ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শোক দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি না আত্মপ্রচার

মো: মোশাররফ হোসেন মনিরঃ
কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা করে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর নামে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা আত্মপ্রচারণায় নেমেছেন। উঠতি ও পাতি নেতা ছাড়াও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের এ আত্মপ্রচারণার বড় বড় বিল বোর্ড, পোস্টার আর ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, সরকারি অফিসের আশপাশ, এমনকি পাড়া-মহল্লার রাস্তায়ও। এসব বিজ্ঞাপনে অনেক ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এক কোণায় ছোট পরিসরে স্থান পেয়েছে। আর বিজ্ঞাপনের বাকি অংশ জুড়েই রয়েছে সুবিধাবাদী নেতাদের ছবি, নাম ও পদবি। আত্মপ্রচারের এই সুযোগ হাতছাড়া করেননি কর্মীরাও।

রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। কাঁদো বাঙালি কাঁদো’ মৃত্যুহীন যে বীর প্রথমে গেয়েছেন জয় বাংলার গান, তিনিই আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-সহ সকল শহীদ ভাইদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি-প্রচারে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড তেজগাঁও থানা, ঢাকা মহানগর উত্তর। এসব লেখা জাতীয় শোক দিবসের একটি ফেস্টুনে। এটি তেজগাঁও ও ফার্মগেট এলাকায় যত্রযত্র সাঁটানো হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৯ জনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে দূর থেকে দেখা গেলেও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দূর থেকে বোঝা মুশকিল। কিন্তু ঐ পোস্টারে বড় করে শোভা পাচ্ছে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদুর রহমান খান ইরান, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক মো. দোলন সরকার, ১ নম্বর ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রাইয়ানের। তাদের ছবি বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বড়। ঐ ফেস্টুনে রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বেছাসেবক লীগ সভাপতি আবু কাওছার মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ এবং তেজগাঁও থানার সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনের ছবি। একইভাবে ফার্মগেট ফুটওভার ব্রীজের দুই পাশে সাঁটানো হয়েছে বিশাল বিশাল ব্যানার। একটি ব্যানার টানানো হয়েছে যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের পক্ষ থেকে। সে ব্যানারেও বঙ্গবন্ধু, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছবি ও এবং যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের ছবি সমানতালে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি বড়ই দৃষ্টিকটু বলে মনে করছেন পথচারীরা।

ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের দিকে তাকালেই চোখ আটকে যায় একটি বিশাল বিলবোর্ডে। সিনেমা হলের সাথেই টাঙানো হয়েছে বিশাল এই বিলবোর্ডটি। এতে লেখা রয়েছে, রক্তঝরা ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। বিদেশে পলাতক ১৫ আগস্ট’র খুনিদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে হবে-৯৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ, শের-ই বাংলা নগর থানা, ঢাকা মহানগর উত্তর। এই বিলবোর্ডে মোট ১০টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ ফজলুল হক মনি, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, যুবলীগ উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। সবার মধ্যে বড় ছবি ওয়ার্ডের সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের।

শুধু ফার্মগেট এলাকায় নয়, এমন শত শত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে সারা দেশের বিভিন্ন অলি-গলিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। অথচ দলের হাইকমান্ডের নিদের্শনা রয়েছে বিলবোর্ড, পোস্টারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়া অন্য কোনো নেতার ছবি দিয়ে আত্মপ্রচার করা যাবে না। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে শোক দিবসের ব্যানার-পোস্টারের ছবিতে মুখে হাসিও রয়েছে অনেকের। এ ঘটনায় স্বভাবতই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, নেতাকর্মীরা কি শোক দিবসের মাহাত্ম্য অনুধাবন করতে পারেননি, নাকি নিছক প্রচারের জন্য এই আয়োজন যেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে শোক দিবসকেও।

গত কয়েকদিন সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এসব এলাকায় আত্মপ্রচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতা। এসব প্রচারণায় ১৫ আগস্টের শহীদদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যাদের সৌজন্যে এসব টানানো হয়েছে সেই নেতাদের ছবি। ব্যানার, ফেস্টুনে ছবিগুলো এমনভাবে স্থান পেয়েছে যে কে শহীদ আর কে জীবিত, অনেক ক্ষেত্রে তা বোঝা কষ্টকর।

