ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হোমনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা জোরপূর্বক দখল

মো. আবু রায়হান চৌধুরী, হোমনা ( কুমিল্লা):

কুমিল্লার হোমনায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গোয়ারীভাঙ্গা-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে ওই বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কিছু লোক।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রাজিয়া আক্তারের অভিযোগ সূত্রমতে জানা যায়, মাথাভাঙ্গা ইউনিয়ন মৌজাস্থ ২নং খতিয়ানের ৩৭৪/৩৭৫,৩৭৬/৬২৩ হাল দাগে দ্বাড়িগাও মৌজার গোয়ারীভাঙ্গা-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দখলকৃত জায়গাটি সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের সীমানা সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বসবাসকারী মৃত. সুরুজ মিয়ার পুত্র নজরুল ইসলাম (নজু) ও তার ভাই আলম মিয়া, মৃত. আসাদ মিয়ার পুত্র শাহিন মিয়া, মৃত. নবু মিয়ার পুত্র বাবুল মিয়া, মৃত. মামুদ আলীর পুত্র আতাউর রহমান,তোতা মিয়ার পুত্র আব্দুল মতিন, মৃত. কালু মিয়ার পুত্র ফয়সাল মিয়া একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তাদের ক্ষমতার দাপট ও প্রভাব খাঁটিয়ে বিদ্যালয়ের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

একাধিকবার সীমানার দেওয়ালা নির্মাণ কাজের জন্য তাদেরকে জায়গাটি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলার পরও জায়গার দখল ছাড়ছেন না। শুধু তাই নয় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের জায়গা অবৈধ দখলদারদের কবল হতে উদ্ধার করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ করা হয়।

প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিতভাবে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দখলকারি ব্যক্তিদেরকে জায়গাটি দখলমুক্ত করতে নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশ প্রদান করার পরও প্রভাবশালী মহলের ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ের জায়গার দখল ছাড়ছেন না দখলকারি ব্যক্তিরা। এর ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়টি। এতে বিঘœ ঘটছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় ও পাঠদানে।

এব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিয়া আক্তার জানান, জায়গাটি দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ বিদ্যালয়ের সীমানা সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বসবাসকারী ব্যক্তিগন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। একাধিকবার বলার পরও তারা দখল ছাড়ছেন না। এতে করে বিদ্যালয়ের কমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের খেলাধুলায় বিঘœ ঘটছে। দখলমুক্ত হলে ছাত্র ছাত্রীদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা হবে। শুধু তাই নয় নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণের দেওয়াল নির্মাণ (বাউন্ডারি) অতি জরুরি। জায়গাটি উদ্ধার করতে শিক্ষাবান্ধব স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের জোর দাবী জানাচ্ছি।

অভিযোগ বিষয়ে অভিযুক্তদের কাছে জানতে অভিযোগপত্রে উল্লিখিত মোবাইল নাম্বার গুলোতে একাধিকবার চেষ্টা করেও কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে সরেজমিনে পরিদর্ষনে গেলে স্থানীয় গ্রামবাসী ও আশেপাশের লোকজন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপ্তি চামকার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বিদ্যালয়টির জায়গা অন্যায়ভাবে জবর দখল করে রেখেছে ওই গ্রামেরই কিছু লোক। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে হাজির হওয়ার কথা বলি এবং তাদের কাগজপত্র দেখে প্রমানিত হয়েছে জায়গাটি বিদ্যালয়ের। দখলকৃত জায়গাটি সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। দখলকারি ব্যক্তিদের কে জায়গাটির দখল ছাড়তে সময় দেয় হয়েছে। তার মধ্যে জায়গাটির দখল মুক্ত না হলে দখল মুক্ত করতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

হোমনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা জোরপূর্বক দখল

আপডেট সময় ০৩:০৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

মো. আবু রায়হান চৌধুরী, হোমনা ( কুমিল্লা):

কুমিল্লার হোমনায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গোয়ারীভাঙ্গা-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে ওই বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কিছু লোক।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রাজিয়া আক্তারের অভিযোগ সূত্রমতে জানা যায়, মাথাভাঙ্গা ইউনিয়ন মৌজাস্থ ২নং খতিয়ানের ৩৭৪/৩৭৫,৩৭৬/৬২৩ হাল দাগে দ্বাড়িগাও মৌজার গোয়ারীভাঙ্গা-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দখলকৃত জায়গাটি সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের সীমানা সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বসবাসকারী মৃত. সুরুজ মিয়ার পুত্র নজরুল ইসলাম (নজু) ও তার ভাই আলম মিয়া, মৃত. আসাদ মিয়ার পুত্র শাহিন মিয়া, মৃত. নবু মিয়ার পুত্র বাবুল মিয়া, মৃত. মামুদ আলীর পুত্র আতাউর রহমান,তোতা মিয়ার পুত্র আব্দুল মতিন, মৃত. কালু মিয়ার পুত্র ফয়সাল মিয়া একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তাদের ক্ষমতার দাপট ও প্রভাব খাঁটিয়ে বিদ্যালয়ের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

একাধিকবার সীমানার দেওয়ালা নির্মাণ কাজের জন্য তাদেরকে জায়গাটি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলার পরও জায়গার দখল ছাড়ছেন না। শুধু তাই নয় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের জায়গা অবৈধ দখলদারদের কবল হতে উদ্ধার করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ করা হয়।

প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিতভাবে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দখলকারি ব্যক্তিদেরকে জায়গাটি দখলমুক্ত করতে নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশ প্রদান করার পরও প্রভাবশালী মহলের ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ের জায়গার দখল ছাড়ছেন না দখলকারি ব্যক্তিরা। এর ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়টি। এতে বিঘœ ঘটছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় ও পাঠদানে।

এব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিয়া আক্তার জানান, জায়গাটি দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ বিদ্যালয়ের সীমানা সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বসবাসকারী ব্যক্তিগন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। একাধিকবার বলার পরও তারা দখল ছাড়ছেন না। এতে করে বিদ্যালয়ের কমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের খেলাধুলায় বিঘœ ঘটছে। দখলমুক্ত হলে ছাত্র ছাত্রীদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা হবে। শুধু তাই নয় নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণের দেওয়াল নির্মাণ (বাউন্ডারি) অতি জরুরি। জায়গাটি উদ্ধার করতে শিক্ষাবান্ধব স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের জোর দাবী জানাচ্ছি।

অভিযোগ বিষয়ে অভিযুক্তদের কাছে জানতে অভিযোগপত্রে উল্লিখিত মোবাইল নাম্বার গুলোতে একাধিকবার চেষ্টা করেও কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে সরেজমিনে পরিদর্ষনে গেলে স্থানীয় গ্রামবাসী ও আশেপাশের লোকজন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপ্তি চামকার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বিদ্যালয়টির জায়গা অন্যায়ভাবে জবর দখল করে রেখেছে ওই গ্রামেরই কিছু লোক। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে হাজির হওয়ার কথা বলি এবং তাদের কাগজপত্র দেখে প্রমানিত হয়েছে জায়গাটি বিদ্যালয়ের। দখলকৃত জায়গাটি সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। দখলকারি ব্যক্তিদের কে জায়গাটির দখল ছাড়তে সময় দেয় হয়েছে। তার মধ্যে জায়গাটির দখল মুক্ত না হলে দখল মুক্ত করতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।