ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে উচ্ছেদ ১০টি অবৈধ ড্রেজার

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি :

স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার তিন ফসলি কৃষিজমি ও জলাশয়ে বছরের পর বছর ধরে চলছিল অবৈধ ড্রেজার তাণ্ডব। এতে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক জলাধার, অন্যদিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে কৃষিজমি, বসতভিটা ও সামগ্রিক পরিবেশ। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও জনচাপের মুখে অবশেষে মাঠে নামে উপজেলা প্রশাসন।

গত শনিবার ও রবিবার  মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের ইউছুফনগর, বাঙ্গরা বাজার থানান নবীয়াবাদ, চাপৈইর, এলখাল, কোরবানপুর, খোশঘর, এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমানের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্টের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে কোরবানপুর ও নবীয়াবাদ আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপিত ও পরিচালিত মোট ৮টি ও মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের ইছুফনগর গ্রামে ২টি ড্রেজার উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ হাজার ফুট ড্রেজার পাইপ জব্দ ও অপসারণ করা হয়, যার মাধ্যমে দিনের পর দিন খাল থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে তিন ফসলি কৃষিজমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। উত্তোলিত বালু আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি ও ভরাট কাজে ব্যবহার করা হতো। এর ফলে কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, খালের পাড় ভেঙে পড়ছে এবং পাশের ফসলি জমি ও বসতভিটা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, দিনের বেলায় এলাকা স্বাভাবিক থাকলেও রাত নামলেই ড্রেজারের বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে উঠত। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেন, অবৈধ ড্রেজারের কারণে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে খাল প্রায় শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ সংকট দেখা দেয়। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সরকারি অনুমোদন ছাড়া ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-এর সরাসরি লঙ্ঘন। জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, অবৈধ ড্রেজার ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া ড্রেজার বসিয়ে খাল, জলাশয় কিংবা কৃষিজমি থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি।

জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ ও পাইপ অপসারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী চক্র বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় দেশীয় অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার

মুরাদনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে উচ্ছেদ ১০টি অবৈধ ড্রেজার

আপডেট সময় ০৯:১০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি :

স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার তিন ফসলি কৃষিজমি ও জলাশয়ে বছরের পর বছর ধরে চলছিল অবৈধ ড্রেজার তাণ্ডব। এতে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক জলাধার, অন্যদিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে কৃষিজমি, বসতভিটা ও সামগ্রিক পরিবেশ। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও জনচাপের মুখে অবশেষে মাঠে নামে উপজেলা প্রশাসন।

গত শনিবার ও রবিবার  মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের ইউছুফনগর, বাঙ্গরা বাজার থানান নবীয়াবাদ, চাপৈইর, এলখাল, কোরবানপুর, খোশঘর, এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমানের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্টের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে কোরবানপুর ও নবীয়াবাদ আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপিত ও পরিচালিত মোট ৮টি ও মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের ইছুফনগর গ্রামে ২টি ড্রেজার উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ হাজার ফুট ড্রেজার পাইপ জব্দ ও অপসারণ করা হয়, যার মাধ্যমে দিনের পর দিন খাল থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে তিন ফসলি কৃষিজমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। উত্তোলিত বালু আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি ও ভরাট কাজে ব্যবহার করা হতো। এর ফলে কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, খালের পাড় ভেঙে পড়ছে এবং পাশের ফসলি জমি ও বসতভিটা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, দিনের বেলায় এলাকা স্বাভাবিক থাকলেও রাত নামলেই ড্রেজারের বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে উঠত। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেন, অবৈধ ড্রেজারের কারণে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে খাল প্রায় শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ সংকট দেখা দেয়। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সরকারি অনুমোদন ছাড়া ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-এর সরাসরি লঙ্ঘন। জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, অবৈধ ড্রেজার ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া ড্রেজার বসিয়ে খাল, জলাশয় কিংবা কৃষিজমি থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি।

জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ ও পাইপ অপসারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী চক্র বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।