ট্যাগস

মুরাদনগর ভয়াবহ আগুন কয়ক কাটি টাকার ক্ষতি 

শোক দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি না আত্মপ্রচার

আপডেট সময় ০৪:১৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৬
মো: মোশাররফ হোসেন মনিরঃ
কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা করে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর নামে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা আত্মপ্রচারণায় নেমেছেন। উঠতি ও পাতি নেতা ছাড়াও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের এ আত্মপ্রচারণার বড় বড় বিল বোর্ড, পোস্টার আর ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, সরকারি অফিসের আশপাশ, এমনকি পাড়া-মহল্লার রাস্তায়ও। এসব বিজ্ঞাপনে অনেক ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এক কোণায় ছোট পরিসরে স্থান পেয়েছে। আর বিজ্ঞাপনের বাকি অংশ জুড়েই রয়েছে সুবিধাবাদী নেতাদের ছবি, নাম ও পদবি। আত্মপ্রচারের এই সুযোগ হাতছাড়া করেননি কর্মীরাও।

রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। কাঁদো বাঙালি কাঁদো’ মৃত্যুহীন যে বীর প্রথমে গেয়েছেন জয় বাংলার গান, তিনিই আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-সহ সকল শহীদ ভাইদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি-প্রচারে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড তেজগাঁও থানা, ঢাকা মহানগর উত্তর। এসব লেখা জাতীয় শোক দিবসের একটি ফেস্টুনে। এটি তেজগাঁও ও ফার্মগেট এলাকায় যত্রযত্র সাঁটানো হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৯ জনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে দূর থেকে দেখা গেলেও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দূর থেকে বোঝা মুশকিল। কিন্তু ঐ পোস্টারে বড় করে শোভা পাচ্ছে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদুর রহমান খান ইরান, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক মো. দোলন সরকার, ১ নম্বর ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রাইয়ানের। তাদের ছবি বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বড়। ঐ ফেস্টুনে রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বেছাসেবক লীগ সভাপতি আবু কাওছার মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ এবং তেজগাঁও থানার সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনের ছবি। একইভাবে ফার্মগেট ফুটওভার ব্রীজের দুই পাশে সাঁটানো হয়েছে বিশাল বিশাল ব্যানার। একটি ব্যানার টানানো হয়েছে যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের পক্ষ থেকে। সে ব্যানারেও বঙ্গবন্ধু, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছবি ও এবং যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের ছবি সমানতালে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি বড়ই দৃষ্টিকটু বলে মনে করছেন পথচারীরা।

ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের দিকে তাকালেই চোখ আটকে যায় একটি বিশাল বিলবোর্ডে। সিনেমা হলের সাথেই টাঙানো হয়েছে বিশাল এই বিলবোর্ডটি। এতে লেখা রয়েছে, রক্তঝরা ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। বিদেশে পলাতক ১৫ আগস্ট’র খুনিদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে হবে-৯৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ, শের-ই বাংলা নগর থানা, ঢাকা মহানগর উত্তর। এই বিলবোর্ডে মোট ১০টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ ফজলুল হক মনি, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, যুবলীগ উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। সবার মধ্যে বড় ছবি ওয়ার্ডের সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের।

শুধু ফার্মগেট এলাকায় নয়, এমন শত শত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে সারা দেশের বিভিন্ন অলি-গলিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। অথচ দলের হাইকমান্ডের নিদের্শনা রয়েছে বিলবোর্ড, পোস্টারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়া অন্য কোনো নেতার ছবি দিয়ে আত্মপ্রচার করা যাবে না। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে শোক দিবসের ব্যানার-পোস্টারের ছবিতে মুখে হাসিও রয়েছে অনেকের। এ ঘটনায় স্বভাবতই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, নেতাকর্মীরা কি শোক দিবসের মাহাত্ম্য অনুধাবন করতে পারেননি, নাকি নিছক প্রচারের জন্য এই আয়োজন যেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে শোক দিবসকেও।

গত কয়েকদিন সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এসব এলাকায় আত্মপ্রচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতা। এসব প্রচারণায় ১৫ আগস্টের শহীদদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যাদের সৌজন্যে এসব টানানো হয়েছে সেই নেতাদের ছবি। ব্যানার, ফেস্টুনে ছবিগুলো এমনভাবে স্থান পেয়েছে যে কে শহীদ আর কে জীবিত, অনেক ক্ষেত্রে তা বোঝা কষ্টকর।