ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে জেলা পরিষদের কোটি টাকার জমি দখলমুক্ত

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্রের দখলে থাকা জেলা পরিষদের মূল্যবান জমি অবশেষে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ব্যস্ততম কোম্পানীগঞ্জ বাজারের মুরাদনগর-কোম্পানিগঞ্জ সড়কের মন্দির সংলগ্ন স্থানে পরিচালিত এক অভিযানে একটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজার সংলগ্ন এ সরকারি জমিটি বছরের পর বছর দখলে রেখে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও দখলদাররা তা আমলে নেয়নি।

অভিযান চলাকালে বাঁশ, তেরপাল দিয়ে নির্মিত অস্থায়ী দোকানঘর, চৌকি ও বিভিন্ন কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। পুরো এলাকা থেকে অবৈধ দখল সরিয়ে জমি পুনরুদ্ধার করা হয়। অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুর রহমান বলেন, সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও দখলদাররা সাড়া না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদের এই জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছিল। সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের মাধ্যমে জায়গা ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম প্রকাশ করা হয়নি।

অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের কারণে বাজার এলাকায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল এবং জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। উচ্ছেদের ফলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে তারা আশা করছেন।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া জমিগুলো জনস্বার্থে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনা, উন্মুক্ত স্থান কিংবা জনসেবামূলক স্থাপনা নির্মাণের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।

এই অভিযান কেবল একটি উচ্ছেদ কার্যক্রম নয়; এটি স্থানীয় প্রশাসনের জমি দখলবিরোধী অবস্থানের একটি বার্তা। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে সরকারি জমি দখল করে বাণিজ্যিক ব্যবহার চলেছে, এবং কারা এর পেছনে ছিল? এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায় নির্ধারণই এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনায় সরকারি হাসপাতালে ক্যানোলা বসাতে না পারায় প্রাইভেটে অতিরিক্ত বিল আদায় 

মুরাদনগরে জেলা পরিষদের কোটি টাকার জমি দখলমুক্ত

আপডেট সময় ০৫:৩২:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্রের দখলে থাকা জেলা পরিষদের মূল্যবান জমি অবশেষে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ব্যস্ততম কোম্পানীগঞ্জ বাজারের মুরাদনগর-কোম্পানিগঞ্জ সড়কের মন্দির সংলগ্ন স্থানে পরিচালিত এক অভিযানে একটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজার সংলগ্ন এ সরকারি জমিটি বছরের পর বছর দখলে রেখে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও দখলদাররা তা আমলে নেয়নি।

অভিযান চলাকালে বাঁশ, তেরপাল দিয়ে নির্মিত অস্থায়ী দোকানঘর, চৌকি ও বিভিন্ন কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। পুরো এলাকা থেকে অবৈধ দখল সরিয়ে জমি পুনরুদ্ধার করা হয়। অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুর রহমান বলেন, সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও দখলদাররা সাড়া না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদের এই জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছিল। সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের মাধ্যমে জায়গা ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম প্রকাশ করা হয়নি।

অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের কারণে বাজার এলাকায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল এবং জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। উচ্ছেদের ফলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে তারা আশা করছেন।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া জমিগুলো জনস্বার্থে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনা, উন্মুক্ত স্থান কিংবা জনসেবামূলক স্থাপনা নির্মাণের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।

এই অভিযান কেবল একটি উচ্ছেদ কার্যক্রম নয়; এটি স্থানীয় প্রশাসনের জমি দখলবিরোধী অবস্থানের একটি বার্তা। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে সরকারি জমি দখল করে বাণিজ্যিক ব্যবহার চলেছে, এবং কারা এর পেছনে ছিল? এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায় নির্ধারণই এখন সময়ের দাবি।