুন্সি তপন জানান, খিরাচক সেতুটির সঙ্গে লাগানো রাস্তা ছিল। স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী জামাল মেম্বার ও তার সহযোগীদের বালুবাহী বাল্কহেড আনা-নেয়ার সুবিধার জন্য রাস্তা কেটে সাঁকো বানানো হয়েছে তিন বছর আগে। বালুভর্তি বাল্কহেড পাকা ব্রিজের নিচ দিয়ে যেতে পারলেও আনলোড অবস্থায় ব্রিজের নিচ দিয়ে পার হতে পারত না। তাই ভালো রাস্তা কেটে বাল্কহেড যাতায়াতের সুবিধা করে জনগণের দুর্ভোগ তৈরি করে তারা।

এ ব্যাপারে গোবিন্দপুর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল মেম্বার জানান, আমি বালুর ব্যবসা করি তবে রাস্তা কাটিনি। প্রথমে আমিই ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তটি করে দিয়েছিলাম। বর্তমানে কে বা কারা রাস্তা কেটেছে তা আমি জানি না।

মেঘনা ইউএনও আফরোজা পারভীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।