ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সাবেক সাংসদ আউয়ালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় ডেস্ক:

স্ত্রীসহ সরকারদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। ইতিমধ্যে আউয়াল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।  

মঙ্গলবার বিকালে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার মুখার্জী ঢাকাটাইমসকে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ভুয়া মালিক সাজিয়ে সরকারি জমি দখল করে ভবন তৈরিসহ এরকম একাধিক অভিযোগে পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এই সাংসদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার অনুমোদন দেয় দুদক। একটি মামলায় আউয়ালের সঙ্গে তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকেও আসামি করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া আউয়াল ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারির বিষয়টিও কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির অনুমোদন দেয়া হয়।

মামলার অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যহারের মাধ্যমে সাবেক এমপি আউয়াল কাল্পনিক ও ভুয়া ছয় ব্যক্তিকে ভূমিহীন দেখিয়ে একটি বড় রকমের দুর্নীতি করেন। ওই ভুয়া ছয় ব্যক্তিকে ভূমিহীন দেখিয়ে তাদের নামে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় ১৩ শতাংশ সরকারি খাস জমি নিজের দখলে নেন। পরে সেখানে তিনি তিনতলা বাড়ি বানিয়ে পল্লী বিদ্যুৎকে ভাড়া দেন। জালিয়াতির এ ঘটনার অনুসন্ধানের পর স্থানীয় এসি ল্যান্ড দুদক কর্মকর্তাকে বলেছেন, তিনি ওই ছয় ব্যক্তির অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ছয় ব্যক্তির অস্তিত্ব না থাকলেও সাবেক এমপি আউয়ালের স্ত্রী লায়লা পরভীনের নামে বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সব ধরনের প্রমাণ পাওয়ার পর দুদক অনুসন্ধান শেষ করে মামলার সুপারিশ করেছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী দেখা যায়, সরকারি খাস জায়গা লিজ নিয়ে ওই জায়গায় স্ত্রী লায়লা পারভীনের নামে তিন তলা ভবন নির্মাণপূর্বক তা পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে দখলে রাখার অপরাধেই মামলার সুপারিশ করেছেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আলী আকবর। দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় একেএমএ আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয় দুদক।

প্রায় একই প্রক্রিয়ায় সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে স্বরূপকাঠি উপজেলায় ডাকবাংলোর কাছে তিন তলার একটি আধুনিক ডাক বাংলো নির্মাণ করেন আউয়াল। এমপির ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এ জালিয়াতির আশ্রয় নেন। এই অপরাধে একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপর মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

এছাড়া পিরোজপুর শহরের খুমুরিয়া মৌজার জেএল-৪৬, খতিয়ান নং-২৯৩, রাজার পুকুর নামে পরিচিত ৪৪ শতক সরকারি খাস জমি চতুর্দিকে দেয়াল নির্মাণ করে দখলে নিয়ে নেন আউয়াল। পরে সেখানে বসান পাহারাদারও। এই অপরাধে আউয়ালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তৃতীয় মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

পিরোজপুর-১ আসন থেকে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর দুবার আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আউয়াল। তিনি পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি। তার জায়গায় দলের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

সাবেক সাংসদ আউয়ালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় ০৪:০৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯

জাতীয় ডেস্ক:

স্ত্রীসহ সরকারদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। ইতিমধ্যে আউয়াল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।  

মঙ্গলবার বিকালে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার মুখার্জী ঢাকাটাইমসকে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ভুয়া মালিক সাজিয়ে সরকারি জমি দখল করে ভবন তৈরিসহ এরকম একাধিক অভিযোগে পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এই সাংসদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার অনুমোদন দেয় দুদক। একটি মামলায় আউয়ালের সঙ্গে তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকেও আসামি করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া আউয়াল ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারির বিষয়টিও কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির অনুমোদন দেয়া হয়।

মামলার অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যহারের মাধ্যমে সাবেক এমপি আউয়াল কাল্পনিক ও ভুয়া ছয় ব্যক্তিকে ভূমিহীন দেখিয়ে একটি বড় রকমের দুর্নীতি করেন। ওই ভুয়া ছয় ব্যক্তিকে ভূমিহীন দেখিয়ে তাদের নামে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় ১৩ শতাংশ সরকারি খাস জমি নিজের দখলে নেন। পরে সেখানে তিনি তিনতলা বাড়ি বানিয়ে পল্লী বিদ্যুৎকে ভাড়া দেন। জালিয়াতির এ ঘটনার অনুসন্ধানের পর স্থানীয় এসি ল্যান্ড দুদক কর্মকর্তাকে বলেছেন, তিনি ওই ছয় ব্যক্তির অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ছয় ব্যক্তির অস্তিত্ব না থাকলেও সাবেক এমপি আউয়ালের স্ত্রী লায়লা পরভীনের নামে বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সব ধরনের প্রমাণ পাওয়ার পর দুদক অনুসন্ধান শেষ করে মামলার সুপারিশ করেছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী দেখা যায়, সরকারি খাস জায়গা লিজ নিয়ে ওই জায়গায় স্ত্রী লায়লা পারভীনের নামে তিন তলা ভবন নির্মাণপূর্বক তা পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে দখলে রাখার অপরাধেই মামলার সুপারিশ করেছেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আলী আকবর। দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় একেএমএ আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয় দুদক।

প্রায় একই প্রক্রিয়ায় সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে স্বরূপকাঠি উপজেলায় ডাকবাংলোর কাছে তিন তলার একটি আধুনিক ডাক বাংলো নির্মাণ করেন আউয়াল। এমপির ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এ জালিয়াতির আশ্রয় নেন। এই অপরাধে একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপর মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

এছাড়া পিরোজপুর শহরের খুমুরিয়া মৌজার জেএল-৪৬, খতিয়ান নং-২৯৩, রাজার পুকুর নামে পরিচিত ৪৪ শতক সরকারি খাস জমি চতুর্দিকে দেয়াল নির্মাণ করে দখলে নিয়ে নেন আউয়াল। পরে সেখানে বসান পাহারাদারও। এই অপরাধে আউয়ালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তৃতীয় মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

পিরোজপুর-১ আসন থেকে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর দুবার আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আউয়াল। তিনি পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি। তার জায়গায় দলের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।