রায়হান চৌধুরী, বিষেশ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রহিমপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পথ, পুকুরঘাট এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তত ২০টি পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কানু মিয়ার বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা কয়েক দশক ধরে ওই পথ ব্যবহার করে আসছিলেন। সম্প্রতি প্রতিবেশী শাহজাহান মিয়া বাড়ির সামনের অংশে টিনের বেড়া নির্মাণ করে পথটি বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পুকুরঘাটে যাতায়াতের পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, শুধু চলাচল নয়, বাড়ির পানি নিষ্কাশনের পাইপের মুখেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিশু, নারী ও প্রবীণরা। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। ফলে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য কানু মিয়া বলেন, “প্রায় একশ বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে প্রায় ২০টি পরিবার এই পথ ব্যবহার করে আসছে। হঠাৎ করে টিনের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু চলাচল নয়, পুকুরঘাট ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।”
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাদের সন্তানদের নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের অসুস্থ ও বয়স্ক সদস্যদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে শাহজাহান মিয়া বলেন, “আমাকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে আমি পথ খুলে দেব।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা কোনো শর্তের কারণে মানুষের চলাচল, পানি ব্যবহার ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথ পুনরুদ্ধার করা হবে এবং অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা হবে।
রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি 

















