ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সমঝোতায় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণের নির্দেশ

জাতীয় ডেস্কঃ
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্ধারিত সময়ে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ না হওয়ায় মন খারাপ এবং দুশ্চিন্তা না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট অবশ্যই মহাকাশে যাবে। মাত্র ৪৬ সেকেন্ডের জন্য উৎক্ষেপণ হতে পারেনি। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য কাউন্টডাউন শুরু হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়েছে। তবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা, কোন অস্বাভাবিক নয়। কারণ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সফলতা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে।
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার বিকালে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জয়কে (সজীব ওয়াজেদ জয়) বলেছিলাম, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের আগ মুহূর্তে আমাকে ফোন দিবা। ও উৎক্ষেপণের ১৫ মিনিট আগে আমাকে ফোন দেয়। কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়। কিন্তু ঠিক ৪৬ সেকেন্ড আগে বন্ধ হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, সময় কাউন্টডাউন করে যখন কেবল ৪৬ সেকেন্ড বাকি তখন হঠাত্ বন্ধ হয়ে যায়। এই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকতে পারে। এটা যে পথে যাবে সেখানে যদি কোন মেঘ জমে থাকে তাহলে সেটা যাবে না। বায়ু পরিবর্তন থাকলেও যাবে না। কোন কারণে সেটা নির্ধারিত সময়ে হয়নি। তারপরে তারা আমাদের আরও দুই ঘণ্টা সময় দিয়েছিল, তখনও হয়নি। আজকে আবার সময় দিয়েছে। এই সময়েও যদি না হয় তাহলে আরও একটা সময় তারা আমাদের দেবে। এটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনেকে জানে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ইনশাল্লাহ আমাদের স্যাটেলাইট আকাশে যাবে। আমরা যে আকাশও জয় করেছি এটা সব থেকে বড় কথা। তাই আমি বলবো, কেউ যেনো মন খারাপ না করে, মন খারাপ আমারও হয়েছিল যখন ৪৬ সেকেন্ডের জন্য আমরা আমাদের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারল না।’ তিনি বলেন, আপনারা জানেন, যারা বিজ্ঞানের ছাত্র তারা জানবেন, যান্ত্রিক ত্রুটি হতেই পারে। এভাবে অনেক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বন্ধ হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত সেনসিটিভ একটা বিষয়। সম্পূর্ণটাই কম্পিউটারাইজড। এটা অরবিটে পৌঁছতে সময় লাগে। এটো লিঙ্ক করতে হয়। এই লিঙ্কটা হতে দুই থেকে তিন মাসের মতো সময় লাগে।
স্যাক্রিফাইস করা শিখতে হবে: এদিকে সম্মেলনে সমঝোতার মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণ করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীকাল (শনিবার) সাবজেস্ট কমিটি বসবে। সেখানে ইতোমধ্যে কারা কারা নেতৃত্বে আসবে দরখাস্ত করেছে। আমি চাই সমঝোতার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের নেতৃত্ব নিয়ে আসো। তোমরা নিজেরা বসে তোমরা সমঝোতার মাধ্যমে করো, সেটাই আমরা চাই।’ ছাত্রলীগকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, ‘স্যাক্রিফাইস করাটা শিখতে হবে। স্যাক্রিফাইস না করলে কিন্তু কিছু অর্জন করা যায় না। অর্জন তখনই করতে পারবে যখন কিছু দিতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘তোমরা এমন নেতৃত্ব খুঁজবে যারা সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে তোমাদের এই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পারে, যাতে আগামীদিনে তোমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারো জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে।’
বয়স ২৮ বছর নির্ধারণ: নতুন নেতৃত্বের বয়স প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের বয়স আমরা ২৭ বছর করে দিয়েছিলাম। দুই বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ ৯ মাস বেশি হয়ে গেছে। আমি চাই না এই ৯ মাস বেশি হয়েছে বলে কেউ বঞ্চিত হোক। কাজেই এটাকে আমরা ১ বছর গ্রেস দিতে পারি। কাজেই ২৮ বছরের মধ্যে আছে যারা তারাই হবে। কারণ, এখন কোনও সেশন জট নেই। ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যেই কিন্তু মাস্টার্স ডিগ্রি পাস হয়ে যায়। দরকার হলে ডাবল মাস্টার্স করা যায়। এরপরও বয়স থাকে।’ প্রসঙ্গত, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ বয়স ২৭ বছর হলেও সময়মতো কাউন্সিল না হওয়ায় গত দুইটি কমিটিতে দুই বছর করে বাড়িয়ে ২৯ বছর করা হয়েছিল। এবার দুই বছরের পরিবর্তে ১ বছর বাড়িয়ে ২৮ বছর করা হলো।
রাজনীতিতে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা থাকতে হবে: ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে দেশের ভবিষ্যৎ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রসমাজকে প্রস্তুত হতে হবে। আমার বয়স ৭১ বছর।  তোমরা আমার নাতী-নাতনীর বয়সী। তোমাদেরকেই দেশটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা যারা ছাত্র সমাজ, আগামী প্রজন্ম, ডিজিটাল বাংলাদেশের মাধ্যমে এই দেশকে আমরা যে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছি, তোমরাই তার কর্ণধার হবে। তোমরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে।’  সততার সঙ্গে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিতে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা থাকতে হবে। লেখাপড়ায় মনযোগী হতে হবে। ‘ছাত্রলীগের যে মূল মন্ত্র, শিক্ষা শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি; সেই শিক্ষার মশাল জ্বেলে, শান্তির বাণী নিয়ে প্রগতির পথে তোমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সেটাই আমরা চাই।’
ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমঝোতায় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণের নির্দেশ

আপডেট সময় ০৫:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ মে ২০১৮
জাতীয় ডেস্কঃ
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্ধারিত সময়ে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ না হওয়ায় মন খারাপ এবং দুশ্চিন্তা না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট অবশ্যই মহাকাশে যাবে। মাত্র ৪৬ সেকেন্ডের জন্য উৎক্ষেপণ হতে পারেনি। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য কাউন্টডাউন শুরু হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়েছে। তবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা, কোন অস্বাভাবিক নয়। কারণ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সফলতা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে।
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার বিকালে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জয়কে (সজীব ওয়াজেদ জয়) বলেছিলাম, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের আগ মুহূর্তে আমাকে ফোন দিবা। ও উৎক্ষেপণের ১৫ মিনিট আগে আমাকে ফোন দেয়। কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়। কিন্তু ঠিক ৪৬ সেকেন্ড আগে বন্ধ হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, সময় কাউন্টডাউন করে যখন কেবল ৪৬ সেকেন্ড বাকি তখন হঠাত্ বন্ধ হয়ে যায়। এই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকতে পারে। এটা যে পথে যাবে সেখানে যদি কোন মেঘ জমে থাকে তাহলে সেটা যাবে না। বায়ু পরিবর্তন থাকলেও যাবে না। কোন কারণে সেটা নির্ধারিত সময়ে হয়নি। তারপরে তারা আমাদের আরও দুই ঘণ্টা সময় দিয়েছিল, তখনও হয়নি। আজকে আবার সময় দিয়েছে। এই সময়েও যদি না হয় তাহলে আরও একটা সময় তারা আমাদের দেবে। এটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনেকে জানে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ইনশাল্লাহ আমাদের স্যাটেলাইট আকাশে যাবে। আমরা যে আকাশও জয় করেছি এটা সব থেকে বড় কথা। তাই আমি বলবো, কেউ যেনো মন খারাপ না করে, মন খারাপ আমারও হয়েছিল যখন ৪৬ সেকেন্ডের জন্য আমরা আমাদের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারল না।’ তিনি বলেন, আপনারা জানেন, যারা বিজ্ঞানের ছাত্র তারা জানবেন, যান্ত্রিক ত্রুটি হতেই পারে। এভাবে অনেক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বন্ধ হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত সেনসিটিভ একটা বিষয়। সম্পূর্ণটাই কম্পিউটারাইজড। এটা অরবিটে পৌঁছতে সময় লাগে। এটো লিঙ্ক করতে হয়। এই লিঙ্কটা হতে দুই থেকে তিন মাসের মতো সময় লাগে।
স্যাক্রিফাইস করা শিখতে হবে: এদিকে সম্মেলনে সমঝোতার মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণ করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীকাল (শনিবার) সাবজেস্ট কমিটি বসবে। সেখানে ইতোমধ্যে কারা কারা নেতৃত্বে আসবে দরখাস্ত করেছে। আমি চাই সমঝোতার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের নেতৃত্ব নিয়ে আসো। তোমরা নিজেরা বসে তোমরা সমঝোতার মাধ্যমে করো, সেটাই আমরা চাই।’ ছাত্রলীগকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, ‘স্যাক্রিফাইস করাটা শিখতে হবে। স্যাক্রিফাইস না করলে কিন্তু কিছু অর্জন করা যায় না। অর্জন তখনই করতে পারবে যখন কিছু দিতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘তোমরা এমন নেতৃত্ব খুঁজবে যারা সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে তোমাদের এই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পারে, যাতে আগামীদিনে তোমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারো জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে।’
বয়স ২৮ বছর নির্ধারণ: নতুন নেতৃত্বের বয়স প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের বয়স আমরা ২৭ বছর করে দিয়েছিলাম। দুই বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ ৯ মাস বেশি হয়ে গেছে। আমি চাই না এই ৯ মাস বেশি হয়েছে বলে কেউ বঞ্চিত হোক। কাজেই এটাকে আমরা ১ বছর গ্রেস দিতে পারি। কাজেই ২৮ বছরের মধ্যে আছে যারা তারাই হবে। কারণ, এখন কোনও সেশন জট নেই। ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যেই কিন্তু মাস্টার্স ডিগ্রি পাস হয়ে যায়। দরকার হলে ডাবল মাস্টার্স করা যায়। এরপরও বয়স থাকে।’ প্রসঙ্গত, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ বয়স ২৭ বছর হলেও সময়মতো কাউন্সিল না হওয়ায় গত দুইটি কমিটিতে দুই বছর করে বাড়িয়ে ২৯ বছর করা হয়েছিল। এবার দুই বছরের পরিবর্তে ১ বছর বাড়িয়ে ২৮ বছর করা হলো।
রাজনীতিতে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা থাকতে হবে: ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে দেশের ভবিষ্যৎ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রসমাজকে প্রস্তুত হতে হবে। আমার বয়স ৭১ বছর।  তোমরা আমার নাতী-নাতনীর বয়সী। তোমাদেরকেই দেশটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা যারা ছাত্র সমাজ, আগামী প্রজন্ম, ডিজিটাল বাংলাদেশের মাধ্যমে এই দেশকে আমরা যে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছি, তোমরাই তার কর্ণধার হবে। তোমরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে।’  সততার সঙ্গে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিতে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা থাকতে হবে। লেখাপড়ায় মনযোগী হতে হবে। ‘ছাত্রলীগের যে মূল মন্ত্র, শিক্ষা শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি; সেই শিক্ষার মশাল জ্বেলে, শান্তির বাণী নিয়ে প্রগতির পথে তোমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সেটাই আমরা চাই।’