ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যে পরামর্শ সবচেয়ে বেশি পেল ইসি

জাতীয় ডেস্কঃ

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সমাজের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনকে সাহসের সঙ্গে কঠোর ও কঠিনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ পরামর্শটিই সবচেয়ে বেশি এসেছে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। একই সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘না’ ভোট রাখা ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কথাও বলেছেন তারা।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুরু হওয়া আলোচনা শেষে বেলা সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিং করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ সময় চারজন নির্বাচন কমিশনার, সচিবসহ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ‘সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। সবার কথাই মোটামুটি কাছাকাছি পর্যায়ে এসেছে। খুব বেশি মতপার্থক্য আসেনি। যেসব বিষয়ে আমাদের করার কিছু নেই, সে ক্ষেত্রে সরাসরি বলেছি—তা আমরা পারব না।’

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনায় যে পরামর্শ দিয়েছেন তার সংক্ষেপ

১. ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা রাখা ও নির্বাচনকালে সেনাবাহিনী মোতায়েন।
২. সংরক্ষিত আসনের পরিবর্তে নারী আসনে সরাসরি ভোট গ্রহণ।
৩. রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনী কর্মকর্তার দায়িত্ব না দেওয়া।
৪. গণমাধ্যম যাতে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা কিংবা অপপ্রচার চালাতে না পারে, বিষয়গুলো নির্বাচনী আচরণবিধির অন্তর্ভুক্ত করা।
৫. পোলিং বুথে মোবাইল ফোন না নেওয়ার পরামর্শ।
৬. কেউ কেউ বলেছেন, নির্বাচনের ব্যয় তিন লাখ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। সার্বিকভাবে নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তদারকি করা উচিত।
৭. অনলাইন বা ইন্টারনেটে মনোনয়ন গ্রহণ করা যায় কি না, যাতে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে না পড়ে।
৮. বিদেশিদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই।
৯. সবচেয়ে বেশি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে সাহসের সঙ্গে কঠোর ও কঠিনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।

ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেছেন, ‘আমরা তাঁদের (সুশীল সমাজকে) আশ্বস্ত করেছি, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন যে কাজগুলো করে, তা আগে থেকেই গুছিয়ে নেওয়া উচিত—এমন পরামর্শ এসেছে সুশীল সমাজের কাছ থেকে। এ পরামর্শ আমরা শুনেছি। সামগ্রিকভাবে তাঁদের সব কথাই শুনেছি। ধাপে ধাপে আমরা অন্যান্য সবার সঙ্গে কথা বলব। সামনে, ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যেই সব রাজনৈতিক দলের কাছেই আলাপ-আলোচনার বিষয়গুলো পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, পানামা পেপারসে যাঁদের নাম আছে, তাঁদের প্রার্থী না করার বিষয়ে সুপারিশ করেছেন অনেকেই। কিন্তু আইনের মধ্যে এ নিয়ে কিছু বলা নেই। আমরা খোঁজখবর করব। আইনে বলা আছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রার্থী না করার কথা। কিন্তু পানামা পেপারসের অভিযোগের বিষয়ে নির্দেশনা নেই।

সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কোনো চাপ আসবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, তাঁরা একটা সমঝোতায় আসতে পারে বলে মনে হয়। বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে। কিন্তু চাপ তৈরি হবে কি না, এটা বলা সম্ভব নয়।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

যে পরামর্শ সবচেয়ে বেশি পেল ইসি

আপডেট সময় ০৫:০৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জুলাই ২০১৭
জাতীয় ডেস্কঃ

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সমাজের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনকে সাহসের সঙ্গে কঠোর ও কঠিনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ পরামর্শটিই সবচেয়ে বেশি এসেছে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। একই সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘না’ ভোট রাখা ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কথাও বলেছেন তারা।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুরু হওয়া আলোচনা শেষে বেলা সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিং করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ সময় চারজন নির্বাচন কমিশনার, সচিবসহ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ‘সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। সবার কথাই মোটামুটি কাছাকাছি পর্যায়ে এসেছে। খুব বেশি মতপার্থক্য আসেনি। যেসব বিষয়ে আমাদের করার কিছু নেই, সে ক্ষেত্রে সরাসরি বলেছি—তা আমরা পারব না।’

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনায় যে পরামর্শ দিয়েছেন তার সংক্ষেপ

১. ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা রাখা ও নির্বাচনকালে সেনাবাহিনী মোতায়েন।
২. সংরক্ষিত আসনের পরিবর্তে নারী আসনে সরাসরি ভোট গ্রহণ।
৩. রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনী কর্মকর্তার দায়িত্ব না দেওয়া।
৪. গণমাধ্যম যাতে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা কিংবা অপপ্রচার চালাতে না পারে, বিষয়গুলো নির্বাচনী আচরণবিধির অন্তর্ভুক্ত করা।
৫. পোলিং বুথে মোবাইল ফোন না নেওয়ার পরামর্শ।
৬. কেউ কেউ বলেছেন, নির্বাচনের ব্যয় তিন লাখ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। সার্বিকভাবে নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তদারকি করা উচিত।
৭. অনলাইন বা ইন্টারনেটে মনোনয়ন গ্রহণ করা যায় কি না, যাতে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে না পড়ে।
৮. বিদেশিদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই।
৯. সবচেয়ে বেশি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে সাহসের সঙ্গে কঠোর ও কঠিনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।

ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেছেন, ‘আমরা তাঁদের (সুশীল সমাজকে) আশ্বস্ত করেছি, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন যে কাজগুলো করে, তা আগে থেকেই গুছিয়ে নেওয়া উচিত—এমন পরামর্শ এসেছে সুশীল সমাজের কাছ থেকে। এ পরামর্শ আমরা শুনেছি। সামগ্রিকভাবে তাঁদের সব কথাই শুনেছি। ধাপে ধাপে আমরা অন্যান্য সবার সঙ্গে কথা বলব। সামনে, ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যেই সব রাজনৈতিক দলের কাছেই আলাপ-আলোচনার বিষয়গুলো পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, পানামা পেপারসে যাঁদের নাম আছে, তাঁদের প্রার্থী না করার বিষয়ে সুপারিশ করেছেন অনেকেই। কিন্তু আইনের মধ্যে এ নিয়ে কিছু বলা নেই। আমরা খোঁজখবর করব। আইনে বলা আছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রার্থী না করার কথা। কিন্তু পানামা পেপারসের অভিযোগের বিষয়ে নির্দেশনা নেই।

সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কোনো চাপ আসবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, তাঁরা একটা সমঝোতায় আসতে পারে বলে মনে হয়। বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে। কিন্তু চাপ তৈরি হবে কি না, এটা বলা সম্ভব নয়।