ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ অক্টোবর ২০২৪, ১৫ আশ্বিন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লাকসামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ফের হত্যাকাণ্ড, আহত ৩

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার লাকসামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ডাবল মার্ডারের পর আবারো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের শিকার আবদুল মালেকের লাশ উদ্ধার করে আজ শনিবার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে লাকসাম থানা পুলিশ। ২০১৫ সালে জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিহত আবদুল মালেকের ভাতিজা আবদুর রহিমসহ দুইজন নিহত হয়েছিল। নিহত আবদুল মালেক (৫৮) উপজেলার শ্রীয়াং গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে।
নিহতের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সম্পত্তি সংক্রন্তি বিরোধের জের ধরে ওই গ্রামের মনির হোসেনের মনুর নেতৃত্বে ১০/১৫ জন দুর্বৃত্ত জয়েন্ট পাইপ, লাঠিসোটাসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আবদুল মালেকের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ঘরে নামাজ পড়া অবস্থায় আবদুল মালেককে দুর্বৃত্তরা বেধড়ক মারধর করে। হামলা
চলাকালে ঘরে থাকা নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম (৪৩), তার মেয়ে তাহমিনা আক্তার (১৯) ও নিহতের পুত্রবধূ এবং প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে (২১) শ্লীলতাহানির চেষ্টাসহ বেদম মারধর ও ঘরে থাকা টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট ও মালামাল তছনছ করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে লাকসামে ও পরে কুমিল্লায় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন শুক্রবার গুরুতর আহত আবদুল মালেক মারা যান। খবর পেয়ে লাকসাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফ উদ্দিন গতকাল শুক্রবার রাতে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং আজ শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম জানান, ‘আমার চাচা আবদুল মালেক বিরোধপূর্ণ জমির বাইরে অন্যত্রে বসবাস করছিলেন। এর পরও প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্বের ঘটনার জের ধরে তাকে হত্যার উদ্দেশে অতর্কিত হামলা চালায়।’
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে লাকসাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফ উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠালেও কেউ কোনো তথ্য দেয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত

লাকসামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ফের হত্যাকাণ্ড, আহত ৩

আপডেট সময় ০২:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৮
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার লাকসামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ডাবল মার্ডারের পর আবারো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের শিকার আবদুল মালেকের লাশ উদ্ধার করে আজ শনিবার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে লাকসাম থানা পুলিশ। ২০১৫ সালে জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিহত আবদুল মালেকের ভাতিজা আবদুর রহিমসহ দুইজন নিহত হয়েছিল। নিহত আবদুল মালেক (৫৮) উপজেলার শ্রীয়াং গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে।
নিহতের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সম্পত্তি সংক্রন্তি বিরোধের জের ধরে ওই গ্রামের মনির হোসেনের মনুর নেতৃত্বে ১০/১৫ জন দুর্বৃত্ত জয়েন্ট পাইপ, লাঠিসোটাসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আবদুল মালেকের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ঘরে নামাজ পড়া অবস্থায় আবদুল মালেককে দুর্বৃত্তরা বেধড়ক মারধর করে। হামলা
চলাকালে ঘরে থাকা নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম (৪৩), তার মেয়ে তাহমিনা আক্তার (১৯) ও নিহতের পুত্রবধূ এবং প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে (২১) শ্লীলতাহানির চেষ্টাসহ বেদম মারধর ও ঘরে থাকা টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট ও মালামাল তছনছ করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে লাকসামে ও পরে কুমিল্লায় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন শুক্রবার গুরুতর আহত আবদুল মালেক মারা যান। খবর পেয়ে লাকসাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফ উদ্দিন গতকাল শুক্রবার রাতে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং আজ শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম জানান, ‘আমার চাচা আবদুল মালেক বিরোধপূর্ণ জমির বাইরে অন্যত্রে বসবাস করছিলেন। এর পরও প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্বের ঘটনার জের ধরে তাকে হত্যার উদ্দেশে অতর্কিত হামলা চালায়।’
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে লাকসাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফ উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠালেও কেউ কোনো তথ্য দেয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।