ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মুরাদনগর থানায় হারানো মোবাইল উদ্ধারেই ব্যতিক্রমী সাফল্য‌‌

মুরাদনগরে দু’বছরে ৫০৬টি মোবাইল উদ্ধার করে আলোচনায় এএসআই শামীম

সুমন সরকার, বিশেষ প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মানুষ এখন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মানবিক ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে এএসআই মো. শামীম আহমেদের নাম বেশ প্রশংসায় উচ্চারণ করছেন। থানায় যোগদানের দু’বছরের মধ্যেই হারানো মোট ৫০৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এ পুলিশ সদস্য।

প্রতিদিন বহু ভুক্তভোগী হারানো মোবাইল ফোনের সন্ধানে সাধারণ ডায়েরির কাগজ নিয়ে তার কাছে ছুটে আসছেন। মোবাইল উদ্ধারের পর হাতে পেয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন তাকে।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর মুরাদনগর থানায় যোগদান করেন এএসআই শামীম আহমেদ। যোগদানের পর থেকেই তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় একের পর এক হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকদের হাতে বুঝিয়ে দিতে থাকেন। শুধু মোবাইল ফোন নয়, তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোবাইল, পাসপোর্ট, ব্যাংক চেক, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে করণীয়সহ নানা আইনি পরামর্শও নিয়মিত পোস্ট করেন তিনি।

ধামঘর এলাকার মোবাইল হারানো ভুক্তভোগী সায়েদুল ইসলাম সরকার বলেন, দুই মাস আগে আমার মোবাইলটি হারিয়ে যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখি মুরাদনগর থানার পুলিশ শামীম স্যার হারানো মোবাইল মালিককে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে বলেন। প্রায় আড়াই মাস পর তিনি আমাকে আমার হারানো মোবাইলটি উদ্ধার করে বুঝিয়ে দেন ।

কাজিয়াতল গ্রামের ফাতেমা আক্তার বলেন, হারানো মোবাইল উদ্ধার করা যায় এ কথা আমার বিশ্বাস হয়নি। আমার মোবাইল হারানোর কয়েকমাস পর এক নিকট আত্মীয়র পরামর্শে মুরাদনগর থানায় ডায়েরি করি। প্রায় সাড়ে চার মাস পর শামীম স্যার ফোন দিয়ে জানান মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। পরে থানায় গিয়ে মোবাইলটি সংগ্রহ করি। এটা আমার কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।

এ বিষয়ে এএসআই মো. শামীম আহমেদ বলেন, অনেকের অসাবধানতাবশত মোবাইল ফোন হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়। আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এসব ডিভাইস দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করি। এতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা থাকে। প্রথম দিন একজন মালিকের হাতে হারানো মোবাইল ফিরিয়ে দিতে গিয়ে মালিকের মধ্যে যে আনন্দ দেখেছি সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশে যোগদানের লক্ষ্যই ছিল মানুষের সেবা করা। যতদিন দায়িত্বে আছি মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা সহ তাদের কল্যাণে কাজ করে যাব।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগর থানায় হারানো মোবাইল উদ্ধারেই ব্যতিক্রমী সাফল্য‌‌

মুরাদনগরে দু’বছরে ৫০৬টি মোবাইল উদ্ধার করে আলোচনায় এএসআই শামীম

আপডেট সময় ০৬:১৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

সুমন সরকার, বিশেষ প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মানুষ এখন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মানবিক ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে এএসআই মো. শামীম আহমেদের নাম বেশ প্রশংসায় উচ্চারণ করছেন। থানায় যোগদানের দু’বছরের মধ্যেই হারানো মোট ৫০৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এ পুলিশ সদস্য।

প্রতিদিন বহু ভুক্তভোগী হারানো মোবাইল ফোনের সন্ধানে সাধারণ ডায়েরির কাগজ নিয়ে তার কাছে ছুটে আসছেন। মোবাইল উদ্ধারের পর হাতে পেয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন তাকে।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর মুরাদনগর থানায় যোগদান করেন এএসআই শামীম আহমেদ। যোগদানের পর থেকেই তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় একের পর এক হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকদের হাতে বুঝিয়ে দিতে থাকেন। শুধু মোবাইল ফোন নয়, তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোবাইল, পাসপোর্ট, ব্যাংক চেক, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে করণীয়সহ নানা আইনি পরামর্শও নিয়মিত পোস্ট করেন তিনি।

ধামঘর এলাকার মোবাইল হারানো ভুক্তভোগী সায়েদুল ইসলাম সরকার বলেন, দুই মাস আগে আমার মোবাইলটি হারিয়ে যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখি মুরাদনগর থানার পুলিশ শামীম স্যার হারানো মোবাইল মালিককে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে বলেন। প্রায় আড়াই মাস পর তিনি আমাকে আমার হারানো মোবাইলটি উদ্ধার করে বুঝিয়ে দেন ।

কাজিয়াতল গ্রামের ফাতেমা আক্তার বলেন, হারানো মোবাইল উদ্ধার করা যায় এ কথা আমার বিশ্বাস হয়নি। আমার মোবাইল হারানোর কয়েকমাস পর এক নিকট আত্মীয়র পরামর্শে মুরাদনগর থানায় ডায়েরি করি। প্রায় সাড়ে চার মাস পর শামীম স্যার ফোন দিয়ে জানান মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। পরে থানায় গিয়ে মোবাইলটি সংগ্রহ করি। এটা আমার কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।

এ বিষয়ে এএসআই মো. শামীম আহমেদ বলেন, অনেকের অসাবধানতাবশত মোবাইল ফোন হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়। আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এসব ডিভাইস দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করি। এতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা থাকে। প্রথম দিন একজন মালিকের হাতে হারানো মোবাইল ফিরিয়ে দিতে গিয়ে মালিকের মধ্যে যে আনন্দ দেখেছি সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশে যোগদানের লক্ষ্যই ছিল মানুষের সেবা করা। যতদিন দায়িত্বে আছি মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা সহ তাদের কল্যাণে কাজ করে যাব।