ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে ব্যবসায়ীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে মানববন্ধন

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় এক কসমেটিকস ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিতভাবে মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে ওই ব্যবসায়ীকে ফাঁসানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর অনুসন্ধানে ধীরে ধীরে সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের পৈয়াপাথর গ্রামের বাসিন্দা ও কসমেটিকস ব্যবসায়ী মো. অলি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করতেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় দুই বছর আগে আদর্শ ও সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে “পৈয়াপাথর সমাজকল্যাণ পরিষদ” নামে একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে ওঠে। সংগঠনটির সদস্য হিসেবে অলি এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। এর জেরে স্থানীয় কিছু কথিত মাদক কারবারির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় এলাকার কথিত মাদক কারবারি আনোয়ার ও তার স্ত্রী লিমা ক্ষুব্ধ হয়ে সোর্স সোহাগের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে অলির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৬৯ পিস ইয়াবা রেখে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়। পরে ঘটনাটিকে মাদক উদ্ধারের নাটকীয় রূপ দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় অলি প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করার পর জামিনে মুক্তি পেলেও মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। তবে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। তাদের অনুসন্ধান ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে ঘটনার নেপথ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মিলছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার পর পৈয়াপাথর গ্রামে অনুষ্ঠিত এক সামাজিক বৈঠকে শতাধিক এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে কথিত সোর্স সোহাগ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একই বৈঠকে অভিযুক্ত কথিত মাদক কারবারি আনোয়ারও ঘটনাটির বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন। এ সময় ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন বলেও উপস্থিত স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিকেলে পৈয়াপাথর গ্রামে শতাধিক এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তারা অবিলম্বে কসমেটিকস ব্যবসায়ী মো. অলিকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে যদি কাউকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়, তাহলে সমাজে মাদকবিরোধী আন্দোলন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে এবং সাধারণ মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাবে।

তারা আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে হয়রানির ঘটনা নয়, বরং মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগকে দুর্বল করার একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।

মুরাদনগরে ব্যবসায়ীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৩:১২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় এক কসমেটিকস ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিতভাবে মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে ওই ব্যবসায়ীকে ফাঁসানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর অনুসন্ধানে ধীরে ধীরে সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের পৈয়াপাথর গ্রামের বাসিন্দা ও কসমেটিকস ব্যবসায়ী মো. অলি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করতেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় দুই বছর আগে আদর্শ ও সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে “পৈয়াপাথর সমাজকল্যাণ পরিষদ” নামে একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে ওঠে। সংগঠনটির সদস্য হিসেবে অলি এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। এর জেরে স্থানীয় কিছু কথিত মাদক কারবারির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় এলাকার কথিত মাদক কারবারি আনোয়ার ও তার স্ত্রী লিমা ক্ষুব্ধ হয়ে সোর্স সোহাগের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে অলির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৬৯ পিস ইয়াবা রেখে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়। পরে ঘটনাটিকে মাদক উদ্ধারের নাটকীয় রূপ দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় অলি প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করার পর জামিনে মুক্তি পেলেও মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। তবে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। তাদের অনুসন্ধান ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে ঘটনার নেপথ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মিলছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার পর পৈয়াপাথর গ্রামে অনুষ্ঠিত এক সামাজিক বৈঠকে শতাধিক এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে কথিত সোর্স সোহাগ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একই বৈঠকে অভিযুক্ত কথিত মাদক কারবারি আনোয়ারও ঘটনাটির বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন। এ সময় ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন বলেও উপস্থিত স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিকেলে পৈয়াপাথর গ্রামে শতাধিক এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তারা অবিলম্বে কসমেটিকস ব্যবসায়ী মো. অলিকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে যদি কাউকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়, তাহলে সমাজে মাদকবিরোধী আন্দোলন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে এবং সাধারণ মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাবে।

তারা আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে হয়রানির ঘটনা নয়, বরং মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগকে দুর্বল করার একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।