রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় পরিবেশ অধিদফতরের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে অবৈধ চুন কারখানা। এসব কারখানা থেকে প্রতিনিয়ত নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ও কালো ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। দীর্ঘদিন ধরে এই দূষণের শিকার হয়ে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কুলুবাড়ী এলাকায় আবাসিক বসতবাড়ির মাঝেই স্থাপন করা হয়েছে চুন পোড়ানোর এই কারখানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই দিনের পর দিন কারখানাটি চালু রাখা হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন চুন পোড়ানোর সময় ঘন কালো ধোঁয়া আশপাশের ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, চোখ জ্বালা, মাথাব্যথা, বমিভাব ও ত্বকের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রাতে ধোঁয়া আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। জানালা-দরজা বন্ধ রেখেও দুর্গন্ধে টেকা যায় না। শিশুদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় সব সময়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের তুলনায় রাতের বেলায় কারখানার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়। এতে নজরদারি এড়িয়ে নির্বিঘ্নে চুন পোড়ানো সম্ভব হয় বলে ধারণা এলাকাবাসীর। ফলে রাতে ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিয়মিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছে, যা তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের সংচাইল গ্রামের বাসিন্দা মোমেন মিয়া কোম্পানীগঞ্জ বাজারের আরএফএল ব্যবসায়ী মামুন মিয়ার কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া জায়গায় এই চুন কারখানা স্থাপন করেছেন। তবে কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতরের কোনো অনুমোদন বা ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব বলেন, আবাসিক এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি নেই। মুরাদনগরের চুন কারখানার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে সরেজমিন তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে এসব অবৈধ চুন কারখানা আবাসিক এলাকা থেকে অপসারণ করে নির্ধারিত শিল্প এলাকায় স্থানান্তর করতে হবে। তা না হলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং অবৈধ শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ 



















